kalerkantho


যোগমুদ্রা

যোগমুদ্রা যেকোনো সময় করা যায়। শুধু হাতের সাহায্যে এটা করা হয়। এর ফলে শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি পাওয়া যায়। কিভাবে করবেন—বিস্তারিত জানালেন ইয়োগা হেলথ পয়েন্টের ইয়োগা থেরাপি কনসালট্যান্ট মেরীনা আহমেদ

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



যোগমুদ্রা

আমাদের শরীরের স্নায়ুপ্রান্ত হাতেই থাকে। আঙুলগুলো একটি বিশেষ পদ্ধতিতে জোড়া করলে স্নায়ুতে শক্তি সঞ্চারিত হয়। হাত প্রকৃতিজগতের পাঁচটি উপাদানের পরিচায়ক। বৃদ্ধাঙুল হলো আগুনের প্রতীক, তর্জনী হলো বায়ু, মধ্যমা আকাশ, অনামিকা পৃথিবী আর কনিষ্ঠা হলো পানির প্রতীক। প্রতিটি যোগাসনের যেমন আলাদা গুরুত্ব ও সুফল আছে, তেমনি প্রতিটি যোগমুদ্রাও আলাদাভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মুদ্রা যোগাসনে সুফল পাওয়ার প্রধান উপায় হলো সঠিক মনোসংযোগ আর নিঃশ্বাসের ওপর নিয়ন্ত্রণ।

 

আত্মঞ্জলি

এই মুদ্রার সাহায্যে নিজেদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। রুটচক্র (ফুসফুসের ভেতর) থেকে নিঃশ্বাস নিয়ে ক্রাউনের (শরীরের ওপরের দিকে) দিকে শ্বাস সঞ্চালন করা হয়। এরপর ধীরে ধীরে নিঃশ্বাস ছাড়া হয়, যাতে শরীরের ভেতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে অক্সিজেন সঞ্চালন হয় দ্রুত। যেহেতু নিঃশ্বাস জোরে জোরে নিতে ও ছাড়তে হয়, তাই মস্তিষ্কও সজাগ থাকে। ফলে অন্য কোনো রকম চিন্তা-ভাবনা মাথায় আসে না।

মাংসপেশি রিল্যাক্স হয়। স্নায়ু, মস্তিষ্ক ও মনের ওপরও নিয়ন্ত্রণ আসে। শুরুতে ১১ বার এই মুদ্রা করতে হবে। এতে শরীর-মনে প্রশান্তি আসবে।

 

উশ্বাস

দুই হাত মাথার ওপর তুলুন। দুই হাতের আঙুল এমনভাবে জোড়া করুন, যাতে ডান হাতের বুড়ো আঙুল বাঁ হাতের বুড়ো আঙুলের সঙ্গে পাশাপাশি থাকবে। এবার ডান আঙুলটি দিয়ে বাঁ হাতের তালুতে সামান্য চাপ দিন। মেয়েদের ক্ষেত্রে ডান হাতের বুড়ো আঙুলটি বাঁ হাতের বুড়ো আঙুল ও তর্জনীর মাঝখানে রাখতে হবে। এরপর মনোসংযোগ করুন। প্রতিদিন দুই মিনিট করে এই মুদ্রা অভ্যাস করুন। দুই হাত মাথার ওপর তুলে তিনবার নিঃশ্বাস নিন। তারপর ধীরে ধীরে হাত নামিয়ে আনুন। এটি আলস্য ও হরমন ইমব্যালেন্স কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে। এ ছাড়া মানসিকভাবে সচেতন হতেও উশ্বাস মুদ্রা কাজ করে। এই মুদ্রা মন ভালো রাখে।

 

লোটাস

বুকের কাছাকাছি দুই হাতের চেটো জোড়া করে রাখুন। আঙুলগুলো ছড়িয়ে দিন। কনিষ্ঠা ও বৃদ্ধাঙুলের ডগা একে অপরকে স্পর্শ করবে। পদ্ম ফুলের  আকার হবে দেখতে। এ অবস্থায় সোজা হয়ে বসুন। গভীরভাবে নিঃশ্বাস নিন ও ধীরে ধীরে ছাড়ুন। আট থেকে ১০ বার অভ্যাস করুন। এটি আসলে হার্ট মুদ্রা। একাকিত্ব বোধ করলে এই মুদ্রা সাহস জোগায়। ধৈর্য বাড়াতে সাহায্য করে।

 

শঙ্খ

ডান হাতের মুঠিতে বাঁ হাতের বৃদ্ধাঙুল ধরুন। বাঁ হাতের তর্জনী ডান বৃদ্ধাঙুলকে স্পর্শ করবে। বাঁ হাতের বাকি আঙুলগুলো দিয়ে ডান মুঠিতে হালকা চাপ দিন। একই জিনিস অপর হাতে আবার করুন। যাঁদের হজমের সমস্যা আছে, গলার সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের জন্য এটি উপযুক্ত। দিনে তিন থেকে চারবার এটি করতে পারেন।

 

খেয়াল রাখুন

১.মুদ্রা যোগাসনের সুফল লুকিয়ে আছে মনোসংযোগের ওপরই। যে যত মনোযোগ সহকারে যোগমুদ্রা অভ্যাস করবে, সুস্থ থাকাও তার পক্ষে ততটাই সহজ।

২.মুদ্রাগুলো শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখে। শুরুতে শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে অভ্যাস করা ভালো।

৩.খাওয়ার অন্তত দুই ঘণ্টা পর মুদ্রা অভ্যাস করা উচিত।

৪.ত্রিশোর্ধ্ব নারীদের জন্য মুদ্রাগুলো সবচেয়ে উপযোগী। জীবনের বিভিন্ন পরিবর্তনে যেমন—বিয়ে, সন্তান, সংসার ও কেরিয়ারের চাপে অনেকেই মানসিক শান্তি হারিয়ে ফেলেন। শারীরিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে। ওপরের মুদ্রাগুলো তাঁদের জন্য অবশ্যই উপকার বয়ে আনবে।


মন্তব্য