kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আপনার শিশু

শিশুর গোসলভীতি

১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



শিশুর গোসলভীতি

তানজির আহম্মদ তুষার, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ও সহকারী অধ্যাপক, মনোবিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

কোনো কোনো শিশু গোসলে ভয় পায়। গোসল করাতে গেলে চিত্কার করে কাঁদে।

গোসল করানো মা-বাবার জন্য কষ্টকর হয়। গোসলে ভীতির কারণ ও প্রতিকার জানা থাকলে এই ভীতি দূর করা কঠিন নয়। জেনে নেওয়া যাক ভীতির কারণ ও প্রতিকার।

কারণ

♦    শিশু বাস্তব পৃথিবী সম্পর্কে সচেতন হয় এবং এখানকার বিপদগুলো সম্পর্কেও জানতে পারে। যদি কখনো তার কাছে মনে হয়, পানি তার জন্য বিপজ্জনক, তবে সে গোসলে ভয় পেতে পারে। টিভিতে পানির মধ্যে কোনো বিপদের দৃশ্য দেখেও তার এমনটা মনে হতে পারে। আবার একটি শিশুর হয়তো মনে হতে পারে ‘পানি ড্রেনে চলে যায়, পানির মধ্যে থাকলে আমিও ড্রেনে চলে যাব’। শিশুর বাস্তব জ্ঞান সীমিত থাকায় কোনটি ভয়ের আর কোনটি ভয়ের নয়, আলাদা করতে পারে না।

♦    কখনো গোসলে শ্বাস বন্ধের মতো অবস্থার সৃষ্টি হলে শিশু ভয় পেয়ে যায়। তখন গোসলই করতে চায় না।

♦    চোখে-মুখে সাবান, শ্যাম্পু বা বডি ওয়াশ ঢুকে গেলে শিশু ভয় পেয়ে যায়।

♦    নাকে-মুখে বা কানে পানি ঢুকে গেলেও শিশু গোসলে ভয় পায়।

♦    পানির তাপমাত্রা স্বস্তিদায়ক না হলে শিশু পানির মধ্যে নামতে চায় না। পানি যদি একটু বেশি গরম কিংবা ঠাণ্ডা থাকে, তাহলে শিশু গোসল করতে চায় না। একবার পানির অভিজ্ঞতা খারাপ হলে অন্যবার পানি উপযুক্ত তাপমাত্রার হলেও সে গোসলে ভয় পায়।

♦    গোসলের সময়ে কখনো পড়ে গিয়ে বা ব্যথা পেলে শিশু গোসলে ভয় পেতে পারে। মনে করে সে আবার ব্যথা পাবে।

 

প্রতিকার

 

অসুবিধা বোঝার চেষ্টা

শিশু কোনো না কোনো কারণে ভয় পায়। তাই শিশুর ভয়ের কারণগুলো কী কী হতে পারে বোঝার চেষ্টা করুন। বুঝতে পারলে তার প্রতিকার করুন এবং শিশুকে আশ্বস্ত করুন।

 

নতুন বাথটাব ও ভাসমান খেলনা দিন

শিশুদের জন্য সুন্দর বাথটাব পাওয়া যায়। একটি কিনে নিয়ে আসুন। শিশু যদি পছন্দ প্রকাশ করার মতো বড় হয়, তবে তাকে সঙ্গে নিয়ে কিনুন। বাথটাবে ভাসানো যায় এমন ছোট কিছু খেলনা নিয়ে আসুন। সেগুলো শিশুর গোসলের সময়ে ভাসিয়ে দিন। এতে সে মজা পাবে এবং ভয়ও দূরে থাকবে।

 

আপনার চোখে-মুখে আনন্দ আনুন

শিশুকে গোসল করানোর সময় মুখভঙ্গির মধ্যে আনন্দ নিয়ে আসুন। গোসল করা মজার বিষয় এমন ভঙ্গি প্রকাশ করুন। একসঙ্গে নিজেও গোসল করুন বা পানি নাড়ুন, পানি ছিটান ও মজা করুন। শিশুর ভয় কমে গিয়ে মজা করার আগ্রহ পাবে। যখন দেখবেন শিশুও এই আনন্দ নিতে চাচ্ছে, তখন তাকে ধীরে ধীরে পানির কাছে নিন।

 

পানির তাপমাত্রা

পানির তাপমাত্রা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শিশুই পানির তাপমাত্রা পছন্দ না হওয়ায় গোসল করতে চায় না। তাই পানির তাপমাত্রা শিশুর জন্য স্বস্তিদায়ক অবস্থায় রাখুন। সাধারণত শিশুরা কুসুম গরম পানিতে গোসল করতে পছন্দ করে।

 

ধাপে ধাপে অগ্রসর হোন

শিশু ভয় পেয়ে থাকলে শিশুকে হঠাৎ করে গোসলের মধ্যে নেবেন না। তাকে ধাপে ধাপে এগিয়ে নিন। তাকে প্রথমে হাত দিয়ে পানি নাড়তে দিন। হাত দিয়ে পানিতে আনন্দ করতে দিন। এরপর সারা শরীর পানির সংস্পর্শে নিয়ে আসুন।

 

দম বন্ধের অভিজ্ঞতা সীমিত রাখুন

শিশুর মাথায় পানি ঢাললে শিশুর দম বন্ধের অভিজ্ঞতা হয় বা দম বন্ধ হয়ে যাবে বলে ভয় পায়। তাই শিশুর মাথায় প্রথমে পানি ঢালবেন না। শেষের দিকে মাথায় পানি ঢালবেন। সেটিও একবারে আধা সেকেন্ডের বেশি নয়। চার বছর বা এর বড় শিশুর ক্ষেত্রে শিখিয়ে দিতে পারেন কিভাবে দম বন্ধ রেখে মাথায় পানি ঢালতে হয়।

 

শ্যাম্পু, সাবান বা বডি ওয়াশের ব্যবহার

গোসলে শিশুদের উপযোগী সাবান, শ্যাম্পু বা বডি ওয়াশ ব্যবহার করুন। শিশুর মুখে সাবান দিতে হলে চোখ বাদ দিয়ে আঙুল দিয়ে মুখের বিভিন্ন অংশে সাবান ম্যাসাজ করে দিন। শেষে চোখ বন্ধ করে সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে মুখে সাবান দিতে পারেন। মনে রাখতে হবে, অনেক শিশু এ সময় চোখ বন্ধ রাখতেও ভয় পায়। তাই দ্রুত করুন।

 

শেষ করার আগে সংকেত দিন

গোসল শেষ করে দ্রুত তুলে নিলে অনেক শিশু বিরক্ত হয় এবং কান্না করে। তাই শিশুকে তুলে নেওয়ার কিছুক্ষণ আগে সংকেত দিন। বলতে হবে ‘একটু পরই আমরা গোসল শেষ করব’—এজাতীয় কথায় যাতে সে গোসল শেষের আগে কিছু মজা করে নিতে সময় পায়।


মন্তব্য