kalerkantho

26th march banner

শিশুর স্থূলতা

সুমাইয়া রফিক,পুষ্টিবিদ, প্রুডেন্ট নিউট্রিশন অ্যান্ড ডায়েট সেন্টার   

২১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



শিশুর স্থূলতা

শিশুর অনেক ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যে একটি হলো ওবেসিটি বা স্থূলতা। শিশুর স্থূল হয়ে যাওয়ার প্রধান কারণ পর্যাপ্ত পরিমাণে শারীরিক পরিশ্রম। যেমন খেলাধুলার অভাব, অতিরিক্ত খাদ্যগ্রহণ, প্রক্রিয়াজাতকৃত খাদ্যগ্রহণ, অতিরিক্ত তেল ও ক্যালরিযুক্ত ফাস্টফুড গ্রহণ ইত্যাদি।

এ ছাড়া জন্মের সময় শিশুর ওজন ২.৫ কেজির (৫ পাউন্ড, ৮ আউন্স) কম থাকা, স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ গ্রহণ করা, মা-বাবা স্থূল প্রকৃতির হওয়া ইত্যাদি শিশুর স্থূলতার প্রধান কারণ।

স্থূলতার ফলাফল

স্থূলতার কারণে শিশুদের নানা ধরনের রোগ, যেমন ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, হরমোনাল সমস্যা, বিষণ্নতা, অসন্তুষ্টি, আত্মগ্লানি, একাকিত্ব ও অন্যান্য শারীরিক ও মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তা ছাড়া অনেক শিশু পড়াশোনার প্রতিও উদাসীন হয়ে পড়ে। তাদের কাজ করার স্পৃহা হ্রাস পায় এবং ‘না’ বলার প্রবণতা বেড়ে যায়।

করণীয়

এসব ঝুঁকি এড়ানোর জন্য স্থূল শিশুদের ওজন কমিয়ে বয়স অনুযায়ী আদর্শ ওজনে ফিরিয়ে আনতে হবে। ধারাবাহিকতা রাখার চেষ্টা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে একজন পুষ্টি বিশেষজ্ঞের পরামর্শে থাকা জরুরি। ফাস্ট ফুড, কোক-পেপসি জাতীয় কোমল পানীয়, চিপস ও অন্যান্য প্রক্রিয়াজাতকৃত খাবার, কেক, পেস্ট্রি, পাস্তা জাতীয় উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার  কম খাওয়াতে হবে। শিশুদের ওজন যদি অতিরিক্ত বেড়ে যায় তবে তাদের স্বাভাবিক ওজনে ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

 খেয়াল রাখতে হবে যেন শিশুর সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে ওঠে। এ জন্য তারা কোন বেলা কী খাচ্ছে তা খেয়াল রাখাটা অত্যন্ত জরুরি। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় প্রচুর পরিমাণে পানি, শাক-সবজি, ফল ও ডাল রাখাটা জরুরি। এর সঙ্গে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের ছোট ও বড় মাছ, মুরগি, গরুর মাংস ইত্যাদির যেকোনো একটি আমিষ জাতীয় খাবার রাখতে হবে। যতটুকু সম্ভব বাইরের খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। এ ছাড়া শিশুদের পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রম করাতে হবে। সে ক্ষেত্রে তাদের খেলাধুলা, সাঁতার, দৌড়ানো, দড়ি লাফ ইত্যাদিতে নিয়মিত জড়িত রাখতে হবে।

শিশুদের এক দিনের খাদ্য তালিকা

সকাল ৭.৩০-৮.০০

আটার রুটি বা পাউরুটি ২-৩ পিস বা কর্নফ্লেক্স ১ বাটি, সিদ্ধ ডিম ১টি, কলা ১টি, দুধ বা মিল্কশেক ১ গ্লাস।

টিফিন ১১.০০

চিকেন স্যান্ডউইচ ১-২ পিস বা সবজি নুডলস ১-১.৫ কাপ, ফলের জুস ১ গ্লাস।

দুপুর ২.৩০

ভাত ১.৫-২ কাপ, মুরগি/মাছ ১ পিস, শাকসবজি আধা বা ১ কাপ, ডাল ১ কাপ।

বিকেল ৪.০০

যেকোনো মৌসুমি ফল ১টি

সন্ধ্যা ৬.০০

সুপ ১ বাটি

রাত ৮.৩০-৯.০০

ভাত ১-২ কাপ, মাছ বা মাংস ১ পিস, সবজি বা সালাদ আধা কাপ, ডাল ১ কাপ।

ঘুমানোর আগে

দুধ ১ গ্লাস, চিনা বাদাম ৮-১০টি।

 

বয়স অনুযায়ী পানি খাওয়ার নিয়ম

৪-৮ বছর হলে দৈনিক ১-১.২ লিটার (৫ গ্লাস)

৯-১৩ বছর হলে দৈনিক ১.৪-১.৬ লিটার (৫-৬ গ্লাস)

১৪ বছরের বেশি হলে দৈনিক ১.৬-২ লিটার  (৬-৮ গ্লাস)


মন্তব্য