kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সিঁথি সজ্জা

সাজ বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠতে পারে ব্যতিক্রমী চুলের সিঁথিতে। মুখের সঙ্গে মিলিয়ে ডানে-বাঁয়ে, মাঝখানে কিংবা জিগজ্যাগ সিঁথির রেওয়াজ দীর্ঘদিনের। এবার সিঁথি নিয়ে নিরীক্ষার গল্প জানালেন রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা কামাল। গ্রন্থনা মারজান ইমু

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সিঁথি সজ্জা

চুলের সাজের ভিন্নতা আনতে এবং দ্রুত চেহারা পরিবর্তনেও সিঁথির ভূমিকা অশেষ। সিঁথি বিভিন্ন ধরনের হতে পারে।

সিঁথির ধরন নির্ভর করে সাধারনত বয়স, চেহারার ধরন, পোশাক, চুলের ধরণ ও কাট ইত্যাদির ওপর।

টুইস্ট সিঁথি

টুইস্ট সাজে সিঁথিতে বেশ বৈচিত্র্য আনা যায়। প্রথমে মাথার সামনের চুলে তিন থেকে চারটি সিঁথি করে চুল ভাগ করে নিন। প্রত্যেক ভাগের চুল আলাদা করে পেঁচিয়ে একটু পাফ করে ছোট ক্লিপ দিয়ে মাথার পেছনের আটকে নিন। এবার পেছনের চুলে ইচ্ছামতো পনিটেল, বেণি বা খোঁপা যাই করুন, দেখতে সুন্দর দেখাবে। যেকোনো উপলক্ষে ঝটপট সাজে টুইস্ট সিঁথি চেষ্টা করতে পারেন।

ব্যতিক্রমী লুক চাইলে চুলের এক পাশে একটু বাঁকা করে সিঁথি করুন। এবার এক পাশের চুলগুলো ক্লিপ দিয়ে আটকে নিন। অন্য পাশে কাপল থেকে কান বরাবর একটু বাঁকা করে বেশ কয়েকটি সিঁথি করে চার থেকে পাঁচটি টুইস্ট সিঁথি করুন। ছোট ক্লিপ দিয়ে আটকে নিন। অনুষ্ঠান থাকলে ক্লিপের সঙ্গে ছোট সাদা পুঁতি জুড়ে দিতে পারেন। বেশ জমকালো লুক আসবে। পেছনের চুল উল্টিয়ে হালকা পাফ ইচ্ছামতো বেঁধে নিন। সালোয়ার-কামিজ বা পাশ্চাত্য পোশাকের সঙ্গে পেছনের চুল ছেড়ে অল্প কার্ল করে নিলে ভালো দেখাবে। চাইলে পনিটেল বা ফ্রেঞ্চ বেণিও করতে পারেন। শাড়ির সঙ্গে বেণি খোঁপা করে তাতেও এলেবেলে কয়েকটি সাদা পুঁতি জুড়ে দিতে পারেন।

 

খোলা সিঁথি

জিগজ্যাগ সিঁথি বরাবরই জনপ্রিয়। সুবিধাও আছে। দীর্ঘদিন এক জায়গায় সিঁথি করলে সিঁথি বড় হয়ে বেশ ফাঁকা দেখায়। জিগজ্যাগ সিঁথিতে সে ঝক্কি নেই। কার্লি বা ব্লোডাই যেকোনো হেয়ারস্টাইলেই জিগজ্যাগ সিঁথি বেশ মানায়। নতুনত্ব চাইলে জিগজ্যাগ সিঁথির ধাপগুলো ছোট করে ফেলুন। অনেকগুলো ধাপের জিগজ্যাগে লুকে বৈচিত্র্য আনবে সহজেই। একটু সময় পেলে নিজেই নিরীক্ষায় বসে যান সিঁথি নিয়ে। মাঝে বা এক পাশে টানা জিগজ্যাগ সিঁথি না করে মাথার ডানপাশ থেকে শুরু করে জিগজ্যাগ সিঁথি বাঁয়ে নিয়ে আসুন। ছোট ক্লিপ দিয়ে আটকে দিলে সিঁথির সৌন্দর্য দিনভর অটুট থাকবে।

সাইডে সিঁথি করতে অভ্যস্ত হলে তাতেও বৈচিত্র্য আনা সম্ভব। এক পাশে করা সিঁথির দৈর্ঘ্য ছোট করে অর্ধেক করে ফেলুন। এবার বাকি অংশের চুলগুলো উল্টে হালকা পাফ করে পেছনে ক্লিপ দিয়ে আটকে দিন। অল্প মুজ স্প্রে করে সেট করুন। সিঁথির দুই পাশের চুল ছেড়ে রাখুন ইচ্ছামতো। চাইলে এক পাশে ক্লিপ দিয়ে সেট করে নিতে পারেন। গরমে আরাম চাইলে পেছনের চুলে পনিটেল করে নিতে পারেন কিংবা সুবিধামতো পাঞ্চক্লিপে আটকে রাখুন। মাঝখানে সিঁথি করতে চাইলে ভাবুন একটু ভিন্নভাবে। সরাসরি চুলের মাঝ রবাবর একটি সিঁথি না করে সমান্তরাল দুটি সিঁথি করুন। এবার দুটি সিঁথির ঠিক মাঝখান থেকে এক সিঁথির চুল অন্যটিতে মিলিয়ে দিন। সিঁথির শেপ হবে ইংরেজি ইউ অক্ষরের আদলে। এক্ষেত্রে চুল পরিপাটি রাখতে অল্প হেয়ার জেল লাগাতে পারেন।

 

লক্ষ রাখুন

♦   কোন পোশাকের সঙ্গে কোন ধরনের চুলের সাজ বেছে নেবেন, তার কোনো বাঁধাধরা নিয়ম নেই। ইচ্ছামতো পনিটেল, বেণি, চুলের এলোমেলো স্টাইল, সামনের দিকে ফুলিয়ে পেছনে উঁচু খোঁপা বা টুইষ্ট ট্রেন্ড চলছে। এধরনের চুলের সাজের সঙ্গে স্টাইলিশ সিঁথি করতে পারেন।

♦   চাইলে সিঁথির সাজে নানা ধরনের স্টাইলিশ হেয়ার ব্যান্ড ও ক্লিপ দিয়ে ভিন্নতা আনা যেতে পারে।

♦   সকালে ক্লাস বা অফিসে যাওয়ার তাড়া থাকলে মুখের সঙ্গে মানানসই সুন্দর একটি হেয়ার কাট দিয়ে নিলে সময়ের অনেকটাই বেঁচে যায়। আর লুকে ভিন্নতা আনতে সিঁথির সাজটা পরিবর্তন করে নিলেই হলো।

♦   করপোরেট লুক আনতে পছন্দমতো সিঁথি করে চুলে নিচু করে পনিটেল করতে পারেন। এক পাশে বাঁকা সিঁথি করে পুরো চুলটাকে চ্যাপটা করে নিতে পারেন, তার পেছনে সুন্দর একটি ঝুঁটি।

♦   চুলের একই জায়গায় দীর্ঘদিন সিঁথি করলে সে অংশের চুল কমে যায়। তাই সিঁথির জায়গা প্রতিনিয়তই অদল-বদল করে নিন।

♦   চুল আঁচড়াতে একটু মোটা ও কোমল দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করুন। ধুলাবালি, রোদ আর ঘামে চুল প্রতিদিনই নিষ্প্রাণ হয়ে যেতে পারে। তাই যাদের প্রতিদিনই বাইরে বের হতে হয় তারা চাইলে রোজ শ্যাম্পু করতে পারেন। তবে শ্যাম্পু কেনার সময় রেগুলার শ্যাম্পুগুলো কিনে নেবেন খেয়াল করে। শ্যাম্পুর পর অবশ্যই কন্ডিশনার ব্যবহার করবেন।

♦   চুল শুষ্ক হলে রাতে তেল গরম করে মাথায় ম্যাসাজ করে নিন ১০ মিনিট। সকালে শ্যাম্পু করে নিন। ছুটির দিনে একটু সময় বের করে নিন চুলের যত্নে। সপ্তাহে এক দিন চুলে প্রোটিন প্যাক লাগান।

 

টিপস

♦   ভেজা চুলে খুশকির আক্রমণ হয় সহজে। তাই চুল সব সময় শুকনো রাখার চেষ্টা করুন। ঘামে বা বৃষ্টিতে ভিজে গেলে যত দ্রুত সম্ভব ফ্যানের ঠাণ্ডা বাতাসে শুকিয়ে নিন।

♦   সপ্তাহে এক দিন অ্যান্টি ড্যানড্রাফ-সমৃদ্ধ শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। শ্যাম্পুর পর অবশ্যই কন্ডিশনার ব্যবহার করবেন। মাইল্ড শ্যাম্পু এ সময়ের উপযুক্ত।

♦   ভেজা চুল কখনোই আঁচড়াবেন না। এতে চুল পড়া আর ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। মোটা ও ফাঁকা দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করুন। হেয়ার ড্রায়ার একেবারেই বাদ দিন।

♦   মাসে অন্তত দুদিন সারা রাত মাথায় তেল দিয়ে রাখুন। ঘুমানোর আগে হট অয়েল ম্যাসাজ করুন। নারিকেল তেলের সঙ্গে গোটা মেথি চুলায় জ্বাল দিয়ে ফুটিয়ে ছেঁকে একটি বোতলে ভরে রাখতে পারেন। চুলে এই তেল লাগানোর আগে হালকা গরম করে এক টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিলে চুল খুশকিমুক্ত থাকবে।

♦   চুলে উজ্জ্বলতা বাড়াতে চাইলে মেথি সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে ভেজানো মেথি বেটে চুলে লাগিয়ে রাখুন ঘণ্টাখানেক। তারপর শ্যাম্পু করে ফেলুন।

♦   সপ্তাহে এক দিন নারিকেলের দুধ, পাতিলেবুর রস ও নিমপাতা বাটা মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে চুলে লাগিয়ে রাখুন। এক ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। খুশকির আক্রমণ থেকে রেহাই পাবেন।


মন্তব্য