kalerkantho


ইন্টেরিয়র

মাটির মায়া

মাটির ঘর থেকে পোড়া মাটির দালান। মাটি কিন্তু থাকছেই। হেঁশেলে মাটির তৈজস তো ঐতিহ্য। মাটির সাজসরঞ্জামও সমান জনপ্রিয়। এখন রুচিশীল গৃহসাজে ফার্নিচারেও থাকছে মাটির ছোঁয়া। বিস্তারিত জানাচ্ছেন ইনটেরিয়র ডিজাইনার সাবিহা আক্তার কুমু

২১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মাটির মায়া

বসার ঘরের এক কর্নারে ঝুলিয়ে দিন মাটির ল্যাম্প শেড আর কেবিনেটে রাখুন ছোট ছোট শোপিস

সদর দরজা দিয়েই শুরু হোক মাটির অভ্যর্থনা। দরজার বাইরের দেয়ালের পাশে মাটির বড় চাড়িতে স্বচ্ছ পানিতে কিছু ফুল, গোলাপের পাপড়ি ছেড়ে দিন। হালকা মিষ্টি সুবাসে ভরে থাকবে পুরো সিঁড়িঘর। দরজার পাশে নামের ফলকটি হতে পারে পোড়া মাটির তৈরি। সিঁড়ি ল্যান্ডিংয়ে দেয়ালে টেরাকোটার ওয়াল হ্যাংগিংয়ের আবেদনই অন্য রকম। কিংবা টেরাকোটায় বাঁধানো একটা আয়নাও বসাতে পারেন দেয়ালে। সদর দরজার বাইরে একটু জায়গা পাওয়া গেলে ছোট পরিসরে একটা ল্যান্ডস্কেপ করে ফেলতে পারেন। জায়গা অনুযায়ী কয়েকটি ছোট-বড় ইনডোর প্ল্যান্ট রাখুন। মাটির চাড়ি রাখতে পারলে খুবই ভালো। ফুল না পেলে কিছু ছোট কচুরিপানা ছেড়ে দিন। সঙ্গে রঙিন কয়েকটি ভাসমান মোম। কৃত্রিম কয়েকটি ফুলও শোভা বাড়াতে পারে। এর সঙ্গে ইনডোর প্ল্যান্টের ফাঁকে দু-একটি মাটির পুতুল, হাতি-ঘোড়া রাখলে সদরের আবহটাই বদলে যাবে।   

ঘরের সবখানেই মানিয়ে যায় মাটির ফুলদানি, শোপিস, হ্যাংগিং পিস। মাটির ফুলদানি বিভিন্ন আকারে পাওয়া যায়। মাটির গায়ে খোদাই আর রিলিফের কাজ করা ডেকোরেশন পিসের কদরই আলাদা। হালকা আর গাঢ় রঙে পোড়ানো এই শোপিসগুলো বেছে নিতে পারেন। সুন্দর সুন্দর মাটির শোপিস পাওয়া যায়। টেপা পুতুল, ছোট হাতি, ঘোড়া থেকে শুরু করে ফোক-মোটিফের নানা শোপিস কিনতে পাওয়া যায়। এগুলো দিয়ে সাজাতে পারেন আপনার শোকেস। অথবা বসার ঘরের কোনো এক কোণে ছোট একটি নিচু টেবিল রেখে সাজাতে পারেন মাটির শোপিসে।

ঘর সাজাতে টেরাকোটা এখন হাল ফ্যাশন। দেশীয় সাজ তো আছেই। আধুনিক সাজেও সমান জনপ্রিয় টেরাকোটা। ফুল-লতা-পাতা, গ্রামীণ জীবনের ছবি আঁকা আর বিমূর্ত নকশার পছন্দসই টেরাকোটা বেছে নিন। বসার ঘরের দেয়ালের কোনো একটা পাশে এ মাথা থেকে ও মাথা পর্যন্ত লাগিয়ে নিতে পারেন টানা একটা টেরাকোটার কাজ। আবার শোবার ঘরের পেছনের দেয়ালেও রাখতে পারেন টেরাকোটা। টেরাকোটার বৈচিত্র্য এখন ফার্নিচারে। কাঠ, বেশ বা বাঁশের ফার্নিচারের সঙ্গে টেরাকোটার ফলকজুড়ে নিয়ে নতুনত্ব আনা হচ্ছে গৃহসাজে। সোফা, খাট, কেবিনেটের পাল্লায় এসব টেরাকোটার নকশা শোভা বাড়াচ্ছে।

মাটির ব্যবহার বলে শেষে হবার নয়। ঘরোয়া আড্ডায়-অনুষ্ঠানে ঘরের কোণে, তাকের কোণে, খাবার টেবিলে সারি বেঁধে জ্বালিয়ে দিন মাটির ছোট্ট প্রদীপ। সঙ্গে থাকতে পারে মাটির মোমদানিতে রঙিন মোম। বসার ঘরের সিলিংয়ে কিংবা প্যাসেজের দরজায় ঝুলিয়ে দিতে পারেন টুংটাং মাটির ঘণ্টি। দুই বা তিনটি ঘণ্টি অথবা বেশকিছু ঘণ্টি দিয়ে একটি সুন্দর চাইমও। বিভিন্ন আকৃতির আয়না পাওয়া যায় মাটির ফ্রেমে। খাবার ঘরে হাত ধোয়ার স্থানে কিংবা প্যাসেজেও রেখে দিতে পারেন একটা ছোট মাটির ফ্রেমের আয়না।


মন্তব্য