kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কানের দুলের বাহার

কানের সৌন্দর্য দুল। দুল আবার মানাতে হবে মুখের গড়নের সঙ্গে। শুধু কি তাই, ফ্যাশন ট্রেন্ডের সঙ্গেও মিল থাকা চাই। বাজারের নানা রকম কানের দুল নিয়ে লিখেছেন লিনা শারমিন

১০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



কানের দুলের বাহার

কানের দুলের উপকরণ আর নকশা বৈচিত্র্যের যেন শেষ নেই। বাজারে নানা ধরনের দুল পাওয়া যায়।

কাঠ ও বাঁশ : কাঠের টুকরা দিয়ে তৈরি নানা রকম দুল রয়েছে। এসব দুলের নকশায় দেখা যায় মুখোশ, পাতা, বিশেষ চিহ্ন। পরা যায় যেকোনো পোশাকের সঙ্গে। তবে টিনদের এ ধরনের দুল বেশি পরতে দেখা যায়। নিউ মার্কেটের বৈশাখী স্টেশনারিজের বিক্রেতা নাজমুল হাসান বলেন, ‘নকশা ও আকারের ওপর কাঠের দুলের দাম নির্ভর করে। কাঠের ছোট একজোড়া দুলের দাম ৩০ টাকা, বড়র দাম ২২০ টাকার মধ্যে। ’

মিক্স সিলভার ও গোল্ড প্লেটেড : টপ, রিং, পাশা, ঝুমকা, চেইন, হাটশের্প নকশার মিক্স সিলভার ও গোল্ড প্লেটেড দুলের চাহিদা বেশি। এ ধরনের কানের দুল সব ধরনের পোশাক ও পরিবেশে পরা যায়। ছোট একজোড়া মিক্স সিলভারের টপ পাবেন ৮০ টাকার মধ্যে। আর গোল্ড প্লেটেড টপ পাবেন ২০০ থেকে ৭০০ টাকায়। রুপার দোকানেও এ ধরনের দুল ভালো পাওয়া যায়।

পুঁতি, কড়ি, গ্লাস, মুক্তা : রোজকার পরার মতো হলো পুঁতি, কড়ি, গ্লাস ও মুক্তার ছোট দুল । গয়নার দোকান মাদুলির ম্যানেজার মিজান রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েরা এ ধরনের দুল বেশি কেনেন। অনেক ধরনের রঙের পাওয়া যায়। পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে পরা যায়। দামও হাতের নাগালে। ’ পুঁতি, কড়ি, গ্লাসের এসব দুল প্রসাধনীর দোকান থেকে শুরু করে নিউ মার্কেটের ফুটপাতে পাবেন। দাম ২০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে। মুক্তার দুল পাবেন সোনা বা রুপার দোকানে। আর্টিফিশিয়াল মুক্তার দুলের দাম ৬০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা। রিয়েল ছোট মুক্তার দুলের দাম এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা। বড় মুক্তার দুলের দাম তিন হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা।

ঝুমকা : ঝুমকা আছে নানা ধরনের। কোনোটার নিচ একটু ছড়ানো, কোনোটার একাধিক স্তর, আবার কোনোটা চেইনযুক্ত হয়ে কানের লতিতে আটকানো। নকশা আর উপকরণের ওপর দাম নির্ভর করে। ছোট মিনা করা ঝুমকা পাবেন ১২০ থেকে শুরু করে এক হাজার ৬০০ টাকার মধ্যে।

পাশা : পাশার নকশা মানেই গোলাকার থাকলেও আজকাল স্কয়ার দুলকেও পাশা বলে। লম্বা আদলের মুখে পাশা ভালো মানায়। পাশা পাবেন সোনা থেকে শুরু করে নানা ধাতুর। গোল্ড প্লেট পাশার দাম ২০০ থেকে তিন হাজার টাকার মধ্যে।

এনিম্যাল স্টাড ইয়াররিং : আজকাল কানের দুলে পেঁচা, শিয়াল, বিড়াল, খরগোশ, প্রজাপতির নকশা দেখা যায়। এদের এনিম্যাল স্টাড ইয়াররিং বলে। অনলাইন শপগুলোতে এ ধরনের গয়না বেশি পাওয়া যায়। দাম ১৫০ টাকা থেকে শুরু করে দুই হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।

বানগালো বোকুয়েট স্টাড ইয়াররিং : বিভিন্ন ফুলের আদলে বানানো দুল, যাকে বানগালো বোকুয়েট স্টাড ইয়াররিং বলে। কাপড়, সুতা, মেটাল অর্থাৎ যেকোনো কিছু দিয়েই এ ধরনের দুল বানানো যায়। নকশা আর উপকরণে তারতম্য হয় বলে দামও বিভিন্ন। দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলোতে এ ধরনের দুল পাওয়া যায়। কাপড় ও সুতার দুলগুলোর দাম ২৫০ থেকে ৮০০ টাকা।

টাইনি আরোস স্টাড ইয়াররিং : ত্রিভুজ বা তীরের আদলে বানানো এ ধরনের দুল। অনেকে রোজকার ব্যবহারের জন্য সোনা দিয়ে এ ধরনের দুল তৈরি করে নেন। আবার রুপার মধ্যেও কিনতে পাওয়া যায়।

এ ছাড়া  নানা ধরনের কাস্টোমাইজড দুল তৈরি করার সুযোগও আছে। মেটালের তার, ময়ূরের পাখা, সুতা, লোহার পাত ইত্যাদি দিয়ে অনেকেই তৈরি করছেন নিজের পছন্দের দুল। অনেকে আবার ইউটিউব থেকে শিখেও নিচ্ছেন দুল বানানোর কায়দা-কানুন। তারপর নিজেরা বানিয়ে পরছেন।


মন্তব্য