kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

বিপজ্জনক পাঁচ বোলার

খালিদ রাজ

৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বিপজ্জনক পাঁচ  বোলার

লাসিথ মালিঙ্গা (শ্রীলঙ্কা)

ইদানীং মাঠের বাইরেই বেশি দেখা যায় তাঁকে। চোটে জর্জরিত লাসিথ মালিঙ্গাকে মাঠে ফিরতে না ফিরতেই চলে যেতে হচ্ছে বাইরে।

এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টি দিয়ে অনেক দিন পরে ফিরেছিলেন শ্রীলঙ্কা দলে। আর ফিরেই দেখিয়েছেন চোট কিছুই কেড়ে নিতে পারেনি তাঁর ধারের। বিস্ফোরক বোলিংয়ে পুড়িয়ে ছাই করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যাটিং লাইনআপ। ১৯৯৬ সালে বিশ্বকাপের পর ২০১৪ সালে দ্বীপ দেশটি আবার ক্রিকেট-উৎসবে মেতেছিল তাঁর হাত ধরে। মালিঙ্গার অধীনেই যে বাংলাদেশ থেকে ট্রফি জিতে ফিরেছিল শ্রীলঙ্কা।

শ্রীলঙ্কার গলে জন্ম নেওয়া ৩২ বছর বয়সী এই পেসারের টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক ২০০৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। ক্রিকেট বিশ্বে তিনি টি-টোয়েন্টি ‘স্পেশালিস্ট’ বোলার হিসেবেই পরিচিত। তাঁর জন্য এবারের কুড়ি ওভারের বিশ্ব আসর আরো সুবিধার হওয়ার কথা, টুর্নামেন্টটি ভারতে বলে। আইপিএলের দল মুম্বাই ইন্ডিয়ানসে খেলছেন তিনি কয়েক বছর ধরে। সেই অভিজ্ঞতা নিশ্চয় কাজে লাগবে এবার!

ডেল স্টেইন (দক্ষিণ আফ্রিকা)

বয়স পেরিয়ে গেছে ৩২। চোটের সঙ্গে সখ্য তাঁর ইদানীং খুব বেশি। তা ছাড়া গত দুই বছর ধরে দক্ষিণ আফ্রিকার জার্সিতে খেলেননি কোনো টি-টোয়েন্টি ম্যাচ! তাতে কি, আইপিএল কিংবা ঘরোয়া টি-টোয়েন্টির আসর তো খেলেছেন ডেল স্টেইন। সেটাই যথেষ্ট তাঁর সেরাটা দেওয়ার জন্য।

দক্ষিণ আফ্রিকার ফালাবোরায় জন্ম নেওয়া স্টেইনের টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক ২০০৭ সালে জোহানেসবার্গে। এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেছেন ৩৮টি। ১৫.৯৮ গড়ে নিয়েছেন ৫৫ উইকেট। ২০০৭ সালে পোর্ট এলিজাবেথে ৯ রানে ৪ উইকেট এখন পর্যন্ত তাঁর সেরা বোলিং ফিগার। ৪ উইকেট নিয়েছেন তিনি আরো একবার, ২০১৪ সালে চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। গতি আর সুইংয়ে ব্যাটসম্যানদের কাবু করা এই পেসার ভারতের টুর্নামেন্টের আরো বেশি ভালো করার কথা। আইপিএলে খেলার কারণে সেখানকার কন্ডিশন যে তাঁর খুব ভালোভাবে জানা। এখন দেখা যাক!

রবিচন্দ্রন অশ্বিন (ভারত)

ভারতীয়দের কাছে তিনি ‘সর্বকালের সেরা’ স্পিনার হয়ে উঠেছেন। খুব বাড়াবাড়ি হলেও যেভাবে বল হাতে ম্যাচের গতিপথ পাল্টে দিচ্ছেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন, ক্রিকেট পাগল ভারতীয়দের কাছে অমন আখ্যা তো পাবেনই।

টি-টোয়েন্টির বিশ্ব আসর যেহেতু এবার ভারতে, তাই ভারতীয় সমর্থকদের প্রত্যাশা অনেক বেশি হওয়া স্বাভাবিক। আর এই প্রত্যাশা পূরণের পথে অনেকে অশ্বিনের বোলিংয়ের ওপর জোর দিচ্ছেন বেশি। কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে পেসাররা যেখানে লজ্জায় মুখ লুকান, সেখানে স্পিনার হয়েও ব্যাটসম্যানদের মনে ভীতি ছড়িয়ে চলেছেন তিনি। সবচেয়ে বেশি জানে সম্ভবত শ্রীলঙ্কা। বিশাখাপত্তনমে লঙ্কানদের বিপক্ষে ৪ ওভারে ৮ রান খরচায় নিয়েছিলেন ৪ উইকেট। ২০১০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেক হওয়া ২৯ বছর বয়সী স্পিনারের ৩৬ ম্যাচে শিকার ৪৩ উইকেট।

মোহাম্মদ আমির (পাকিস্তান)

ক্রিকেট আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে আবির্ভাব তাঁর। ভুল পথে পা বাড়িয়ে খসে যেতেও সময় লাগেনি মোহাম্মদ আমিরের। স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে গায়ে কলঙ্কের কালি মেখে ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত হলেও ফিরে আসার প্রহর গুনেছেন সব সময়। অতঃপর এ বছরই ফিরেছেন ২২ গজের মঞ্চে। এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টিতে ভারতের বিপক্ষে ২৩ বছর বয়সী পেসারের প্রথম ওভারটা ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে থাকবে অনেক দিন। রোহিত শর্মা ও আজিঙ্কা রাহানেকে যেভাবে আউট করেছেন, এক কথায় অসাধারণ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে আবার ৪ ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে তাঁর শিকার ২ উইকেট। আমির ‘ম্যাজিক’ দেখতে প্রস্তুত থাকুন বিশ্ব টি-টোয়েন্টিতে!

ট্রেন্ট বোল্ট (নিউজিল্যান্ড)

২০১৫ সালের বিশ্বকাপে ব্যাটসম্যানদের কঠিন পরীক্ষা নিয়েছেন ট্রেন্ট বোল্ট। তাঁর গতি, বিশেষ করে সুইংয়ে খেই হারিয়েছেন বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানরা। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের আসরে ২২ উইকেট নিয়ে যৌথভাবে সেরা বোলার হয়েছিলেন তিনি মিশেল স্টার্কের সঙ্গে। টি-টোয়েন্টি খুব বেশি খেলেননি। ২০১৩ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক হওয়ার পর খেলেছেন মাত্র ১১ ম্যাচ, সেখানে তাঁর উইকেট সংখ্যা ১৫। উইকেট কিংবা ম্যাচের সংখ্যায় আসলে মাপা যাবে না তাঁকে, সুইংয়ের জাদুতে তিনি যেকোনো সময় ম্যাচের গতিপথ পাল্টে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। কিন্তু ভারতের পিচ তো স্পিন সহায়ক?

তাতে কি, আইপিএলে খেলে এই পিচের অভিজ্ঞতা তো আগেই নেওয়া আছে বোল্টের!


মন্তব্য