kalerkantho


ডায়েট

শিশু কী খাবে?

বয়স্কদের তুলনায় বাচ্চাদের ফ্যাটের বেশি প্রয়োজন। ওবেসিটির সমস্যা না থাকলে বাচ্চাদের লো ফ্যাট ডায়েট দেওয়া ঠিক না। বাচ্চাদের কী ধরনের ডায়েট হওয়া উচিত—জানালেন আইসিডিআরবির পুষ্টিবিদ ফারহানা নিশি

৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



শিশু কী খাবে?

শিশুদের মধ্যে ওবেসিটি বা কোলেস্টেরলের সমস্যা বাড়ছেই। ভয়ে অনেক মা-বাবা শিশুকে লো ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার খেতে দেন।

এতে বাচ্চার শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। একাধিক অসুখের আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। শিশুদের প্রয়োজন যথাযথ ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার। এতে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ঠিক থাকে।

শিশুর জন্মের প্রথম দুই বছর এবং বয়ঃসন্ধির সময়টাতে সবচেয়ে বেশি ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবারের প্রয়োজন হয়। বাড়ন্ত শিশুর শরীরে প্রতি মিনিটে দুই লাখের মতো কোষ জন্মায়। তাই সঠিক বিকাশের জন্য ফ্যাট ও কোলেস্টেরলের মাত্রা যথাযথ হওয়া প্রয়োজন। যদি শরীরে গুড ফ্যাট না ঢোকে, তাহলে অনেক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গই ঠিকঠাক কাজ করে না। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের তুলনায় একটি শিশুর গড়ে প্রতি কেজিতে ৫০০ ক্যালরি বেশি প্রয়োজন।

জন্মের পর শিশুর লিভার কোলেস্টেরল উৎপাদন করে। কোষের সঠিক বৃদ্ধির জন্য এই কোলেস্টেরল আবশ্যক। এ সময়টা র্যাপিড গ্রোথের সময়। ফ্যাট কোলেস্টেরল ও ক্যালরি দুটোরই প্রয়োজন মেটায়। লো ফ্যাট ডায়েটের ফলে স্নায়ু, হৃপিণ্ড, ফুসফুস ও থাইরয়েডের সমস্যা হতে পারে।

শিশুরা চিনি দেওয়া খাবার খেতে ভালোবাসে। সরাসরি চিনিযুক্ত খাবার না দিয়ে শিশুদের এমন খাবার দিতে হবে, যাতে চিনির পরিমাণ কম অথচ ফ্যাট আছে পর্যাপ্ত। চিনির বিকল্প হিসেবে ঘি, মাখন, অলিভ অয়েল ইত্যাদি খাবারে ব্যবহার করে খাবার তৈরি করা যেতে পারে। অনেক শিশুই সকালের নাশতা খেতে চায় না বা কম খায়। সে ক্ষেত্রে দুপুরে পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে। শিশুর শরীরে প্রচুর পরিমাণ গ্লুকোজ জমা থাকে না। তাই ঘুম থেকে ওঠার পর শিশুকে চিনি ছাড়া ফলের জুস দিতে পারেন। এতে শরীরে গ্লুকোজের ভারসাম্য থাকবে এবং খিদে পাবে। সকালের নাশতাও খেতে চাইবে।

 

শিশুর খাবারে যা থাকবে

শিশুর ডায়েটে অন্তত ১৫ শতাংশ প্রোটিন, ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ হাই ফাইবার ও কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট, ৩০ শতাংশ ফ্যাট থাকতে হবে। শিশুর ডায়েটে দুধ, মাখন, সবজি থাকবে। এ ছাড়া প্রতিদিন একটা করে ডিম খাওয়াতে পারলে ভালো। সপ্তাহে তিন-চার দিন মুরগির মাংস আর দু-তিন দিন মাছ খাওয়াবেন। যেসব বাচ্চা মাছ-মাংস খেতে চায় না তাদের পনির, মাখন, দই ও ডাল খাওয়ানোর অভ্যাস করতে হবে। এসব শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি মেটাবে। কয়েক রকমের বাদাম রাখতে পারেন খাবারের তালিকায়। এগুলো ভালো ফ্যাটের উৎস। এর সঙ্গে শিশুদের ব্যায়াম ও খেলাধুলা করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

 

খেয়াল রাখুন

► হোয়াইট ব্রেড, কোমল পানীয়, তেলে ভাজা স্ন্যাকস থেকে শিশুকে যতটা সম্ভব দূরে রাখুন।

► চিনি কম খেতে হবে।

► দিনে অন্তত ৯ গ্লাস পানীয় পান করতে দিন। এ ক্ষেত্রে পাঁচ গ্লাস পানি আর বাকিটা দুধ, ফলের রস ও স্যুপ হতে পারে।


মন্তব্য