kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রকমারি

মসলার বাজার ঘুরে

ঈদে কমবেশি সবার বাড়িতেই হবে বিশেষ রান্নার আয়োজন। আর এর জন্য চাই বিশেষ মসলাপাতি। বাজার ঘুরে খোলাবাজারের মসলা আর প্যাকেটজাত রেডি মসলার দরদাম জানালেন অমিত রায় ও সায়রা শিকদার

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



মসলার বাজার ঘুরে

খোলা মসলা

দুই ধরনের জিরা পাবেন খোলা মসলার বাজারে। স্বাদে ও গন্ধে ভারতীয় জিরা থেকে ইরানি জিরা তুলনামূলক ভালো।

ইরানি জিরার কেজি ৪৪০ থেকে ৪৮০ আর ভারতীয় জিরা ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা। এ ছাড়া আছে শাহি জিরা। যার মানের ওপর দাম নির্ভর করে। দাম ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা। ছোট ও বড় এলাচির কেজি এক হাজার ১০০ টাকা থেকে শুরু। দারুচিনি পাবেন ৩৫০ টাকায়। লবঙ্গের কেজি এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকা। গোলমরিচ এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। তেহারি ও বোরহানি বানাতে সাদা গোলমরিচের প্রয়োজন। দাম এক হাজার ৫০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা। তাড়াতাড়ি মাংস সিদ্ধ করার জন্য আছে জায়ফল। প্রতি পিসের দাম আট থেকে ১২ টাকা। মাংসের স্বাদ ও সুগন্ধি বাড়াতে ব্যবহার করতে পারেন জয়ত্রি।                                                                                                                                                         দাম দুই হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত কেজি। নানা ধরনের কিশমিশ পাবেন ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা। পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজারের ‘বিসমিল্লাহ মসলাঘরের স্বত্বাধিকারী ইজাজুল হক ভুঁইয়া বলেন, ‘তরকারির ঝোল ঘন করতে ব্যবহার করা হয় পোস্তদানা। দাম ৯০০ থেকে এক হাজার ১০০ টাকা। এ ছাড়া কাজুবাদাম, কাঠ ও পেস্তাবাদামও ব্যবহার করেন অনেকে। কাজুবাদাম প্রতি কেজি পাবেন এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা, কাঠবাদাম ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা এবং  পেস্তাবাদাম দুই হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। ’

আলুবোখারার কেজি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। পাঁচফোড়নের দাম কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত।

খাবারের সুগন্ধি ছড়ানোর জন্য আছে জাফরান। ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা গুনতে হবে প্রতি গ্রাম জাফরানের জন্য। মাংসে ভালোমতো মসলা মেশাতে চাইলে ভিনেগার কিনুন। ৫৫ টাকায়ই পেয়ে যাবেন।

খোলা হলুদের গুঁড়া ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা। মরিচের গুঁড়া ২৬০ টাকা থেকে শুরু। ধনিয়া নেবে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। তবে অনেকেই খোলা মসলা নিতে চান না। তাদের জন্য রয়েছে প্যকেটজাত হলুদ-মরিচের গুঁড়া। এসব গুঁড়া মসলা স্থানীয় দোকানদাররা মেশিনে ভাঙিয়ে প্যাকেটজাত করেন। যার মধ্যে ২০০ গ্রাম হলুদের গুঁড়ার মূল্য ৮০ টাকা। মরিচের গুঁড়াও পাবেন একই মূল্যে। পোলাও কিংবা বিরিয়ানিতে তো ঘি আবশ্যক। বাজারে নানা কম্পানির ঘি আছে। মিল্ক ভিটা, প্রাণ, ও আড়ং ঘিয়ের মূল্য হবে ২০০ গ্রাম টিনের কৌটা ১৯৫ টাকা।   কম্পানি ও ওজনভেদে সয়াসস পাবেন ৭০ থেকে ১৫০ টাকায়।   গোলাপজল ও কেওড়ার বোতল প্রতি পিস ২০ টাকা করে।  

প্যাকেটজাত মসলা

‘প্যাকেটজাত মসলার বাজারে অনেক ধরনের কম্পানি থাকলেও রাঁধুনি, প্রাণ, আরকু, হাইকো, মেজবান, এসিআই, ফ্রেশ মসলার চাহিদাই বেশি। ’ জানালেন নিউ মার্কেট কাঁচাবাজারের ইউনুস ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. মমিনুল ভূঁইয়া।

বাজারে হলুদ, মরিচ, ধনিয়া, জিরা, বিফ বা চিকেন মসলা, বিরিয়ানি বা তেহারি মসলা, বোরহানি মসলা, চাট বা চটপটি মসলা, কারি পাউডার, ফিশ বা মিট কারি মসলা, গরম মসলা, কাবাব মসলা, মেজবানি বিফ মসলা, পাঁচফোড়ন মসলা, রোস্ট মসলা, ভেজিটেবল মিক্স মসলা, বোম্বে বিরিয়ানি মসলা, হালিম মিক্স মসলা, পিকেল মিট মসলা, শাহি জিরা, কাশ্মীরি মরিচ গুঁড়া মসলার প্যাকেট

পাওয়া যায়। প্রধান মসলাগুলো (হলুদ, মরিচ, ধনিয়া, জিরা) ১৫ গ্রাম থেকে ১ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। মিক্স মসলা ৪৫ গ্রাম থেকে ১ কেজির প্যাকেট পাওয়া যায়। হলুদ, মরিচ, ধনিয়া, জিরা মসলার প্যাকেটের দাম ১৫ থেকে ১৬০ টাকা। মিক্স মসলার প্যাকেট পাবেন ৩৫ থেকে ২৫০ টাকা। তবে প্যাকেটজাত মসলায় পরিমাণের ভিত্তিতে দামের ভিন্নতা দেখা যায়।

কোথায় পাবেন

মীনা বাজার, স্বপ্ন, আগোরা, প্রিন্সবাজারসহ বিভিন্ন সুপার শপগুলোতে মসলা পাবেন। এ ছাড়া পুরান ঢাকার কাপ্তানবাজারের মসলার দোকান, নিউ মার্কেট, মিরপুরসহ রাজধানীর ছোট-বড় কাঁচাবাজারের মুদি দোকানগুলোতেও মিলবে রকমারি মসলা।


মন্তব্য