kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মাংস খাবেন জেনে-বুঝে

কোরবানির মাংস খাবেন না বা বেশি খাবেন—কোনোটাই ঠিক নয়। কোন অসুখের জন্য মাংস ক্ষতিকর এবং কতটা ক্ষতিকর খেয়াল রাখতে হবে। কোন সমস্যায় কতটা মাংস খেতে পারবেন—জানাচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. জিলান মিয়া সরকার

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



মাংস খাবেন জেনে-বুঝে

অ্যালার্জি

অনেকের গরুর মাংসে অ্যালার্জি থাকে। খেলে ত্বক চুলকায়, লাল লাল ছোপ হয় এবং ফুলে যায়।

তাঁরা গরুর মাংস এড়িয়ে চলুন। খাসি কিংবা মুরগির মাংস খান। অনেকে ভাবেন, কোরবানির মাংস খেলে এমন হবে না। এটা ঠিক নয়। যাঁদের অ্যালার্জি আছে, তাঁরা ঈদের মাংস খেলেও একই ধরনের অ্যালার্জিক রি-অ্যাকশন হবে। তাই ঈদের সময় অ্যান্টি-হিস্টামিন জাতীয় ওষুধ দুই বেলা করে তিন থেকে পাঁচ দিন সেবন করুন। গরুর মাংস প্রথমে দু-এক টুকরা খান। কোনো সমস্যা না হলে ঈদের সময়টায় মাংস খাওয়া চালিয়ে যেতে পারেন। তবে অবশ্যই ওষুধ খেতে ভুলবেন না। এর পরও কোনো সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

 

উচ্চ রক্তচাপ

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য যাঁরা ওষুধ খান, তাঁরা অনেকেই মনে করেন, কোরবানির সময় গরু বা খাসির গোশত খেলেই প্রেশার বেড়ে যাবে। এ ধারণা একেবারেই ঠিক নয়। তবে অতিরিক্ত খাওয়া চলবে না এবং চর্বি একেবারেই বাদ দিতে হবে। উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা

►          ঈদের ব্যস্ততার মাঝেও ওষুধ খেতে ভুলবেন না।

►          যাঁদের দীর্ঘমেয়াদি অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপের কারণে কিডনি সমস্যা আছে, তাঁরা মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

 

ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিস রোগীরা  শুধু মাংস নয়, ঈদের সব ধরনের রিচ খাবার পরিমিত খান। কোনো বেলায় খাওয়া বেশি হলে ওষুধের ডোজ কিছুটা বাড়িয়ে অথবা ইনসুলিন দুই ইউনিট বাড়িয়ে নিন। ঈদের আগেই এ ব্যাপারে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন। লক্ষ রাখুন—

►          মাংসের সঙ্গে পোলাও-বিরিয়ানি কম খান, ভাত খাওয়ার চেষ্টা করুন।

►          গরুর মাংস খেতে পারেন। তবে পরিমাণে চর্বি  বেশি থাকায় মগজ ও খাসির মাংস বাদ দিন।

►          যাঁদের দীর্ঘমেয়াদি অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ ব্লাড সুগারের জন্য ডায়াবেটিস নেফ্রোপ্যাথি হয়েছে, তাঁরা মাংস একেবারেই খাবেন না।

►         ঈদের ব্যস্ততার মধ্যেও ডায়াবেটিসের ওষুধ খেতে কিংবা ইনসুলিন নিতে ভুলবেন না।

 

হার্টের সমস্যা

যাঁরা হার্টের সমস্যাজনিত কারণে বুকের ব্যথায় ভুগছেন কিংবা আগে যাঁদের মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন (হার্ট অ্যাটাক) হয়েছে, তাঁরা ঈদে খাওয়াদাওয়ার ব্যাপারে সচেতন থাকবেন।

►          খাসির মাংস, চর্বিযুক্ত খাবার একেবারেই খাবেন না।

►          চর্বি ছাড়া গরুর মাংস খেতে পারেন, তবে পরিমিত পরিমাণে।

►        যাঁদের হার্টের ধমনিতে রিং বসানো হয়েছে, তাঁরা কোরবানির মাংস একেবারেই খাবেন না, তা নয়। ভাত দিয়ে গোশতের তরকারি খান। অনেকে ভাবেন, হার্টের অপারেশন হলে মসলা ছাড়া মাংস  খেতে হবে; তা কিন্তু নয়। মুখরোচক করেই খান, তবে পরিমাণে অল্প। মাংসের ঝোল যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন।

 

►         যাঁদের ধমনিতে চর্বি জমার প্রবণতা আছে এবং আগে স্ট্রোক হয়েছে, তাঁদের কোরবানির গোশত, মগজ, বিরিয়ানি, পোলাও, পায়েস, সেমাই ইত্যাদি পরিহার করাই ভালো।

 

কিডনির রোগীরা

কিডনির সমস্যা থাকলে প্রোটিন খাওয়া নিয়ন্ত্রিত থাকে। তাই মাংস না খেলেই ভালো হয়, খেলেও দিনে দুই টুকরা বা ৩০ গ্রামের বেশি নয়। তবে যাঁদের ক্রনিক কিডনি ডিজিজের জন্য ডায়ালাইসিস করানো হয়েছে, তাঁরা প্রোটিন খেতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে গরুর মাংস খাওয়ার ব্যাপারে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। যাঁরা কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করিয়েছেন এবং সফল হয়েছেন, তাঁরা কোরবানির মাংস খেতে পারবেন।

 

ছবি : তারেক আজিজ নিশক


মন্তব্য