kalerkantho


প্যান্টে ফিটফাট

আরামদায়ক ও ফ্যাশনেবল পোশাক হিসেবে মেয়েদের কাছে প্যান্ট ভীষণ জনপ্রিয়। একটা সময় মেয়েদের প্যান্ট বলতে শুধু জিন্সই ছিল। হাল-ফ্যাশনে এ তালিকায় যোগ হয়েছে ক্যাপ্রি, কার্গো, ফরমালসহ হরেক রকম প্যান্ট। বাজার ঘুরে প্যান্ট নিয়ে বিস্তারিত লিখলেন পিন্টু রঞ্জন অর্ক

২১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



প্যান্টে ফিটফাট

মেয়েদের প্যান্ট এখন আর কেবল জিন্সের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ক্যাপ্রি, টুইল, গ্যাবার্ডিনসহ নানা ধরনের প্যান্ট পরছে মেয়েরা।

আগে শুধু কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের প্যান্ট পরতে দেখা যেত।   এখন শিক্ষার্থী তো বটেই, কিশোরী, মাঝবয়সী নারী কিংবা করপোরেট কর্মকর্তা—সবাই সাদরে গ্রহণ করছে নানা ধরনের প্যান্ট। ইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের শিক্ষক প্রিয়াঙ্কা বোস বললেন, ‘শাড়ির মতো অত ঝুটঝামেলা নেই। পরতেও বেশ আরাম। স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটাচলা করা যায়। এ ছাড়া কামিজ, টপ ও ফতুয়া সব কিছুর সঙ্গে মানায়। তাই নানা ধরনের প্যান্ট পরছি। ’

ডিজাইনাররা এসব প্যান্টে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। আগে কয়েকটি রং থাকলেও এখন মেয়েদের প্যান্টে নীল, আসমানি, কালো, লাল, গোলাপি, সবুজ, বেগুনিসহ সব রঙের সমাহার দেখা যাচ্ছে।

ক্যাপ্রি

সাধারণত গরমের সময় বেশি পরা হয় ক্যাপ্রি। অনেকের কাছে এটি থ্রি-কোয়ার্টার নামেও পরিচিত। ক্যাপ্রির লম্বা সংস্করণটিকে বলে হাই-ওয়াটারস। এ প্যান্টে হাঁটুর নিচে কাফের মধ্যভাগে বা ঠিক কাফের নিচে এসে শেষ হয়। কিশোরী ও তরুণীদের মধ্যে ক্যাপ্রি প্যান্ট বেশ জনপ্রিয়। ইডেন কলেজের ফিনান্সের ছাত্রী ও ভলিবল খেলোয়াড় হাবিবা রূপা বললেন, ‘খেলার সময় তো ট্রাউজার পরি। কিন্তু প্রাকটিসের সময় ক্যাপ্রি প্যান্টেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। ’

 

ট্রাউজার

আগে শুধু খেলাধুলায় অংশ নিলেই ট্রাউজার পরত মেয়েরা। ঘরেও অনেকে পরত। এখন খেলাধুলা তো বটেই, সকাল-বিকেল হাঁটাচলা, ব্যায়াম কিংবা জগিংয়ের সময় ট্রাউজার পরছে মেয়েরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রের ইয়োগা প্রশিক্ষক নাজনীন সুলতানা জানালেন, ‘আমি তো ট্রাউজার পরেই ইয়োগা করি। এখানে প্রশিক্ষণ নিতে যেসব মেয়ে আসে, তাদের পরনেও থাকে ট্রাউজার। ’ তিনি আরো যোগ করেন, লুজ ফিটেড বলে ট্রাউজার পরে ইয়োগা করার সুবিধা অনেক, বিভিন্ন আসন অনুশীলনের সময় আর ভাবতে হয় না। ’ ক্যাজুয়াল পোশাক হিসেবে বাজারে হরেক রকম ট্রাউজার পাওয়া যাচ্ছে। একরঙা ট্রাউজার যেমন আছে, তেমনি লাল-সবুজ, হলুদ-নীলসহ নানা রঙের সমন্বয়ে তৈরি ট্রাউজারও পাবেন।

 

ফরমাল প্যান্ট

সালোয়ার-কামিজের পাশাপাশি এখন কর্মজীবী নারীদের পরনে শোভা পাচ্ছে ফরমাল প্যান্ট। ছেলেদের ফরমাল প্যান্টের মতো এসব প্যান্টে খুব একটা রঙচঙের বাড়াবাড়ি নেই। কোনো কোনো প্যান্টে সামনে দুই পাশে দুটি আর পেছনে একটি পকেট। কোনোটায় কেবল সামনের পকেটটাই আছে। আবার কিছু প্যান্ট আছে একেবারে পকেটবিহীন। নভো এয়ারের ফ্রন্টডেক্সে কর্মরত আরিফা আফরোজ জানালেন, ‘কালো রঙের ফরমাল প্যান্ট পরেই অফিস করি। এ ছাড়া ফরমাল কোনো অনুষ্ঠানের পোশাক হিসেবে ফরমাল প্যান্টই বেছে নিই। ’ ফরমাল প্যান্টে রঙের খুব একটা বৈচিত্র্য নেই। কালো, ছাই, অফহোয়াইট, স্টাইপ কিংবা সাদা-কালো চেকই চলছে।

 

ডেনিম, টুইল ও গ্যাবার্ডিন

গরমে চলাচলের জন্য বেশ সুবিধাজনক লুজ জিন্স। যারা আঁটসাঁট পোশাক পরতে চান না, তাঁদের জন্য উত্তম স্টাইল এটি। আরেক ধরনের জিন্স আছে, যেগুলো হাঁটুর নিচ থেকে ফিটিং; কিন্তু পায়ের গোড়ালির দিকে ছড়ানো অর্থাৎ বেলবটম। এগুলো বুটকাট জিন্স হিসেবে পরিচিত। যাঁদের শরীরের নিচের দিকটি ভারী—এ প্যান্টগুলো তাঁদের জন্য মানানসই। আর স্লিম মেয়েদের জন্য স্কিন বা বডিফিটেড প্যান্টই উত্তম। ইয়েলোর ডিজাইনার অর্পিতা সমাদ্দার বলেন, ‘মেয়েদের ডেনিমে ওয়াশের বৈচিত্র্য নজরে পরবে। নানা ধরনের ওয়াশের মধ্যে এসিডওয়াশটাই এখন বেশি চলছে। গোড়ালি থেকে কোমর পর্যন্ত পুরোটা প্রিন্টেড ডেনিম মিলবে। টুইল প্যান্টের নকশায় এসেছে কেমোপ্রিন্ট। এ ছাড়া লেইসের ব্যবহার করেও আনা হয়েছে বৈচিত্র্য। ’

 

 

রঙের বাহার

মেয়েদের প্যান্টের শুরুটা ছিল একরঙা আকাশি, নীল বা কালো দিয়ে। এরপর যোগ হলো আরো কিছু রং—হলুদ, লাল, সবুজ, আকাশি, কমলা, মেরুন প্রভৃতি। এখন মাল্টিকালারের প্যান্টের ট্রেন্ড। ক্যাটস আইয়ের ডিজাইনার সাদিক কুদ্দুস বলেন, ডিজাইনারদের কাছে এখন প্যান্টও একটা ক্যানভাস। আগাগোড়া ফুল ও জ্যামিতিক নকশায় ভরপুর। ডোরাকাটা বাঘ কিংবা জিরাফের শরীরের মতো পুরো প্যান্টেই নকশা করা। ছাপা নকশার প্যান্ট তো আছেই। আছে টাইডাই ও প্রাকৃতিক রঙেরও। ফরমাল প্যান্টগুলো সাধারণত একরঙা হয়। কালো ও অফহোয়াইট রঙের প্যান্টগুলোই বেশি চলছে। আর আড্ডা, ঘুরে বেড়ানো কিংবা পার্টিতে পরার জন্যই ক্যাপ্রি, রঙ্গিলা প্যান্টগুলো বেছে নিচ্ছে তরুণীরা। ফুলেল মোটিফের প্যান্টগুলো দারুণ পছন্দ তাদের।

 

কখন কেমন প্যান্ট

সংগ্রহে লাল, কালো, সাদা বা বিভিন্ন রঙের প্যান্ট থাকলে অনুষ্ঠানের ধরন বুঝে বাছাইয়ে সুবিধা হয়। ক্লাস বা প্রেজেন্টেশন কিংবা কর্মক্ষেত্রে ফরমাল প্যান্ট পরাই উত্তম। এসব ক্ষেত্রে রঙের বিষয়টাও মাথায় দরকার। কালো, অফহোয়াইট বা নীল রঙের প্যান্ট বেছে নিতে পারেন। বর্ণিল প্যান্ট এসব ক্ষেত্রে বেমানান। বেড়াতে কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় ডেনিম বেছে নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে নিয়ন, গাঢ় বেগুনি, গাঢ় বাসন্তী, কমলা, খয়েরি, ম্যাজেন্টা, গাঢ় গোলাপি রঙের প্যান্ট উপযোগী। যাঁদের শরীরের নিচের দিকের গঠন একটু ভারী, তাঁদের জিন্স বা ডেনিম এড়িয়ে চলাই ভালো। লুজ ফিটেড প্যান্ট তাঁদের জন্য উত্তম।

 

কোথায় পাবেন

ফ্যাশন হাউস ক্যাটস আই, লা রিভ, ইয়েলো, জেন্টল পার্ক, আরবান ট্রুথ, এক্সটাসিসহ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে পেয়ে যাবেন মেয়েদের প্যান্ট। ফ্যাশন হাউস ছাড়াও মেয়েদের পোশাক পাওয়া যায়—এমন সব দোকানে নানা রকম প্যান্ট পাবেন। এসব প্যান্টের দাম পড়বে ৮৫০ থেকে ৩৫০০ টাকা পর্যন্ত। কাপড়ের মান ও নকশার ওপর দাম কমবেশি হতে পারে।

 

ডিজাইন ও কাটে বৈচিত্র্য

বাজারে নানা কাট ও ডিজাইনের প্যান্ট পাবেন। এগুলো তৈরি হয়েছে ডেনিম, গ্যাবার্ডিন ও টুইলসহ বিভিন্ন ফেব্রিকে। কাটেও আছে বৈচিত্র্য। ন্যারো ও সেমি ন্যারো দুই রকম প্যান্টই চলছে।

কিছু প্যান্টের কোমর থেকে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত একই মাপ। আরেক ধরনের প্যান্ট পাবেন একেবারেই বাহুল্যবর্জিত, স্ট্রেইট কাট। হাঁটুর ওপরে, সামনে ও পেছনে শেডের বৈচিত্র্য নজর কাড়বে। ওয়াশের মধ্যে এসিডওয়াশ ও স্টোনওয়াশই বেশি। কোনো প্যান্টের সামনে দুই পাশে পকেটের পাশ থেকে শুরু করে গোড়ালি পর্যন্ত চিকন লেইসের মতো বিভিন্ন রঙের কাপড় জুড়ে দেওয়া। কোমরের একটু নিচেই আছে মেশিন এমব্রয়ডারির কাজ। জিপারের পাশাপাশি কোনোটায় এক বাটন, কোনোটায় তিন বাটন, আবার কোনোটা আছে বাটন ছাড়া। সামনে বোতাম বা জিপার কোনোটায়ই নেই—এমন প্যান্টও পাবেন। তার পরিবর্তে কোমরের বাম পাশে চলে গেছে জিপার। সঙ্গে হুক, লুপেরও ব্যবস্থা আছে। কিছু গ্যাবার্ডিনের জিপারের ঠিক ওপরে পরপর কয়েকটি বোতাম ব্যবহার করা হয়েছে। প্যান্টের পকেটের বৈচিত্র্য চোখে পড়বে। কিছু প্যান্টের সামনে পকেট নেই একটাও। পেছনে ইউ আকৃতির ছোট দুটি পকেট। ডান পাশের পকেট একেবারে সাদামাটা, কিন্তু বাম পাশের ওপর লেইস দিয়ে ফুলেল মোটিফ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। টুইল ও গ্যাবার্ডিনের কিছু প্যান্টে ক্রস পকেট ব্যবহার করা হয়েছে। ক্রেপ, ডেনিম, টুইল ও গ্যাবার্ডিন—তিন ধরনের প্যান্টেই দেখা গেল সামনে ও পেছনে একাধিক পকেট। কোনো কোনো প্যান্টের সামনে ডান পাশের পকেটের ওপর ছোট ছোট রঙিন পাথুরে বোতামের কাজ করা হয়েছে। এ ছাড়া ফরমাল প্যান্ট ও ট্রাউজারে সামনের দুই পাশে ক্রস পকেটের ব্যবহার বেশি। ক্যাপ্রি, গ্যাবার্ডিন, ডেনিম, টুইলে পুরোটাই ফুলেল মোটিফের প্যান্টও পাবেন।

 

 

বানাতে চাইলে

চাইলে কাপড় কিনে রেমন্ড শপ, ফিট এলিগ্যান্ট, টপটেন, ফেরদৌস, সানমুন টেইলারিং শপ থেকে বানিয়েও নিতে পারেন নিজের পছন্দমতো প্যান্ট। রেমন্ড শপ এলিফ্যান্ট রোড শাখার কাটিং মাস্টার হাসান মাহমুদ জানালেন, প্যান্ট অর্ডার দেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে ডেলিভারি দেওয়া হয়। প্যান্ট পিসের দাম পড়বে ১০৫০ টাকা আর মজুরি ৬৬০ টাকা। ’ ফিট এলিগ্যান্ট মজুরি নেবে ৬৫০ টাকা।   টপটেনে মজুরি ৫০০ টাকা। প্যান্ট পিস পাবেন ৪০০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০০ টাকায়।   ফেরদৌসে মজুরি ৬৯০ টাকা। আর কাপড় পাবেন ৫০০ টাকা থেকে ৪০০০ টাকায়। এ ছাড়া নিউ মার্কেট, চন্দ্রিমা মার্কেট, গাউসুল আজম সুপার মার্কেটসহ বিভিন্ন মার্কেটে দর্জির কাছ থেকেও বানিয়ে নিতে পারেন। মজুরি ৩০০ থেকে ৫৫০ টাকার মধ্যে। তবে ডিজাইন আর ডেলিভারির ওপর মুজরি কমবেশি হতে পারে।


মন্তব্য