kalerkantho


প্রতিবেদন

মারমেইডের গল্প শুনুন

নিরিবিলি ও স্নিগ্ধ পরিবেশে অবকাশ যাপনের চমৎকার সব আয়োজন রয়েছে মারমেইড ইকো রিসোর্টে। যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানের জরিপে মনোনয়ন পাওয়া একমাত্র বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান মারমেইড ইকো রিসোর্ট। কক্সবাজার থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরের এই রিসোর্টের গল্প শোনালেন মারজান ইমু

১৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



মারমেইডের গল্প শুনুন

শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের জন্য নয়, টাটকা খাবার পরিবেশনের ক্ষেত্রেও অনন্য মারমেইড। নিজেদের বাগানের সবজি ও সতেজ ফল পরিবেশন করা হয় খাবার টেবিলে।

কলার মোচার লালচে খোলায় ফিশ ফ্রাই। শুকনো নারিকেলের ছোবড়া-মালাসহ অর্ধেক অংশকে বাটির মতো বানিয়ে তাতে কলাপাতা মুড়ে পরিবেশন করা হয়েছে চিকেন ফ্রাই। খাবারের মেন্যুতে এ রকম ৯৯টি আইটেম।

 

অন্য প্রকৃতি

খাবার টেবিলের ওপর যে বাতিটি জ্বলছে, সেটিও অভিনব। কলাগাছের ভেতরের সাদাটে বাকল গোল করে মুড়িয়ে তার ভেতর বসানো হয়েছে মোমবাতি। এত সব আয়োজনের উদ্দেশ্য কৃত্রিম ও অস্বাস্থ্যকর সব কিছু পরিহার করা। এটিই কক্সবাজারের অভিজাত মারমেইড ইকো রিসোর্টের স্বকীয়তা। গাছগাছালিতে ঢাকা বাগানের ভেতর দিয়ে হাঁটছেন, সেখানেও মুগ্ধতা। রঙিন কাচের বোতলের নিচের অংশ ভেঙে তার ভেতর দেওয়া হয়েছে বৈদ্যুতিক বাল্ব।

আর মুখের ভেতর দিয়ে যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে বৈদ্যুতিক লাইন। এভাবে বিভিন্ন রঙের বোতল সাজিয়ে বানানো হয়েছে ঝাড়বাতি। কাচের ভাঙা বোতল উল্টো করে মাটিতে পুঁতে দেওয়া, ঠিক যেভাবে অর্ধেক ইট মাটিতে পুঁতে সাজিয়ে তোলা হয় ফুলের বাগান কিংবা ছোট্ট ফুলগাছের গোড়া নিরাপদ রাখতে যেভাবে ইট মাটিতে গেঁথে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়, সেভাবে কাজটি করা হয়েছে কাচের পুরনো শিশি উল্টো করে মাটিতে গেঁথে।

ছেঁড়া টাওয়েল দিয়ে টব তৈরি হতে পারে, এখানে না এলে তো জানাই হতো না। —বললেন বেড়াতে আসা পর্যটক এহসানুল করিম। সবাই যখন পুরনো টাওয়েল ফেলে দেয়, মারমেইড তখন সেই টাওয়েল দিয়ে টব কিংবা ময়লা ফেলার বিন বানিয়ে ব্যবহার করছে। নারিকেলগাছের গুঁড়ির ওপর ভাঙা কড়াই বসিয়ে তা দিয়ে বানিয়ে ফেলেছে বেসিন। অর্থাৎ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নষ্ট ও পরিত্যক্ত জিনিসপত্র রিসাইকেল করে ব্যবহার-উপযোগী করা হয়েছে। পুরনো বালতি ব্যবহার করা হয়েছে রাস্তা আলোকিত করার জন্য। বালতিটি প্রথমে ছিদ্র করা হয়েছে। তারপর সেটি ঝোলানো হয়েছে উল্টো করে। তার ভেতর দেওয়া হয়েছে বৈদ্যুতিক বাল্ব।

কাঠ-বাঁশের নান্দনিক খাবারের ঘরের পরেই বালির বিচ। বিচে বসানো কাঠের মঞ্চ, সারি ধরে কাবানা (শোয়া বা বসার জন্য চারদিক খোলা গদিওয়ালা বিশেষ চৌকি)। মধুচন্দ্রিমায় আসা যুগলদের সবচেয়ে প্রিয় জায়গা এটি। আধো আলোয় প্রিয়জনকে পাশে নিয়ে সমুদ্রের গর্জন শোনা। আর ক্যান্ডেল লাইট ডিনারের সঙ্গে বিচ মিউজিক। জোয়ারের পানি যখন একেবারেই কাছে চলে আসে, তখন সেখানে বসানো হয় টেবিল। যুগলরা মোমের আলোয় সে পানিতে পা ভিজিয়ে সারেন ডিনার। প্রিয়জনকে যারা চমকে দিতে চান, তাদের জন্য উপযুক্ত স্থান মারমেইড ইকো রিসোর্ট। —এমনটিই জানাচ্ছিলেন জেনারেল ম্যানেজার মাহফুজুর রহমান। চাইলে সাবরাঙে বসেও সারতে পারেন ডিনার। পানির মধ্যে আলোর সাজে সাবরাঙ (দুই মাথা বাঁকানো নৌকাবিশেষ) হয়ে ওঠে মোহনীয়। বাচ্চাদের জন্য খেলনাও আছে। সুইমিং পুল ভিলাও রাতে হয়ে ওঠে অপরূপ। রয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা।

 

চির তারুণ্য

কেউ হয়তো এক বছর আগে ঘুরে গেছেন মারমেইডে। ফের এলে বদলে যাওয়া মারমেইড দেখে বাড়বে কেবল মুগ্ধতার পারদ। আতিথেয়তায় প্রতিবারই নতুন নতুন সংযোজন দেখে নেদারল্যান্ডসের এক পর্যটক মুগ্ধতার কথা জানিয়েছেন ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘ট্রিপ অ্যাডভাইজর’-এর ভিউতে।   ওই পর্যটক মোট ২০ বার ঘুরে গেছেন মারমেইড। যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানের জরিপে মনোনয়ন পাওয়া একমাত্র বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান মারমেইড ইকো রিসোর্ট। ‘ট্রিপ অ্যাডভাইজর’ দিয়েছে এক্সসেলেন্স সনদ। ‘লোনলি প্লানেট’-এও সেরাদের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে মারমেইড। ুপ্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার আনিসুল হক চৌধুরী জানালেন, ‘কর্মীদের একাগ্রতা ও ভালোবাসার ফসল এই স্বীকৃতি। প্রতিষ্ঠানের সবাই উপভোগ করছি এই প্রাপ্তি। একজন গেস্টও কোনো বিষয়ে সুপারিশ দিলে আমরা সেটিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করি। ’


মন্তব্য