ঘুরে ফিরে ছেঁড়া জিন্স-333027 | A টু Z | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বুধবার । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৩ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৫ জিলহজ ১৪৩৭


ফ্যাশন

ঘুরে ফিরে ছেঁড়া জিন্স

ফ্যাশনে জিন্সের চল বহু পুরনো। স্টাইলে রাফ অ্যান্ড টাফ ভাব ফুটিয়ে তুলতে জিন্সে দেওয়া হচ্ছে ডিস্ট্রেসড লুক। লিখেছেন পিন্টু রঞ্জন অর্ক

৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ঘুরে ফিরে ছেঁড়া জিন্স

ছেঁড়া কিংবা পট্টি দেওয়া জিন্সের চল বহু পুরনো হলেও মাঝখানে গত দুই বছর দেখা যায়নি। এই গ্রীষ্মে আবার সেটা জায়গা করে নিয়েছে তারুণ্যের ফ্যাশনে। আগে কেবল ছেলেদের পরনেই দেখা যেত, এখন মেয়েরাও পরছে। আর তরুণদের কথা মাথায় রেখে ডিজাইনরাও এসব প্যান্ট নিয়ে নানা নিরীক্ষা করছেন। 

এ প্রসঙ্গে আমবার লাইফস্টাইলের ডিজাইনার শাহরিয়ার শাকিল জানালেন, এ ধরনের ছেঁড়া-ফাটা জিন্সকে ডিস্ট্রেসড ডেনিম বলা হয়। তরুণদের মধ্যে দারুণ জনপ্রিয়। পছন্দের জিন্সের বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে বড় ধরনের ছেঁড়া তৈরি করে এই ডিস্ট্রেসড লুক দেওয়া হয়। কখনো কখনো এই ছেঁড়া হতে পারে এক পরত সুতা উঠিয়ে  তৈরি, আবার কখনো বা তিনদিক থেকে কেটে একটা পকেটের মতো করে তৈরি করা।’ তিনি আরো বললেন, ‘আগে শুধু ছেলেদের কথা মাথায় রেখে প্যান্টের নকশা করা হতো। কিন্তু হালফ্যাশনে মেয়েদের কাছেও সমান জনপ্রিয় এই ধরনের ডেনিম।’ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর ছাত্রী আফসানা জাহান বললেন, আগে যখন কাউকে এ ধরনের জিন্স পরতে দেখতাম, কেমন ইতস্তত বোধ করতাম—না জানি কে কী বলে। কিন্তু এখন মনে হয় ট্রেন্ডি লুক পেতে ডিস্ট্রেসড ডেনিমের বিকল্প হয় না।’ ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির আইনের ছাত্রী সুমাইয়া জাহান বললেন, ‘এটাই তো এখনকার ফ্যাশন। অনেকেই পরছে। তবে খুব ফরমাল অনুষ্ঠানে পরি না।’ তাঁর কথার সূত্র ধরে সহপাঠী আইরিন বললেন, ‘ঘোরাঘুরি, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা কিংবা পার্টি—এসব ক্ষেত্রেই কেবল পরি। ফ্যাশনটাও ঠিক থাকে।’ আফসানাদের মতো অনেকেই এখন দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন এ রকম ছেঁড়া বা পট্টি দেওয়া জিন্স পরে।

 

ডিজাইনার বলেন

এক্সট্যাসির প্রধান ডিজাইনার তানজিম হক  জানালেন, ‘সাধারণ জিন্স থেকে নানা দিক থেকে আলাদা এই জিন্স। ডিজাইন ও কাটে আছে ভিন্নতা। ছেঁড়া থাকে এক বা একাধিক জায়গায়। কোনো প্যান্টে হাঁটুর ওপর, কোনোটিতে নিচে, আবার কোনো কোনোটায় ওপর-নিচে ছোট ছোট অনেক ছেঁড়া।’ তিনি আরো যোগ করেন, ‘তবে ছেঁড়া বলতে ফাঁকা বা উন্মুক্ত জায়গা বোঝালেও বেশির ভাগ প্যান্টই এখন ছেঁড়া মানে পুরোপুরি ফাঁকা নয়। সাদা বা অন্য রঙের সুতার স্তর রয়েই যায়। সুতার স্তরটি এমনভাবে থাকে যে দূর থেকে দেখলে মনে হবে ছেঁড়া, কাছে গেলে ভুল ভাঙে। সুতা এমনভাবে জুড়ে দেওয়া, যেন শরীর দেখা না যায়।’

আরেক ডিজাইনের প্যান্ট আছে, যার সারা পায়ে ছোট ছোট পট্টি দেওয়া। দেখে মনে হয়, প্যান্টটা বুঝি ছেঁড়া-ফাটাই ছিল, অবশেষে পরার জন্য পট্টি দেওয়া হয়েছে। ছেলে-মেয়ে উভয়ের জন্য আছে এ ধরনের প্যান্ট।

 

ধরন

স্ট্রেইট স্কিন টাইট, বুট কাট, ব্যাগি, তরুণীদের প্যান্টে এমন নানা ধরনের কাট দেখা যাচ্ছে। মেয়েদের শর্ট জিপারের লো রাইজ, সুপার লো রাইজ, রেগুলার রাইজ, হাইওয়েস্ট প্যান্ট ইত্যাদি বেশি চলছে। বৈচিত্র্য আনতে এসব জিন্সে ব্যবহার করা হয়েছে এমব্রয়ডারি। দেওয়া হয়েছে চুমকি, বোতাম ও নানা ধাতব অলংকার। ছেলেদের ছেঁড়া ও পট্টি দেওয়া প্যান্টের বেশির ভাগই ন্যারো শেপের। জিপারের চেয়ে বেশি চলছে স্টিলের অথবা প্লাস্টিকের বোতামওয়ালা প্যান্ট। ছেলে-মেয়ে উভয়ের প্যান্টে ব্যবহূত হচ্ছে সাদা, কালো, লাল, নীল, গোলাপি, চকোলেট, মেরুন, ধূসর আকাশিসহ নানা রং। ডেনিম ও ডেনিম স্টিচ এই দুই ধরনের কাপড়েই তৈরি হচ্ছে এসব প্যান্ট।

 

কোথায় পাবেন, কত দামে

আমবার লাইফস্টাইল, ক্যাটস আই, ইয়েলো, ওয়েসটেক্স, ওটু, প্লাস পয়েন্ট, সেইলর, দর্জিবাড়ি, ফ্রিল্যান্ডের শোরুমে পাবেন এসব প্যান্ট। বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, পুলিশ প্লাজা কনকর্ডসহ বিভিন্ন শপিং মলে পাবেন বিদেশি লিভাইস, আরমানি, ডিজেল ও ডি-অ্যান্ডজি ইত্যাদি ব্র্যান্ডের প্রিন্ট। নন-ব্র্যান্ডের প্যান্ট পাবেন বঙ্গবাজার, নিউ মার্কেট, ধানমণ্ডি হকার্সে।

বিভিন্ন দেশি জিন্সের দাম পড়বে ১১০০ থেকে ৯৫০০ টাকা। বিদেশি ব্র্যান্ডের প্যান্ট পাবেন চার হাজার থেকে ১২ হাজার টাকায়। নন-ব্র্যান্ডের প্যান্ট পাবেন ৪০০ থেকে ১০০০ টাকায়।

 

মডেল : তৃণ ও আজিম

পোশাক : আমবার লাইফ স্টাইল

ছবি : কাকলী প্রধান

মন্তব্য