kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কিনতে হবে ঈদের আগে

ঈদে অনেকটা সময় কেটে যাবে রান্নাঘরে। আগেভাগেই কেনাকাটা সেরে ফেলুন। সব কিছু গুছিয়ে রাখুন। এতে কাজ যেমন সহজ হবে, সময়ও বেঁচে যাবে। লিখেছেন সায়রা শিকদার

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



কিনতে হবে ঈদের আগে

মডেল : লাবনী, ছবি : কাকলী প্রধান

কাচ বা সিরামিকের বাসন

ঢাকনাযুক্ত কাচ বা সিরামিকের পাত্রে খাবার অনেকটা সময় গরম থাকে। তাই ঈদে বরাবরের মতো কাচ ও সিরামিকের ক্রোকারিজের আইটেমগুলো যেমন—কারি ডিশ, কারি বাটি, ঢাকনাসহ রাইস বোল, স্যুপ ও হালিম বাটি সেটের চাহিদা বেশি।

ওভেনপ্রুফ হওয়ায় ব্যবহারও সহজ। এসব বোল ও বাটির নকশা ও আকারের ওপর দাম নির্ভর করে। ভালো মানের বাটি বা বোল কিনতে পারবেন ৫০০ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। নতুনত্ব আছে আকর্ষণীয় ডিজাইনের কাচের দোতলা, তিনতলা ট্রে সেটে। এসব ট্রেতে একই সঙ্গে দুই বা তিন ধরনের শুকনা খাবার পরিবেশন করা যায়। কাবাব, সাসলিক, টিকিয়া, কোপ্তা, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই—এ ধরনের শুকনা খাবার পরিবেশন উপযোগী এই সেট। অনেক সময় খাবার মেন্যুর সংখ্যা বেশি হলে ডাইনিং টেবিলে স্থান সংকুলান হয় না। এ ক্ষেত্রে এই ট্রে কম জায়গায় বেশি আইটেমের খাবার পরিবেশন করতে বিশেষ সুবিধা হয়। এ ধরনের ট্রে সেট পাবেন নিউ মার্কেটের ৩ ও ৪ নম্বর গেট-সংলগ্ন চন্দ্রিমা সুপার মার্কেটের ক্রোকারিজ শপ, এলিফ্যান্ট রোড ও গুলশান ডিসিসি মার্কেট এবং মিরপুর মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটে। দাম ৬০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকার মধ্যে। তা ছাড়া সিঙ্গেল ডিভাইডার দেওয়া নানা আকৃতির প্লেট, হাফ প্লেট, ট্রে, বাটিগুলোও কম জনপ্রিয় নয়। এগুলোতেও নানা রকম মুখরোচক খাবার পরিবেশন করা যায়। দাম ২০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকার মধ্যে।

স্টিল ট্রেযুক্ত ফুড ওয়ার্মার

সিরামিকের তৈরি নিচে স্টিলের ট্রেযুক্ত এই কারি ডিশে খাবার গরম থাকে অনেকক্ষণ। ট্রেতে তাপ দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকে। এতে পাত্রটির কোনো ক্ষতি হয় না। কারণ পাত্রের নিচে ফায়ারপ্রুফ স্টেইনলেস স্টিল ব্যবহার করা। জাপানি নকশাবিশিষ্ট এই ট্রে খুব জনপ্রিয়। নিউ মার্কেট ও বড় শপিং মলগুলোর ক্যাটারিং ও ক্রোকারিজের দোকানগুলোয় পাওয়া যাবে এই ট্রে ফুড ওয়ার্মারটি। দাম পড়বে এক হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে।

 

অন্যান্য

মাটি, কাঠ, বাঁশ-বেতের বাসনও খাবার পরিবেশনের জন্য অনেকের কাছে জনপ্রিয়। ঈদের খাবার পরিবেশনে অনেকেই মাটি, কাঠ, বাঁশ-বেতের কারি ডিশ, কারি বাটি, রাইস বোল ব্যবহার করেন। আড়ং, জয়িতা, স্মার্ট হ্যান্ডিক্রাফটসহ বিভিন্ন হস্তশিল্প ও কুটিরশিল্পের দোকানগুলোয় মিলবে এ ধরনের বাসন। দাম ১০০ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা। প্লাস্টিক,  মেলামাইনের মধ্যেও অনেক আকর্ষণীয় দেশীয় বাটি ও বোল পাবেন। আকারে যেমন বৈচিত্র্য আছে, তেমনি অনেক বাটি ও বোলের ঢাকনাও আছে। আরএফএল, বেস্ট বাই-এর ইটালিয়ানো, বেঙ্গল, ন্যাশনাল পলিমারের শোরুমগুলোয়ও পেয়ে যাবেন। এ ধরনের বাসনের দামদর ৬০ থেকে এক হাজার টাকার মধ্যে।

 

বাজারসদাই

 

♦          জামা কাপড়ের বদলে অনেকেই এ ঈদে গৃহস্থালি সামগ্রী কেনেন। ফ্রিজ, ডিপফ্রিজ, ওভেন, মিক্সার, ওয়াশিং মেশিন বা প্রয়োজনীয় গ্যাজেটের একটা তালিকা করুন। সেখান থেকে সাধ্যমতো এক বা একাধিক সামগ্রী কিনতে পারেন।

♦          এই ঈদে প্রচুর থালাবাসন-হাঁড়ি-পাতিল ধোয়ার প্রয়োজন পড়ে। যথেষ্ট পরিমাণ ডিশ ওয়াশিং লিকুইড কিনে রাখুন। এ ছাড়া বাসন মাজার স্পঞ্জ কয়েক রকম কিনে হাতের কাছে রাখুন।

♦          ঈদে রান্না বা ধোয়ামোছাতেও অনেকে বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করতে চান। পানি ফোটানোর ঝামেলা এড়াতে পানির ফিল্টার কিনে রাখতে পারেন।

♦          কাঁচা বাজারের জন্য আলাদা লিস্ট করুন। প্রয়োজন অনুসারে বাজার সেরে রাখুন।

♦          ঈদের পর সাধারণত দুই দিন সুপারশপ বা দোকানপাট বন্ধ থাকে। বাজার মিললেও পণ্যের সরবরাহ কম থাকে। বাজারের লিস্টিতে এসব বিষয় মাথায় রাখুন।

♦          অতিথি আপ্যায়ন ও বিশেষ মেন্যু রান্নার জন্য টক দই, দুধ, ডিম, পনির—এ ধরনের খাবার বেশি করে কিনে রাখতে পারেন।


মন্তব্য