kalerkantho


ব্যায়াম

অ্যাজমা থাকলেও ব্যায়াম করুন

অ্যাজমা রোগীদের ব্যায়াম করা উচিত নয়—এ ধারণা ঠিক না। তবে অ্যাজমা রোগীরা কোন ধরনের ব্যায়াম করবে সেটা জানা জরুরি। বিস্তারিত জানালেন অ্যাডোনাইজ ফিটনেস সেন্টারের জহিরুল ইসলাম

৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



অ্যাজমা থাকলেও ব্যায়াম করুন

অ্যাজমা রোগীরা নিয়মিত ব্যায়াম করলে অনেক উপকার পাবেন। অ্যারোবিক করার সময় প্রথমে একটু শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

ভয় পেয়ে বন্ধ না করে আস্তে আস্তে অভ্যাস করতে হবে। এর ফলে শারীরিক শ্রম সহ্য করার ক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে। অ্যাজমায় ভোগার আশঙ্কাও কমে যাবে। ব্যায়াম করার ফলে শরীর সুস্থ থাকবে, স্ট্রেস কমে যাবে, ঘুম ভালো হবে এবং এনার্জি লেভেলও বাড়বে। তবে ব্যায়াম করার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ফিটনেস বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মেনে ব্যায়ামের রুটিন করে নিতে হবে।

 

কোন ধরনের ব্যায়াম

অ্যারোবিকস

হালকা জগিং করে ওয়ার্মআপ করার পর অ্যারোবিকস শুরু করুন। তবে যাঁরা প্রথমবার অ্যারোবিকস করছেন, তাঁরা ওয়ার্মআপের জন্য প্রথম এক সপ্তাহ হাঁটা বা জগিংয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখুন। হাঁটার জন্য টেডমিল ব্যবহার করতে পারেন। তাহলে হাঁটতে বাইরে যেতে হবে না।

সাইক্লিংও করা যায়। তারপর অভ্যস্ত হয়ে গেলে আস্তে আস্তে অন্য ব্যায়াম করুন। জিমে গিয়ে স্টেশনারি সাইকেলও চালাতে পারেন।

 

সাঁতার

সাঁতার ব্রিদিং প্রসেস ভালো রাখতে সাহায্য করে। এ ছাড়া জয়েন্টের ওপর বেশি চাপ না দিয়েও জয়েন্ট স্টিফনেস কাটিয়ে দিতে সাহায্য করে।

 

প্রাণায়াম

অ্যাজমায় আক্রান্ত হওয়ার অনেক কারণের একটি হলো স্ট্রেস বা অ্যাংজাইটি, যা প্রাণায়ামের মাধ্যমে দূর করা যায়। কপালভাতি, ভ্রামরি ও ভ্রাস্তিকা আসন শ্বাসকষ্ট অনেকটা কমিয়ে দেয়। তবে যোগাসন বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে শুরুতে শিখে তারপর অভ্যাস করা ভালো।

 

মেডিটেশন

মেডিটেশনের মাধ্যমে মানসিক শৃঙ্খলা ধরে রাখা যায়। এ ছাড়া মেডিটেশনের মাধ্যমে অবচেতন মনে প্রবেশ করে মানসিক ও শারীরিক কষ্ট দূর করা সম্ভব হয়। ফলে শরীর ও মন দুই-ই ঝরঝরে লাগে। তাই অ্যাজমা রোগীরা মেডিটেশন করতে পারেন।

 

জেনে রাখুন

► ব্যায়াম শুরু করার আগে ওয়ার্মআপ করে নিন। অন্যদের তুলনায় একটু বেশি সময় ওয়ার্মআপ করতে হয় অ্যাজমা রোগীদের।

► প্রথমে ধীর মাত্রার অ্যারোবিকস করুন। কিছুদিন পর অভ্যস্ত হয়ে গেলে মাত্রা বাড়াতে হবে।

► একটানা ব্যায়াম করবেন না। যদি বেশি ক্লান্ত হয়ে পড়েন, তবে সঙ্গে সঙ্গে বিশ্রাম নিন।

► বাইরে ব্যায়াম করতে গিয়ে ধুলোবালি থেকে অ্যাজমায় আক্রান্ত হতে পারেন। তাই বাড়িতে ব্যায়াম করা ভালো।

► খুব বেশি গরম বা ঠাণ্ডায় ব্যায়াম করবেন না। অতিরিক্ত গরমে তাড়াতাড়ি ক্লান্ত হয়ে পড়বেন। এ ছাড়া অতিরিক্ত গরম বা ঠাণ্ডায় হঠাৎ রক্ত সঞ্চালন বেড়ে বা কমে শ্বাসকষ্টের সমস্যা হতে পারে।


মন্তব্য