kalerkantho


রূপচর্চা

রুক্ষতাকে এড়িয়ে চলি

ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে ত্বক ও চুলের রুক্ষতা এড়াতে যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। কী উপায়ে জানালেন হারমনি স্পা অ্যান্ড ক্লিওপেট্রা বিউটি স্যালনের রাহিমা সুলতানা

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



রুক্ষতাকে এড়িয়ে চলি

পরিচর্যা

ত্বক

আবহাওয়ার শুষ্কতায় ত্বক খসখসে হয়। তাই ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে পানি পান করতে হবে। পাশাপাশি ত্বকের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। মুখ ধোয়ার সময় হালকা গরম পানি ব্যবহার করুন। আর মুখ ধুতে ময়েশ্চারাইজিং ক্লিনজার বেছে নিন। মুখ ধোয়ার ১০ মিনিটের মধ্যেই ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লোশন ব্যবহার করুন। এই সময় ক্রিম বেসড লোশন ব্যবহার করলে ভালো। এতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে। এ ছাড়া বিভিন্ন এসেনশিয়াল অয়েলও ব্যবহার করতে পারেন।

এ সময়টায় অনেকে সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন না। অথচ এ সময়ও সূর্যের তাপ প্রখর থাকে।

ফলে সানবার্ন হয়। তাই সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। সাধারণত কনুই, হাঁটু, হাত, পা ইত্যাদি অংশ শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় তাড়াতাড়ি শুষ্ক হয়ে পড়ে। তাই এসব অংশে ভালো করে ময়েশ্চারাইজার লোশন লাগাতে হবে। ত্বকের মরা চামড়া দূর করতে স্ক্রাব ব্যবহার করাও জরুরি। ব্রাউন সুগার ও অলিভ অয়েল একসঙ্গে মিশিয়ে এর মধ্যে কয়েক ফোঁটা মধু মিশিয়ে স্ক্রাব বানিয়ে নিন। এটা শরীর, মুখ ও ঠোঁটে স্ক্রাব হিসেবে ব্যবহার করুন।

সপ্তাহে এক-দুই দিন ফেস প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। দই, মধু, কলা, অ্যাভোকাডো, জোজোবা অয়েল, অলিভ অয়েল, আমন্ড অয়েল শুষ্ক ত্বকের জন্য ভালো। দই বা মধুর সঙ্গে কলা বা অ্যাভোকাডো ও যেকোনো একটি অয়েল মিশিয়ে ফেস প্যাক বানিয়ে নিন। এটা মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পরে হালকা গরম পানিতে ধুয়ে নিন।

 

চুল

ঋতু পরিবর্তনের সময় ত্বকের মতো চুলেরও চাই বাড়তি যত্ন। এ সময়টা ধুলাবালির প্রকোপ থাকে বেশি। এতে মাথায় খুশকির উপদ্রব দেখা দেয়। এ ছাড়া যাঁদের চুল এমনিতেই শুষ্ক, তাঁদের চুল আরো শুষ্ক হয়। স্বাভাবিক চুল হলেও এ সময়টায় বাড়তি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। না হলে চুল শুষ্ক হতে পারে।

গোটা সপ্তাহের জন্য একটা রুটিন বানিয়ে নিন। ঘন ঘন শ্যাম্পু করবেন না। প্রতিদিন বাইরে বের হতে হলে সপ্তাহে তিন দিন শ্যাম্পু করলেই যথেষ্ট। চেষ্টা করুন হালকা গরম পানিতে চুল ধোয়ার। ময়েশ্চারাইজারযুক্ত শ্যাম্পু ও সঙ্গে ক্রিমসমৃদ্ধ কন্ডিশনার বেছে নিন। এটা চুল নরম ও মসৃণ করবে। শ্যাম্পু করার সময় কয়েক ফোঁটা তেলও মিশিয়ে নিতে পারেন। হেয়ার সিরামও এই সময় চুলের জন্য প্রয়োজন। এতে চুল ঝকঝকে হবে এবং রুক্ষতা কমবে। ভেজা চুলে কয়েক ফোঁটা সেরাম বা এসেনশিয়াল অয়েলও লাগিয়ে নিতে পারেন।   রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে চুলে ও স্ক্যাল্পে হালকা হাতে অলিভ অয়েল ম্যাসাজ করুন। সপ্তাহে এক দিন হট অয়েল ম্যাসাজ করতে পারেন।

১৫ দিন অন্তর ডিপ কন্ডিশনিং মাস্ক বা ময়েশ্চারাইজিং হেয়ার প্যাক ব্যবহার করুন। বাড়িতে সহজে বানাতে পারেন—এমন হেয়ার প্যাক হলো একটা পাকা কলা চটকে তাতে ১ চা চামচ নারিকেল তেল, ১ চা চামচ অলিভ অয়েল ও ১ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে চুলে লাগান। ৫-১০ মিনিট রেখে চুল ধুয়ে নিন। শ্যাম্পু করবেন না। প্রথমবার ধোয়ার পর বড় দাঁতের চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে নিন। এরপর আরেকবার ভালো করে ধুয়ে নিন। যেহেতু এই হেয়ারপ্যাকে তেল রয়েছে, তাই বাড়িতে থাকবেন—এ রকম দিন বেছে মাস্কটি ব্যবহার করুন। ব্যবহারের এক দিন পর শ্যাম্পু করুন।

খুশকির সমস্যা থেকে বাঁচতে ২ থেকে ৩ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে ১ টেবিল চামচ নারিকেল তেল বা অলিভ অয়েল ও কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে চুলে ও স্ক্যাল্পে লাগাতে পারেন। ৩০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে নিন। খুশকি থাকবে না।


মন্তব্য