kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ইন্টেরিয়র

ঘর সাজাতে আলপনা

লক্ষ্মীপূজার গৃহ সাজে গুরুত্ব পায় আলপনা। ঘর সাজাতে নানা রকম আলপনা নিয়ে লিখেছেন ইন্টেরিয়র হাউস অ্যাস্থেটিকের কর্ণধার ও ইন্টেরিয়র ডিজাইনার সাবিহা আক্তার কুমু

১০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ঘর সাজাতে আলপনা

আলপনা কয়েকভাবেই হতে পারে। যেমন : চালের গুঁড়া দিয়ে সাদা রঙের আলপনা, বিভিন্ন রং দিয়ে রঙিন আলপনা, শুধু ফুল দিয়ে ফুলের আলপনা।

এমনকি শোলা কেটেও দেয়ালে আলপনা করার চল আছে। আগে চালের গুঁড়াই ছিল আলপনার মূল উপকরণ। চালের গুঁড়া পানি দিয়ে গুলিয়ে সেই গোলার মধ্যে নরম কাপড় পুঁটলি করে চুবিয়ে মেঝে ও দেয়ালে আলপনা আঁকা হতো। মোটিফ হিসেবে থাকত সূর্য, ধানগাছ, পেঁচা, মই, লাঙল, মাছ, পান, পদ্ম, শঙ্খলতা, সিঁদুরের কৌটা ইত্যাদি। এ ছাড়া থাকত ফুল ও লতা-পাতা। পরবর্তীকালে আলপনার উপকরণ হিসেবে নানা রঙের আবিরের প্রচলন শুরু হয়। বর্তমানে তরল অথবা নানা রঙিন অক্সাইড গুলিয়েও আলপনা আঁকা হয়। এ ছাড়া কাঁচা ফুল দিয়েও আলপনা করার প্রচলন দেখা যায়।

পূজার এই দিনগুলোতে বৈঠকখানা বা বসার ঘরের মেঝেসহ বাড়ির অন্যান্য ঘরে, পূজার ঘরের মেঝে ও মূল প্রবেশ পথটিও রাঙিয়ে নেওয়া যায় আলপনার রঙে ও নকশায়। মেঝের কার্পেট তুলে ফেলে মেঝের ঠিক মাঝখানে বড় গোলাকৃতির একটি আলপনা করে নেওয়া যায়। আর এই আলপনার মাঝেমধ্যে বেশকিছু প্রদীপ বা মোম জ্বালিয়ে দিলে উৎসবধর্মী আবহ তৈরি হবে। প্রবেশপথ বা হাঁটাচলার পথগুলোতে ফুল-পাতার মিশ্রণে লতানো আলপনা ভালো লাগবে। শুধু সাদা রঙের অথবা বর্ণিল দুই ধরনের আলপনাই হতে পারে।

ছোট ঘরে ঘরজুড়ে নয়; বরং যেকোনো একটা কোণ, প্রবেশপথ বা সিঁড়িতে ছোট করে নকশা করতে পারেন।

আবার চাইলে কেউ কাঁচা ফুল দিয়েও করতে পারেন। এই ফুলের আলপনার মাঝখানে গোলাকৃতির একটি মাটির বাসনে বা মাটির চাড়িতে পানি দিয়ে তার ভেতর কিছু প্রদীপ জ্বালিয়ে দিলে উৎসবের আমেজ পাওয়া যাবে। তাজা ফুলের আলপনা মেঝের ঠিক মাঝখানে করা যাবে না। যেখানে লোকজনের হাঁটাচলা কম, সে রকম একটি জায়গায় ফুলের আলপনা করতে হবে।

প্রদীপ যেহেতু পূজার আরেকটি অন্যতম অনুষঙ্গ, তাই আলপনার মাঝে অবশ্যই প্রদীপ জ্বালিয়ে দিতে হবে। ঘরের এক কোণে মাটির ঘড়ায় পানি দিয়ে ভাসিয়ে দিতে পারেন ফুল। শিউলি বা জবা ফুল সাজিয়ে রাখতে পারেন ছোট কাঁসার থালায়।

পাতাসহ ফুলগুলো রাখলে রঙের বৈচিত্র্য আসবে বেশ। এই থালা রাখতে পারেন টি-টেবিল বা খাবার টেবিলে। থালায় দিতে পারেন শঙ্খ, ঘণ্টাসহ নানা অনুষঙ্গ। জমকালো কিছু নয়, বাড়ির এদিক-সেদিক সাজিয়ে রাখতে পারেন মাটি বা ধাতুর তৈরি ঘণ্টা, ছোট মূর্তি ও মুখোশ, রোজকার ঘরের চেহারা বেশ বদলে যাবে তাতে। তবে সব কিছুতেই দেশি ঐতিহ্যের ছোঁয়া থাকা চাই। মূলত ঘরের মেঝেতেই আলপনা আঁকা হয়। কিন্তু কেউ চাইলে বসার ঘরের একটি দেয়ালজুড়েও সাদা রঙের আলপনা এঁকে নিতে পারেন। এতে পূজার গৃহ সাজে একটি বাড়তি মাত্রা যোগ হবে।


মন্তব্য