kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কাজের মানুষ

পদে পদে বিপদ

সৈয়দ আখতারুজ্জামান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ব্রিজ ইনস্টিটিউট অব ট্রেনিং , অ্যান্ড কনসালট্যান্সি

৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



পদে পদে বিপদ

 

অফিস যে খুব নিরাপদ জায়গা তা কিন্তু নয়। পদে পদে আছে বিপদের আশঙ্কা।

বুঝতে হবে তার গতি-প্রকৃতি। নানা কারণে আপনি বিপদে পড়তে পারেন। আপনার চাকরি হুমকির সম্মুখীন হতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাই এখানে আপনার জন্য রইল নানা রকম বিপদ এড়ানোর দশ পরার্মশ।

 

এক.

হতে পারেন আপনি যোগ্য কর্মকর্তা, দক্ষতাও বেশ; কিন্তু এটাই শেষ কথা নয়। যদি অল্প বেতনে আপনার চেয়ে যোগ্য কাউকে পাওয়া যায় তাহলে আপনার চাকরি হুমকির সম্মুখীন হতে পারে।

তাই চাকরির বাজারের খোঁজখবর রাখতে হবে। ‘চাকরি পেয়ে গেছি, মাস শেষে বেতন পাচ্ছি’—মানেই আপনি সম্পূর্ণ নিরাপদ নন। নতুন যে কেউ এই নিরাপত্তা বলয় ভেঙে দিতে পারে।

 

দুই.

বসের সুনজরে থাকাটা নিরাপত্তার একটা ধাপ হিসেবে গণ্য হতে পারে। সুতরাং আপনার কার্যক্রম সম্পর্কে বসের দৃষ্টিভঙ্গি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। বস অখুশি মানে আপনি অথই সাগরে আছেন। দ্রুত কূলকিনারা খুঁজে বের করতে হবে।

 

তিন.

আপনার দক্ষতা যদি প্রয়োজনের তুলনায় কম হয়, তাহলে এটা অবশ্যই বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

যদিও আপনার চোখের সামনেই অনেক অযোগ্য লোক দিব্যি মাস শেষে বেতন নিচ্ছেন—অর্থাৎ তাঁদের চাকরি টিকে আছে। তার মানে এই নয় যে সেটা চিরদিন চলবে। আর ব্যতিক্রম কখনো নিয়ম হতে পারে না। তাই এই সাধারণ কারণগুলো সম্পর্কে আপনি অন্তত সব সময় সচেতন থাকবেন।

 

চার.

আরেকটি বড় ধরনের বিপদ হচ্ছে, আপনি যদি বসের তুলনায় বেশি দক্ষ হয়ে থাকেন আর এ কারণে বস যদি আপনাকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেন। তাই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি দক্ষতা জাহির করা কখনো কখনো কাল হয়ে উঠতে পারে। সাধারণ জ্ঞান ব্যবহার করলেই আপনি এই বিপদগুলো আঁচ করতে পারবেন।

 

পাঁচ.

একইভাবে আপনার অধস্তনরা যদি আপনার চেয়ে দক্ষ হয়ে ওঠেন তাহলেও আপনার চাকরি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আপনি যদি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আপনার অধস্তনের চেয়েও দক্ষ না হয়ে ওঠেন, তাহলে একদিন তাদের সুপারভাইজ করার দক্ষতা আপনি হারাবেন। সেদিন আপনার চাকরি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবেই। শুধু পদবি-বলে খুব বেশি দিন বস হিসেবে টিকে থাকা যায় না।

 

ছয়.

শুনে তাজ্জব বনে যেতে পারেন, আপনি দক্ষ কর্মকর্তা হলে পদে পদে বিপদ ধেয়ে আসতে পারে। কারণ মূলত একটাই, আপনি অন্যদের চেয়ে দক্ষ। আপনি জানেন আর না জানেন, জেনে-বুঝেও মানেন আর না মানেন, তবু শুনে নিন, আপনার চারপাশে শত্রু আছে এবং ফাঁদ পাতা আছে। শত্রুর পেতে রাখা ফাঁদে পা দিয়ে যদি আপনি অফিস রাজনীতির শিকার হন, তাহলে আপনার চাকরি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

 

সাত.

আপনি অন্য কোথাও চাকরি খুঁজছেন বা বর্তমান চাকরি ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন—এমন খবর যদি টপ ম্যানেজমেন্ট জানতে পারে, তাহলেও বিপদ ঘনিয়ে আসতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে মানবসম্পদ বিভাগ আপনাকে ডাকবে। যদি আপনি মূল্যবান হন, আপনাকে ধরে রাখার জন্য কাউন্সেলিং করবে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আপনাকে ডাকবেই না, সুযোগ বুঝে বরখাস্ত করে দেবে। তাই যতক্ষণ চাকরিতে বহাল আছেন, আপনার এ ধরনের কার্যক্রম গোপন রাখুন এবং মনোযোগ দিয়ে কাজ করুন। চাকরি যখন ছাড়বেন, প্রতিষ্ঠানের বিধি মেনেই ছাড়বেন। তাহলেই আর কোনো সমস্যা হবে না।

 

আট.

আপনি যদি প্রতিবাদী ধরনের মানুষ হন এবং প্রতিষ্ঠানের অন্যায় মুখ বুজে সহ্য না করেন, তাহলে আপনার চাকরি হুমকির সম্মুখীন হতে পারে।

 

নয়.

এটা খুবই সাধারণ কথা যে আপনি যদি প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত প্রাত্যহিত বিধিনিষেধ মেনে না চলেন, তাহলে আপনার চাকরি চলে যেতে পারে। কিন্তু এর পরেও অনেকের চাকরি টিকে থাকে।

উদাহরণস্বরূপ, হয়তো খেয়াল করে থাকবেন, অফিসে কেউ কেউ অনেক দেরি করে আসেন, তবু বস তাঁকে বকা দেন না। মোলায়েম শাসনে দায়িত্ব পালন সমাপ্ত করেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের খুব দক্ষ কর্মকর্তাদের এই বিশৃঙ্খলা কখনো কখনো ওভারলুক করা হয়। কিন্তু সব কিছুর সীমারেখা আছে। আপনি প্রতিষ্ঠানের সীমারেখা অতিক্রম করে বিধি ভেঙেও এখনো টিকে আছেন হয়তো। এটা কিন্তু শেষ কথা নয়। যেকোনো দিন আপনার চাকরি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

 

দশ.

নতুন বস মানে নতুন বিপদের আশঙ্কা। নতুন বস এলে আপনার চাকরি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। হয়তো ভালোই ছিলেন আগের বসের অধীনে। সুনামের সঙ্গেই কাজ করছিলেন। এতে কোনো নিশ্চয়তা নেই যে নতুন বস আপনাকে একইভাবে মূল্যায়ন করবেন। সুতরাং নতুন বস মানেই নিজেকে নতুনভাবে স্থাপন করার কাজ শুরু করা।


মন্তব্য