সেরা পাঁচ ম্যাচ-331834 | বিশ্ব টি-টোয়েন্টি ২০১৬ | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

রবিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১০ আশ্বিন ১৪২৩ । ২২ জিলহজ ১৪৩৭

সেরা পাঁচ ম্যাচ

সামীউর রহমান

৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সেরা পাঁচ ম্যাচ

 

১২০ বলের খেলায় রোমাঞ্চ তো পরতে পরতে। তবু এমন কিছু ম্যাচের কথা আলাদা করে বলতেই হয়, যা হার মানায় আলফ্রেড হিচককের সাসপেন্স কিংবা জেমস বন্ডের থ্রিলারকেও! শেষ বলের নাটকীয়তা, মুহূর্তেই রং পাল্টে যাওয়া, কৌতুকময় বোল-আউট কিংবা ছয় ছক্কার রোমাঞ্চে ভরা সেই সব ম্যাচের স্মৃতি নিয়ে এ আয়োজন

ভারত-পাকিস্তান, গ্রুপ পর্ব-২০০৭

ম্যাচ টাই, ভারত বোল-আউটে জয়ী

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই নাটকীয়তা আর রোমাঞ্চের হাতছানি, সেখানে খেলাটা যখন টি-টোয়েন্টি তখন প্রত্যাশা তো আকাশচুম্বি! ২০ ওভারের ক্রিকেটে সেবারই প্রথম মুখোমুখি হয়েছিল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ভারত করলো ১৪১ রান, জবাবে পাকিস্তানও কি না ২০ ওভারে ৭ উইকেটে থামল সেই ১৪১ রানেই। টেস্ট বা ওয়ানডে হলে ফল হত ‘টাই’, কিন্তু এ যে টি-টোয়েন্টি! এখানে সবেতেই বিনোদন।  জয়ী খোঁজার প্রক্রিয়ার নাম ‘বোল আউট’, ফুটবলের টাইব্রেকারের মত ফাঁকা তেকাঠিতে বল করবেন দুই দলের পাঁচজন করে বোলার। ভারতের প্রথম তিন বোলারই স্টাম্প ভাংলেন আর পাকিস্তানের প্রথম তিনজনের বলই যায় স্টাম্পকে পাশ কাটিয়ে। ফলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম বোল আউটে জয়ী দলের নাম ভারত, পরে যাদের হাতে ওঠে আসরের শিরোপাও।

ভারত-ইংল্যান্ড, সুপার এইট-২০০৯

ভারত ১৮ রানে জয়ী

চার ছক্কার ফুলঝুড়ি দেখতেই না লোকে যায় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে। যুবরাজ সিং সেদিন কিংসমিডের দর্শকদের পয়সাউশুল বিনোদনই উপহার দিয়েছিলেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে বীরু-গৌতির ব্যাটে দারুণ শুরু পেয়ে গেছে এমএস ধোনির দল, মাঝে ট্রেমলেটের ছোট্ট ঝটকায় দ্রুত কিছু উইকেট পতন, এবং যুবরাজের দৃশ্যপটে আগমণ। স্টুয়ার্ট ব্রডের করা ১৯তম ওভারের আগে যুবরাজের রান ৬ বলে ১৪, এরপর যা হয়েছিল সেটা বর্ণনা করার ভাষা হয় না! দুই ওভারের মাঝের সময়টায় অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফের সঙ্গে খানিকটা উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছিল ‘যুবি’র, ঝালটা ঝাড়েন ব্রডের উপর। প্রথম বলটা মাঠ পেরোলো হাউইবাজির মত, তারপর একে বাকি পাঁচটা বলও। কখনো ফ্লিকে , কখনো একস্ট্রা কাভারের উপর দিয়ে..বল যেন সেদিন যুবরাজের ইচ্ছার বশ!১২ বলে হাফসেঞ্চুরির যে রেকর্ডটা গড়েছেন যুবরাজ, ভাঙ্গাগড়ার এই যুগেও সেটা অক্ষত। জবাবটা ইংল্যান্ডও খারাপ দেয়নি, ২১৮ রানের জবাবে তারা থামে ঠিক দুইশ রানে। কিন্তু যুবরাজের অমন ইনিংসের পর প্রতিপক্ষ কি আর জিততে পারে!

 

পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়া

সেমিফাইনাল-২০১০

অস্ট্রেলিয়া ৩ উইকেটে জয়ী

সেন্ট লুসিয়ায় টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তান দুই আকমল—কামরান (৫০) ও উমরের (৫৬) হাফ সেঞ্চুরির ওপর ভর দিয়ে ৬ উইকেটে স্কোরে জমা করেছিল ১৯১ রান। অস্ট্রেলিয়ার কঠিন লক্ষ্যকে আরো কঠিন করে তুলেছিল সেদিন পাকিস্তানের বোলাররা। তবে ক্যামেরন হোয়াইট ও মাইক হাসির ব্যাটে জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে অসিরা।  শেষ ওভারে জয়ের জন্য ১৮ রান কঠিন সমীকরণই,সাঈদ আজমলের  প্রথম বলে মিচেল জনসন ১ রান নিয়ে স্ট্রাইক দেন মাইক হাসিকে। এরপর হাসি  আজমলের টানা চার বলে ৬, ৬, ৪, ৬ মেরে এক বল বাকি থাকতেই অস্ট্রেলিয়ার জয় নিশ্চিত করেন।

 

শ্রীলঙ্কা-নিউজিল্যান্ড

সুপার এইট-২০১২, ম্যাচ টাই

শ্রীলঙ্কা সুপার ওভারে জয়ী

ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেদিন নিশ্চিত জেতা ম্যাচ যে টাই করে বসেছিল শ্রীলঙ্কা। নিউজিল্যান্ড  ৭ উইকেটে তুলেছিল ১৭৪ রান।জবাবে টিম সাউদির শেষ ওভারে ৫ বলে ৭ রান নিলে জিততে ১ রান দরকার পড়ে স্বাগতিকদের। কিন্তু শেষ বলে রানটা নিতে থিরিমানে রান আউট হলে ম্যাচটি শেষ হয় টাইয়ে। পরে সুপার ওভারে  ম্যাচটি জিতে নেয় শ্রীলঙ্কা।

 

নেদারল্যান্ডস-আয়ারল্যান্ড

গ্রুপ পর্ব-২০১৪

নেদারল্যান্ডস ৬ উইকেটে জয়ী

টেস্ট পরিবারের বাইরের দুটো দলের খেলা এতটা রোমাঞ্চ ছড়াবে, সেটা কেই বা আগে ভেবেছিল! সিলেটের নতুন স্টেডিয়ামে  আইরিশদের সঙ্গে ডাচদের ম্যাচটাকে আসরের অন্যতম সেরা ম্যাচ বরে রায় দেবেন অনেকেই।প্রথম পর্বের শীর্ষ দল হিসেবে সুপার টেনে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে হলে শুধু জিতলেই চলবেনা নেদারল্যান্ডসকে,রানরেটটা বাড়াতে হতো। এমন ম্যাচে আইরশিরাদের টসে হেরে ব্যাট করতে পাঠায় নেদারল্যান্ডস। ২০ ওভারে আয়ারল্যান্ড করে ৪ উইকেটে ১৮৯ রান। মূলপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জনের জন্য ১৪.২ ওভারেই এই রান তাড়া করে জিততে হতো ডাচদের।  স্টিভেন মাইবার্গের ১৭ বলে হাফসঞ্চুেরির সঙ্গে টম কুপার এবং ওয়েসলি বারেসির মারকাটারি ব্যাটিংের সুবাদে মাত্র ১৩ ওভার ৫ বলেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় নেদারল্যান্ডস।

মন্তব্য