kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এবার নিটের শাড়ি

নিট ফেব্রিক দিয়ে অনেক কিছুই হয়—টি-শার্ট, পলো শার্ট, টপস, ওড়না। কিন্তু তাই বলে শাড়ি? হ্যাঁ, দেশে এই প্রথম নিট দিয়ে শাড়ি তৈরি করেছেন শান্তা মারিয়াম ফাউন্ডেশনের ফ্যাশন বিভাগের কারিগরি উপদেষ্টা ও ফ্যাশন ডিজাইনার শুভ্রা সাহা। শাড়ি বানানোর গল্প শোনাচ্ছেন তিনি

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



এবার নিটের শাড়ি

মডেল : অনামিকা তিথি সাজ : পারসোনা ছবি : তারেক আজিজ নিশক

বাঙালি নারীর শাড়ির ঐতিহ্য পাঁচ হাজার বছরেরও বেশি পুরনো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর রূপ, রং ও পরার ধরনে বৈচিত্র্য এসেছে।

আজও শাড়ি নিয়ে নিরীক্ষার শেষ নেই। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও শাড়ির কদর বাড়ছে।

বহুদিন ধরে দেশীয় পোশাক নিয়ে গবেষণা করছি। এর আগে ডেনিম কাপড় দিয়ে শাড়ি বানিয়েছিলাম। সেই সূত্র ধরেই নিট বা গেঞ্জি কাপড়ে শাড়ি তৈরির বিষয়টি মাথায় এসেছে। এখন পর্যন্ত নিট ফেব্রিক দিয়ে কেবল ছেলেদের টি-শার্ট, পলো শার্ট, মেয়েদের টপস ইত্যাদি হয়েছে। কিন্তু নিট ফেব্রিকে শাড়ি এবারই প্রথম। দেশীয় ফেব্রিক ব্যবহার করে এই শাড়ির ডিজাইন করেছি। এ দেশের বেশির ভাগ মেয়েই শাড়ি পরতে পছন্দ করে। কিন্তু নাগরিক জীবনে ব্যস্ততার কারণে সালোয়ার-কামিজ কিংবা জিন্সের বাইরে আর শাড়ি পরাই হয়ে ওঠে না। পরাটাও একটা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তা ছাড়া ম্যানেজ করতে পারবেন না অথবা হাঁটার সময় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন না—এই ভয়েও আজকাল শাড়ি পরতে চান না অনেকে। কেতাদুরস্ত এসব নারীদের দারুণ স্বস্তি দেবে নিটের শাড়ি। এটা একই সঙ্গে ফ্যাশনেবল ও স্বাচ্ছন্দ্যময়। পরার কোনো ঝামেলা নেই। সালোয়ার বা গাউন যেভাবে পরেন, ঠিক সেভাবেই পরা যাবে এই শাড়ি।  

নিট প্যাটার্নড শাড়িতে দেশীয় শাড়ি ও পাশ্চাত্যের গাউনের মেলবন্ধন রয়েছে।   নিট ফেব্রিককে শাড়ি হিসেবে ডিজাইন করাটাই ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। এ নিয়ে প্রায় বছরখানেক ধরে নিরীক্ষা করেছি। শাড়ির প্রকৃত আকার ও লুকটাকে মাথায় রেখে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের প্যাটার্নড শাড়ির ডিজাইন করেছি। নিট শাড়ির জন্য কাপড় বাছাই করাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ। নানা ধরনের কাপড় নিয়ে নিরীক্ষার পর দেখলাম ১৪০ থেকে ১৬০ জিএসএম (গ্রাম পার স্কয়ার মিটার) নিট কাপড়েই কেবল এ ধরনের শাড়ি হয়। এর পরই ছিল অলংকরণের ব্যাপার। কতটা কাপড়ে কোন ধরনের ড্রেপ করে কিভাবে সামনে আনলে মানুষ পছন্দ করবে, পরে আরাম পাবে, সে বিষয়টিও ভেবেছি। শাড়িতে সাধারণত ছয় গজের মতো কাপড় লাগে। কিন্তু নিট শাড়িতে মাত্র আড়াই থেকে তিন গজ কাপড় ব্যবহার করেছি। এক কথায় এটা রেডি শাড়ি বলতে পারেন। সালোয়ার-কামিজের মতো সহজেই পরিধান করতে পারবেন।

এখন পর্যন্ত চারটি ভিন্ন নকশায় নিটের এই স্টিচ শাড়িগুলো সেট করা হয়েছে মূলত দুটি লুকে। একটি হলো স্পোর্টস ক্লাবওয়্যার লুক, অন্যটি লাল গালিচা বা ব্রাইডাল পার্টি লুক। স্পোর্টস এলিমেন্টের কথা মাথায় রেখে উজ্জ্বল নিয়ন রঙের ব্লাউজ তৈরি করা হয়েছে, যা কিনা ফ্যাশনের নতুন ট্রেন্ড। এর মধ্যে সামনে আঁচল দিয়ে ব্লাউজে সংযোজিত হয়েছে মোবাইল রাখার পকেট। আর পার্টির কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে রেড কার্পেট বা ব্রাইডাল লুকের শাড়ি। সোনালি ও রুপালি রঙের ভারী এমব্রয়ডারি ও সিকুয়েন্সের ব্লাউজও আছে। এ ছাড়া আছে কোমরবন্ধনীর ব্যবহার, যা শাড়ির অলংকরণ ও আভিজাত্যে সৃষ্টি করেছে এক অনন্য মাত্রা।

 

সঙ্গে কী পরবেন

শীত কিংবা গ্রীষ্ম সব সময় স্বাচ্ছন্দ্যে পরা যাবে নিটের শাড়ি। গরমে স্লিভলেস আর শীতে ব্লাউজ ফুলস্লিভ হলে ভালো হয়। লাল আর গোল্ডেন শাড়ির সঙ্গে গোল্ডেন হিল বা গোল্ডেন স্নিকার ভালো মানাবে। পিংক নিয়ন শাড়ির সঙ্গে নিয়ন পিংক বা সবুজ স্নিকার স্পোর্টি লুক আনবে। দিনের পার্টি হলে স্পোর্টি সানগ্লাস পরতে পারেন। অ্যানিমেল প্রিন্টের শাড়ির সঙ্গে সিলভার অ্যান্ড ডায়মন্ড জুয়েলারি, লাল শাড়ির সঙ্গে গোল্ডেন জুয়েলারি ভালো মানাবে।

 

টিপস

নিট শাড়ি ওয়াশ করতে চাইলে অবশ্যই ড্রাই ক্লিন করাতে হবে।

 

যোগাযোগ : subhracouture@gmail.com / onlysubhra1@gmail.com

 

 


মন্তব্য