kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সাজগোজ

শরতে শারদীয়া

পূজার দিনগুলোতে নতুন পোশাকের সঙ্গে আপনার সাজ কেমন হবে—মারজান ইমুকে জানালেন রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন

৩ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



শরতে শারদীয়া

মডেল : ইমু সাজ : রেড পোশাক : রঙ বাংলাদেশ ছবি : কাকলী প্রধান

শারদ সাজে

মেকআপের বেইজ

শরতের আমেজ পুরোপুরি আসেনি এখনো। বাইরের রোদ-গরমে এখনো গ্রীষ্মের তেজ।

দিনের আলোতে হালকা সাজই চলবে। উৎসবের সময়টাকে লম্বা করতে তরুণীরা সকাল-সকালই বেরিয়ে পড়েন। তাই সাজটাও দীর্ঘস্থায়ী হওয়া চাই। রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন জানালেন, দিনের মেকআপ দীর্ঘস্থায়ী করার গোপন রহস্য। মুখ ভালোভাবে ধুয়ে এক টুকরা বরফ ঘষে নিন।

মুখ মুছে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে প্রাইমার লাগান। মুখে ও গলায় ভালোভাবে সানব্লক লাগিয়ে নিন। এরপর ভেজা পাফের সাহায্যে মুখে কমপ্যাক্ট পাউডার লাগান। ব্রাশে হালকা ব্রোঞ্জার নিয়ে কনটোর করে নিন। ব্লাশনে ব্যবহার করতে পারেন বাবলগাম গোলাপি, পিচ কিংবা ট্যারাকোটা রং। সতেজ লুক পাবেন। সব শেষে ফিক্সিং স্পে করুন পুরো মুখে। সারা দিন নিশ্চিন্তে পার হবে মনমতো মেকআপ নিয়ে।

রাতে দাওয়াত কিংবা মন্ডপে প্রতিমা দর্শনে অনেকে বের হবেন। তাদের সাজে রাতের ঝলমলে আলোর মেকআপে জমকালো বেইজ করতে হবে। ময়েশ্চারাইজার আর প্রাইমার দিয়ে শুরু করুন রাতের বেইজ। এরপর স্টিক ফাউন্ডেশন আর কন্সিলার ভালো করে ব্লেন্ড করে লাগান। হালকা হাতে ব্রাশ দিয়ে শিমার পাউডার বুলিয়ে নিন। রাতের বেলা গাঢ় কনট্যুর দারুণ দেখায়। আর ব্লাশ ব্যবহার করতে ভুলবেন না চিকবোনে। রাতের সাজের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো হাইলাইটার। ত্বকের সঙ্গে মানিয়ে বেছে নিন হাইলাইটার। চারদিকের আলোর সঙ্গে নিজের মুখেও খানিকটা ঝকমকে আভা ফুটে উঠবে হাইলাইটার আর শিমার পাউডারের সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবহারে।

চোখের সাজ

দিনের বেলা চোখের সাজে ওয়াটারপ্রুফ কাজল আর লাইনার ব্যবহার করুন। চোখের পাতায় কপার, ব্রোঞ্জ কিংবা যেকোনো বাদামি কালারের আইশ্যাডো আঙুলের সাহায্যে ঘষে নিন। চাইলে ব্রাশও ব্যবহার করতে পারেন। মোটা করে আইলাইনার লাগান। লাইনারের সঙ্গে কাজলের পরিবর্তে কালো বা ছাই রঙা শ্যাডো দিন চোখের কোলে। মাশকারার কয়েকটি প্রলেপে শেষ করুন চোখের সাজ।

রাতের জন্য বিশেষ মনোযোগ দিন চোখের সাজে। ক্রিস লাইন শ্যাডো দারুণ ট্রেন্ডি এখন। চোখের ক্রিস লাইনের প্যাটার্ন ঠিক রেখে রঙিন কাজল দিয়ে এঁকে নিন। ব্রাশের সাহায্যে চোখের হার্শ লাইন মিলিয়ে দিন। আর ক্রিস লাইনের নিচে পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে আইশ্যাডো লাগিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করুন। ব্রোবোনের নিচে হাইলাইটার লাগান। ট্রেন্ডি শ্যাডোর সাজে পূজার ঐতিহ্য আনতে লম্বা আইলাইনারের টান দিন চোখের বাইরের দিক পর্যন্ত। আর ঘন কাজল রেখা বোলান ওয়াটার লাইনে। এরপর মাশকারা লাগিয়ে নিন। চাইলে ফলস আইল্যাশ আর কসমেটিকস লেন্সও ব্যবহার করতে পারেন। রাতের সাজের সঙ্গে সি গ্রিন, গ্রে, পার্পল, বার্বি, হানি ইত্যাদি লেন্স দারুণ মানিয়ে যায়।

 

ঠোঁটের সাজ

পূজার সাজে লাল লিপস্টিকের ট্রেন্ড এ বছরও আছে। ফ্যাশনবিশ্বে চলছে ফল মেকআপ ট্রেন্ড। ঠোঁটে গাঢ় রঙের প্রচলন এ সময়ই সবচেয়ে বেশি। দিনের বেলা হালকা চোখের সাজের সঙ্গে গাঢ় বাদামি, মেরুন, হট পিংক ইত্যাদি রঙের লিপস্টিক উৎসবের আমেজ নিয়ে আসবে। লাল চাইলে ক্রিমসন রেড, চেরি, রুবি, রোজ রেড লাগাতে পারেন। আমাদের দেশের স্কিনটোনে লালের এই শেডগুলো দারুণ মানিয়ে যায়। দিনের বেলা ম্যাট লিপস্টিক ব্যবহার করুন। রাতের জমকালো সাজে রক্ত লাল, সিঁদুর লাল, খয়েরি, অ্যাপেল রেড, ওয়াইন, গাঢ় গোলাপি, মেরুন, ডার্ক কফি ইত্যাদি রং দারুণ লাগবে। রাতে চাইলে গ্লসি লিপস্টিক লাগাতে পারেন।

 

চুলের সাজ

দিনের বেলায় গরম-বৃষ্টির ঝুঁকি পোহাতে চুল বেঁধে নিন। রকমারি বেণি, খোঁপায় ট্রাডিশনাল আমেজ আসবে। আর সামনের চুলে পাফ বা টুইস্ট বেণি করে রাখলেও মন্দ লাগবে না। খোঁপায় একগোছা বেলি ফুল দিনভর স্নিগ্ধতা ছড়াবে। রাতের বেলা চুল কার্ল করে ছেড়ে কিংবা ব্রো-ডাই করে হেয়ার স্প্রে দিয়ে চুল সেট করতে পারেন। এ ছাড়া ট্রাডিশনাল খোঁপাও করা যায়। আর খোঁপা সাজাতে পারেন রুপার কাঁটা, চুলের ঝুমকা, ক্রাফটেড বা তাজা ফুল দিয়ে। আর হ্যাঁ, পারফিউম লাগাতে ভুলবেন না যেন। সারা দিনের এই চক্করে ডিওডোরেন্ট ব্যবহারই যথেষ্ট নয়। পিওর পারফিউমের দুই-তিন স্প্রে আপনাকে সারা দিন সতেজ আর স্নিগ্ধ রাখবে।

 

 

টিপস

► সস্তা ও ননব্র্যান্ড লেন্স কখনোই ব্যবহার করবেন না।

► দিনে বের হলে ব্যাগে ছাতা, ওরস্যালাইন, চিরুনি, ফেসপাউডার, পকেট পারফিউম, পাঞ্চ ক্লিপ নিতে ভুলবেন না।

► সারা দিনের ঘোরাঘুরিতে ত্বকের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। তাই প্রচুর পানি পান করুন।

► দিনের বেলা আরামদায়ক ফ্ল্যাট চটি জুতা পরুন।

► দিনে পার্টি ক্লচ না নিয়ে বড় ব্যাগ ব্যবহার করুন। এতে অনেক জিনিস ধরবে।

► রাতের জন্য জমকালো জুতা ও ব্যাগ বাছুন।

► পূজার আগে থেকেই নিয়মিত ত্বকচর্চা করুন।

 

পোশাকে পূজা

প্রথমেই মনে মনে সাজপোশাকের একটা ছক কষে নিন। একেক দিন একেক রকম সাজ আর পোশাক বেছে নিন। লুকে বৈচিত্র্য আসবে। শাড়ির আবেদন তো চিরায়ত। তাই বলে শাড়ি ছাড়া পূজা হবে না, তা কিন্তু নয়। দিনের বেলায় এখনো খানিকটা গরম। পোশাক যা-ই হোক, সুতিই ভালো। বিকেলে বা সন্ধ্যাটা তুলে রাখুন জমকালো সাজপোশাকের জন্য। সময়ের ট্রেন্ড তাই জানা থাকা দরকার। বলছিলেন ফ্যাশন ডিজাইনার সৌমিক সাহা। তিনি বলেন, ‘পূজার সাজপোশাকে বিশ্ব ফ্যাশনের একটা প্রভাব দেখা যায়। পোশাকের নকশায় ফিউশনের সঙ্গে মোটিফে পূজার নানা অনুষঙ্গের ব্যবহার থাকছে। বিভিন্ন সংস্কৃত শব্দ আর বাক্য, স্বস্তিকা, বেলপাতা, চক্রসহ দুর্গাপূজার আরো নানা অনুষঙ্গের থিম ব্যবহার করা হয়েছে। ’ সালোয়ার-কামিজ বা কুর্তা পরতে পারেন। সারা দিনের ঘোরাঘুরিতে আরাম দেবে পালাজ্জো আর কামিজ। পোশাক বাছাইয়ে খেয়াল রাখুন মানানসই আর স্বাচ্ছন্দ্যবোধ। কামিজের ছাঁটে স্ট্রেট লাইন এখন খুবই জনপ্রিয়। ঢিলেঢালা স্লিভলেস কুর্তিও দিনের বেলায় দারুণ স্বাচ্ছন্দ্য দেবে।

তাঁতের শাড়িতে এসেছে রকমারি বুনন নকশা। ব্লক, হ্যান্ডপেইন্ট, এমব্রয়ডারি, স্ক্রিন প্রিন্ট, স্টিচের নকশাদার তাঁতের সুতির শাড়ির আবেদন বরাবরই। ষষ্ঠীতে সুতির হালকা ছাপার সুতি শাড়ি বা একরঙা পাড় বা পাড় ছাড়া ভেজিটেবল ডাইয়ের শাড়ি পরতে পারেন। সপ্তমীতে বেছে নিন কাতান, অরগ্যান্ডি সিল্ক, তসর, অ্যান্ডি বা কোটার শাড়ি। জামদানি, মসলিন বা সিল্কের শাড়িও পরতে পারেন। আঁচলে ভারী কাজ আছে—এ রকম লাল পাড়ের শাড়ি এক প্যাঁচ করে পরতে পারেন। লাল-সাদা গারদ শাড়ি ঐতিহ্য ফুটিয়ে তুলবে দশমীর যথাযথ লুক।

পূজার শাড়িতে রং হিসেবে সাদা-লালের পাশাপাশি মেরুন, নীল, হলুদ, বাসন্তী, সবুজসহ সব জীবন্ত রঙের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হচ্ছে বলে জানালেন ডিজাইনার শৈবাল সাহা। ব্লাউজের কাটে ট্রাডিশনাল ছোঁয়াটা এই পূজায়ও থাকছে। সঙ্গে ফিউশন ব্লাউজ সমান জনপ্রিয়। বাড়তি জৌলুশ আনতে এমব্রয়ডারি, কারচুপি, পার্লওয়ার্ক, কুশিকাটার কাজ, অ্যাপ্লিক, স্টোনওয়ার্ক তো থাকছেই। চাইলে দুপুর বেলায় স্লিভলেস ব্লাউজ বাছাই করাই যায়।

দিনের বেলা হালকা গয়নাতে ট্রেন্ড আর স্বাচ্ছন্দ্য দুই-ই মিলবে। দেশীয় মোটিফের জাঙ্ক জুয়েলারি বেছে নিতে পারেন। রাতে ভারী গয়না পরতে বাধা নেই। দিনের জন্য বিডস, অ্যান্টিক, কাপড়, মাটি, মেটালের গয়না আর হাতে কাচের চুড়ি। রাতের অনুষঙ্গ হিসেবে পোশাকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেছে নিন স্টোন, পার্ল, ডায়মন্ড, সোনা বা রুপার গয়না। নাকে বড় নথ আর টিকলি পরতে পারেন ঐতিহ্যবাহী সাজের সঙ্গে। পূজা মানেই প্রতিমা দর্শনে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘোরা। তাই জুতা হওয়া চাই আরামের। উঁচু হিল এড়িয়ে চলুন। ফ্ল্যাট স্যান্ডেল, চটি, নাগরা পরতে পারেন। শাড়ির সঙ্গে হিল চাইলে আরামদায়ক ফ্ল্যাটহিল বা ওয়েজেস হিল ভালো হবে।

 

 

টিপস

► পোশাকের সঙ্গে মানানসই ব্যাগ নিন।

► সারা দিনের জন্য বের হলে ব্যাগে রাখতে পারেন ফেস পাউডার, লিপস্টিক, সানক্রিম, ফেসিয়াল টিস্যু, ছোট আয়না ও এক বোতল পানি।

► অনেক হাঁটার প্রয়োজন হলে আরামদায়ক কোনো জুতা বেছে নিতে পারেন।

 

 


মন্তব্য