kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অপরূপ সুগারলোফ মাউন্টেন

সাইদুজ্জামান   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



অপরূপ সুগারলোফ মাউন্টেন

অগাস্তো ফেরেইরা রামোস সাহেবের সঙ্গে সেলফি

শুধু কি এশিয়া, এমনকি ইউরোপও আপনার নাগালে। ইদানীং আফ্রিকাও দূরের কোনো মহাদেশ নয়।

তবে মহাদেশটা যখন দক্ষিণ আমেরিকা, বিস্ময় কিছুটা অবশেষে আছেই। ১৫ হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে কে বেড়াতে আসে বলুন, তা যতই লাতিন আমেরিকাকে ঘিরে মোহাবিষ্ট ব্যক্তিই হোন না কেন। তাই ভূ-গোলকের ওপাড়ায় যেতে হলে কিছুটা ভাগ্য লাগেই বৈকি। ২০১৬ রিও অলিম্পিক যেমন ভাগ্যদেবী হয়ে আশীর্বাদ বর্ষেছেন লেখকের ওপর, সে হিসেবে বলা চলে আমি শুধু ভাগ্যবানই না, মহাভাগ্যবান!

কথাগুলো অনেকটাই আবেগতাড়িত হয়ে গেল বোধ হয়? এর কারণও আছে। জন্মই এমন এক পরিবারে, যে পরিবারে ফুটবল, পেলে-গারিঞ্চাদের গল্প উঠত আড্ডায়। কৈশোর পেরিয়ে জানলাম, ফুটবল ছাড়াও সাম্বা এবং কোপাকাবানা সমুদ্রসৈকতের জন্য জগদ্বিখ্যাত ব্রাজিল। সেই তখন থেকেই মনের গহিনে একটা স্বপ্ন—আহা, যদি কোনো দিন...! সুযোগটা এলো বছর তিরিশ পেরিয়ে। তবু তো এলো। স্বপ্নের সঙ্গে এই ব্রাজিল দর্শনের সৌরভ, রং, রূপ কোনোটাতেই বড় কোনো পার্থক্য চোখে পড়েনি। দুই সপ্তাহেরও বেশি অবস্থানকালে রিও ডি জেনেইরো প্রতিনিয়ত নতুন বিস্ময় নিয়ে সামনে এসেছে। শরীর ভালো নেই, অলিম্পিক মহাযজ্ঞের পেছনে ছোটাছুটির প্রচণ্ড ক্লান্তি; তবু রিওকে মনে হয়েছে অসাধারণ।

কাজে এসেছি, তাই চাইলেই এখানে-ওখানে ছোটাছুটির সুযোগ নেই। সুযোগটা পাওয়া গেল অলিম্পিক শেষ হওয়ার পর, রিওতে পা রাখার দিন থেকে গুনলে ২২ দিন পর। এক সহকর্মীকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম ‘ডে ট্যুর’-এ। টানা ৯ ঘণ্টার ঘোরাঘুরি শুনে বুকিংয়ের দিনই কেমন জানি টেনশন হচ্ছিল। একদিকে ক্লান্তি, অন্যদিকে রিওর আবহাওয়ার হঠাৎ মন খারাপ হয়ে কান্নাকাটি (বৃষ্টি) জুড়ে দেওয়ায় ঠিক নিশ্চিত ছিলাম না, সিদ্ধান্তটা যথাযথ হলো কি না। সকাল ৮টায় শুরু করে সন্ধ্যায় শেষ হওয়া সেই ট্যুরের পর মনে আক্ষেপ—যদি আরেকটা দিন হাতে পাওয়া যেত!  গাইডেড ট্যুর, ব্রাজিলে যা অত্যাবশ্যকীয়। নইলে ভাষাগত সমস্যা এতটাই প্রকট যে এর কাছে জিকা ভাইরাসও মনে হবে সহনীয়! ব্রাজিলে সচ্ছল জীবন যাপনের জন্য আপনাকে চিকিৎসক কিংবা প্রকৌশলী হওয়ার দরকার নেই। বেসিক ইংরেজিটা জানলেই আপনার জীবনগাড়ি চলবে মসৃণ পথে। যা-ই হোক, সকাল ৮টাতেই মার্সিডিজ বেঞ্জ ভ্যান নিয়ে হাজির আমাদের গাইড গ্রেগরি। এই মহাশয় পাঁচতারা হোটেলের ফ্রন্ট ডেস্কের কাজ ছেড়ে গাইডগিরি করছেন। তাঁর ভাষায়, ‘এখানে অনেক স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারি। ইচ্ছা হলে বলে দিই আজ আমার ছুটি। ’ ইংরেজিভাষী গাইড সংখ্যায় এতই কম যে গ্রেগরিকে চিরতরে ছাঁটাইও করতে পারেন না ট্যুর অপারেটর।

 

 

গ্রেগরি ইংরেজ নন, ব্রাজিলিয়ান। সেই সুবাদে পর্তুগিজ আর স্প্যানিশ তো জানেনই, ম্যান্ডারিনও শেখা প্রায় শেষের পথে। ফরাসি-জার্মান ট্যুরিস্ট এলেও ডাক পড়ে তাঁর, এক-আধটু হিন্দিও মনে হলো জানেন। বহু ভাষাবিদ এ গাইডের হাতে আমরা তিন দেশের পর্যটক। ইংরেজি, পর্তুগিজ আর স্প্যানিশ—ভাঙা রেকর্ডের মতো বাজিয়েই চললেন গ্রেগরি। অবিশ্বাস্য তাঁর প্রাণশক্তি ও নিষ্ঠা!

গুগল সার্চ ইঞ্জিনের দুনিয়ায় রিও ডি জেনেইরোর ইতিবৃত্ত জানানোটা পুনরাবৃত্তি মনে হতে পারে। বছরে অর্ধকোটিরও বেশি পর্যটক টানে যে শহর, সেই শহরে একজন বাঙালির অনুভূতিটাই শুধু তুলে ধরছি।

আমাদের প্রথম গন্তব্যই ছিল সুগারলোফ মাউন্টেন। উনিশ শতকের শুরুর দিকে বিশ্বনেতাদের নিমন্ত্রণ করেছিলেন তৎকালীন ব্রাজিলের রাজা। উদ্দেশ্য ছিল লাতিন আমেরিকার এ দেশটি সম্পর্কে বিশ্বকে অবহিত করা। গ্রেগরি সবজান্তা ইতিহাসবিদের মতো বলে যাচ্ছেন, ‘অতিথিরা সবাই খুশি মনেই ফিরেছেন। কিন্তু একজন মানুষের মনে হলো চিনি আর কফির টোপ ফেলে বিশ্বকে আকৃষ্ট করা যাবে না। এমন কিছু করতে হবে, যেন সবাই বারবার ব্রাজিলে ফিরে আসে। ’ সেই মানুষটি অগাস্তো ফেরেইরা রামোস, পেশায় স্থপতি। এভেনিদা পাস্তুর থেকে শুরু আর উরকা পাহাড়ের চূড়া পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার ওঠার পর দ্বিতীয় দফায় আরো ৪০০ মিটার বেয়ে ‘পাও দো আসুকা’ পর্বতের চূড়ায় আরোহণ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা ধরলে ৩৯৬ মিটার উঁচু সুগারলোফ মাউন্টেনে উঠতে সময় লাগে বড়জোর পাঁচ মিনিট। তবে আপনি চাইলে পুরো একটা দিন কাটিয়ে দিতে পারেন পাহাড়ের চূড়া থেকে রিও শহর, রুপালি সৈকত, আটলান্টিক আর দূরের পাহাড়ের চূড়ায় মেঘের ছোঁয়াছুঁয়ি দেখতে দেখতে।

অগাস্তোর জন্য অবশ্য কাজটা মোটেও সহজ ছিল না। তিনি প্রস্তাবটা দেওয়ার পর নাকি সংশ্লিষ্টরা সবাই হেসেই কুপোকাত, এমন অবাস্তব চিন্তা কেউ করে! তাতে অবশ্য দমেননি তিনি। প্রচারণা চালিয়ে গেছেন এবং বছর তিনেক পর অগাস্তোকে সমর্থন দেয় ব্রাজিলের মাউন্টেনিয়ার্স ক্লাব। তবে আর্থিক সহায়তা মিলেছে কেবল কার পরিকল্পনায় অগাস্তোর অনুপ্রেরণা জার্মানির কাছ থেকে। ১৯১০ সালে সরকারি অনুমোদনের পর কাঠের তৈরি কেবল কার তৈরি করেন অগাস্তো, যা এখনো সুগারলোফ মাউন্টেনে পর্যটকদের জন্য সংরক্ষিত আছে। পাশে অবশ্যই ব্রোঞ্জমূর্তি হয়ে দাঁড়িয়ে অগাস্তো ফেরেইরা। ১৯৭২ সাল পর্যন্ত কাঠের কেবল কারেই ওঠা-নামা করেছে পর্যটকরা। ১৯৭২ সালে এক দফা এবং সর্বশেষ আজকের অত্যাধুনিক রূপটা নিয়েছে ২০০৯ সালের সংস্কারে। এটা বিশ্বের যেকোনো কেবল কারের মতোই অত্যাধুনিক, তবে চারপাশে চোখ মেললে মনে হবে এটা আর সবগুলোর চেয়ে অনন্য।

একবার ‘সুগারলোফ’, আরেকবার ‘পাও দো আসুকা’ পাহাড়ের নাম দেখে ধন্ধে পড়ে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। আজকের সুগারলোফের প্রকৃত নাম ‘পাও দো আসুকা’ই। আবার সুগারলোফ নামটাও ভুল নয়। হয়েছে কি, রপ্তানির জন্য জাহাজে চিনির যে স্তূপ হতো, পাও দো আসুকার আদলটা ও রকম। সে থেকেই এর নামকরণ সুগারলোফ।

তো, দুই দফার কেবল কারে চড়ে সুগার লোফের চূড়ায় উঠে আপনি কী দেখবেন? এর আগে একটু ঘুরিয়ে আনা যাক কুইন্সটাউনের গনডোলা কেবল কার থেকে। নিউজিল্যান্ডের অপরূপ এ শহরে নিউ ইয়ার সেলিব্রেশনে যান বিল গেটস কিংবা জনি ডেপের মতো মহাতারকারা। তো, সেই শহরে ৪৫০ মিটারের কেবল কার যাত্রা দারুণ রোমাঞ্চকর। নিচের শহরটাকে মনে হবে বিশ্বখ্যাত কোনো শিল্পীর ক্যানভাস। ভাগ্যক্রমে সেটি দেখার অভিজ্ঞতা হয়েছে। তাই তুলনা করার সাহস দেখানোই যায়! কোনো সন্দেহ নেই, সেই তুলনায় সুগারলোফ মাউন্টেন এগিয়ে কয়েক শ মিটার।

একটা পয়েন্ট থেকে আপনি কয়টা ল্যান্ডমার্ক দেখতে চান? সুগারলোফে দাঁড়িয়ে আপনি দেখতে পাবেন দম বন্ধ করা প্রকৃতি। একই ফ্রেমে ‘কোপাকাবানা’, ‘ইপেনেমা বিচ’, ‘ক্রাইস্ট দ্য রিদিমার’। সুগারলোফের চূড়ায় দাঁড়িয়ে গ্রেগরি অনর্গল বলে যাচ্ছেন, ‘ব্রাজিলে মোট ১২টি ইন্ডিয়ান গোত্রের বাস ছিল। এর মধ্যে একটি গোত্রই মানুষখেকো। ওই যে দূরের দ্বীপটা দেখছেন, তাদের ঠিকানা ওটা। ’ দূরের সে দ্বীপের সঙ্গে আধুনিক রিওর যোগসূত্র দীর্ঘ একটি সেতু। এ যুগে ক্যানিবলসদের গল্প আর কেউ ‘খায়’ না। গ্রেগরিও জানিয়ে দিলেন, ‘সেসব দিন আর নেই। ’ তবে ইতিহাস তো আছে। আরো বেশি আছে অপরূপ সৌন্দর্য।

দুই দিন ধরে রিওর আকাশের মন খারাপ। তাতে অনেকে ‘ডে ট্যুর’ বাতিলও করে দিয়েছিলেন। কিন্তু শহর ছাড়ার তাগিদে সে উপায় নেই। তাতেও এতটুকু আক্ষেপ নেই। সুগারলোফ মাউন্টেনে মেঘের সঙ্গে মিলেমিশে পুরো রিও, আটলান্টিক আর প্রকৃতির আরেকটা রূপ তো দেখা গেছে। পর্যটকদের কথা ভেবে সুগারলোফ মাউন্টেনকে সাজানো হয়েছে নতুন করে। আপনার কোন ভিউটা চাই? পাহাড়ের চূড়ার চারপাশ ঘিরে ওয়াকওয়ে আছে। একটায় দাঁড়িয়ে মনে হবে এটাই বুঝি সেরা ভিউ। কিন্তু পরেরটায় গিয়ে মনে হবে, আরে, এটাই তো সেরা! নিচে সমুদ্রের গাঢ় নীল জল তো ডাঙায় শ্বেতশুভ্র রিওর অট্টালিকার ফাঁক গলে আবার পাহাড়ের গায়ে উঁকি দিচ্ছে লাল ছাদের ঘিঞ্জি ফাভেলা (বস্তি)।

আবহাওয়ার কারণেই উত্তাল আটলান্টিকের ঢেউ গোনা যায়। সমুদ্রের বুকে বিচ্ছিন্ন দুটি দ্বীপকে দেখে মনে হবে যেন অভিমানে একটু যেন দূরেই সরে আছে। আরেক পাশ থেকে লেগুনে সাদা বকের মতো ভাসতে দেখা যায় অসংখ্য ইয়ট আর যন্ত্রচালিত নৌকা। পাশের ওটা সম্ভবত গলফ কোর্স। দূরে দুই হাত মেলে দাঁড়িয়ে ‘ক্রাইস্ট দ্য রিদিমার’। দলা দলা মেঘ তাঁকে ছুঁয়ে যায়, এই ‘তিনি’ ফিকে তো একটু পরই হেসে ওঠেন সূর্যের ঝিলিকে।

দৃষ্টি একটু ডানে সরালেই ছোট্ট একটা এয়ারস্ট্রিপ। দুই প্রান্তে সমুদ্র দেখে মনে হবে প্লেন না আবার জলে পড়ে! জলে যে পড়ে না, সেটি দেখার জন্য মিনিট বিশেকের বেশি অপেক্ষার দরকার নেই। একটু পর পরই নিরাপদে অবতরণ করছে এয়ারক্রাফট। এত দিন জানতাম শুধু আমরাই বিমানের ওঠা-নামা দেখে বিস্মিত হই। কিন্তু সুগারলোফ মাউন্টেনে আমার চারপাশের ধনী দেশের মানুষরা দেখি আরো বেশি বিস্মিত!

পাহাড়ের চূড়ায় এমনিতেই ঠাণ্ডা, আবহাওয়ার কারণে আরেকটু বেশি। তাহলে এক কাপ গরম কফি হলে মন্দ হয় না। আপনার জন্য গরম কফি, স্ন্যাকস, এমনকি ভারী খাবারের বন্দোবস্তও আছে সুগারলোফ মাউন্টেনে। গ্রেগরি গর্ব করে জানালেন, ‘এখানে বার্থ ডে পার্টি থেকে শুরু করে সভা-সমিতিও হয় নিয়মিত। ’ আছে বেশকটি স্যুভেনির শপও। দাম একটু চড়া। তবে বিশেষ জায়গায় দাম তো একটু বেশি হবেই। কিন্তু অবশ্যই টেরেসে বসে এক কাপ গরম কফি মিস করবেন না। রেলিংয়ের ধারে চেয়ার পাতা আছে। গরম কফির পেয়ালায় চুমুক দিয়ে দৃষ্টি প্রসারিত করলেই মনে হবে, ‘লাইফ ইজ বিউটিফুল!’

প্যাকেজ ট্যুরের অনেক সুবিধার মাঝে একটা হ্যাপাও আছে। ফুটবল ম্যাচের মতো রেফারির নির্দেশ মেনে চলা আর কি। অনিচ্ছা সত্ত্বেও পরের গন্তব্যে সময়মতো পৌঁছানোর জন্য গ্রেগরি তাড়া দিলেন বলে সুগারলোফ মাউন্টেন থেকে নামতে হলো। আবার কেবল কারে চড়ে রিওর রাজপথে অপেক্ষমাণ ভ্যানে ওঠা। মোহাবিষ্ট মন একটা দায়িত্ব ভুলিয়ে দিয়েছিল। ফেরার পথে তাই একবার উঁকি দিয়ে মনে মনে ধন্যবাদ দিলাম অগাস্তো ফেরেইরাকে; পুরো ব্রাজিল যখন ভাবছিল এ অসম্ভব, তখনো দমেননি তিনি। অসম্ভবকে সম্ভব করার লড়াইয়ে অনায়াসে অনুপ্রেরণা হতে পারেন এই ব্রাজিলীয় স্থপতি।

 

জানা দরকার

 

রিও ডি জেনেইরোতে এলে অবশ্যই সুগারলোফ মাউন্টেনে চড়বেন। বাস কিংবা ট্যাক্সিতে চড়ে টিকিট কেটেও এখানে ঘোরা যায়। তবে এখানে ভাষাগত সমস্যাটা প্রবল। পর্তুগিজ কিংবা স্প্যানিশ না জানলে ভুলেও এ চেষ্টা করবেন না। এর চেয়ে গাইডেড ট্যুর বহু গুণ নিরাপদ। অন্তত পথ হারানোর ভয় নেই, সঙ্গে বোনাস হিসেবে থাকছে গ্রেগরির মতো প্রাণশক্তিতে ভরপুর গাইডের লাইভ ধারা বর্ণনা। আরেকটি অত্যাবশ্যকীয় পরামর্শ হলো, যেখানেই ঘুরতে যান, সে ব্রাজিল হোক কি বুরুন্ডি—জায়গাটাকে আগে ভালোবেসে ফেলুন। টুকটাক যে অসংগতি তা মন থেকে ঝেড়ে ফেলুন। বেড়াতেই তো

এসেছেন, নাকি!


মন্তব্য