kalerkantho

এমপির ভগ্নিপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বী

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এমপির ভগ্নিপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বী

আব্দুস সালাম

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন চারজন। তাঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে দুজন এবং জাতীয় পার্টি থেকে দুজন ছিলেন। তবে তিনজনের প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় এখন প্রার্থী বলতে শুধু আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী স্থানীয় এমপি আয়েন উদ্দিনের ভগ্নিপতি আব্দুস সালাম। সালাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিও।

একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন আফজাল হোসেন বকুল। কিন্তু তাঁর প্রার্থিতাও বাতিল হয়েছে। ফলে এখন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার দোরগোড়ায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী।

যদিও প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল করেছিলেন জাতীয় পার্টির দুই প্রার্থী শহিদ ইবনে শাহাদাত হোসেন ও কামরুজ্জামান বুলু। কিন্তু তাঁদের কপাল পুড়েছে। প্রথম দফায় আপিল আবেদনে প্রার্থিতা ফিরে পাননি। আর রাগে-ক্ষোভে আপিলই করেননি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আফজাল হোসেন বকুল।

জানতে চাইলে গতকাল আফজাল হোসেন বকুল বলেন, ‘মনোনয়নপত্র কেন বাতিল হলো সেটি বড় রহস্যজনক। কিন্তু আমি কোনো আপিল আবেদন করিনি। মনোনয়নপত্র দাখিলের পর থেকেই আমাকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তাই আর আপিল আবেদন করিনি নিজের বিপদ যেন না আসে এই ভয়ে।’

মোহনপুর উপজেলার ঘাসিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের উপপ্রচারবিষয়ক সম্পাদক আফজাল হোসেন বকুল বলেন, ‘মনোনয়ন বাতিল হয়েছে দুইজনের নাকি স্বাক্ষর ছিল না। কিন্তু আমি মনোনয়ন দাখিলের সময় বারবার দেখেই দাখিল করেছি। ২৫০ জনের স্বাক্ষর নিয়েই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। পরে কিভাবে দুইজনের স্বাক্ষর ছাড়া পড়ল তা অবগত নই।’

তিনি আরো বলেন, ‘মনোনয়নপত্র দাখিলের দিনেও আমার লোকজনের ওপর হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। ধাওয়া করা হয়েছিল। ফলে প্রাণভয়ে আমি মনোনয়নপত্রও দাখিল করতে যেতে পারিনি। প্রস্তাবক ও সমর্থকের হাত দিয়ে মনোনয়নপত্র পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। পরে সেটি বাতিল করে দেওয়া হয়। এখন আর সেটি নিয়ে মাথাব্যথা নাই। নিজের জীবন বেঁচে থাকলে সাধারণ মানুষের খেদমত করতে পারব।’

মনোনয়ন বাতিল হওয়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী কামরুজ্জামান বুলু বলেন, ‘দল থেকে প্রথমে আমাদের দুইজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। আমরা দুজনেই লাঙল প্রতীকে মনোনয়ন দাখিল করি। কিন্তু সর্বশেষ গত ১৪ ফেব্রুয়ারি আমাকেই বৈধ প্রার্থী বলে জাতীয় পার্টি থেকে চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু আপিল আবেদনে সেই চিঠি গ্রহণ করা হয়নি। ফলে দুইজনের প্রার্থিতাই বাতিল হয়েছে।’

জাতীয় পার্টির আরেক প্রার্থী শহিদ ইবনে শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘দুইজনই লাঙল প্রতীক নিয়ে মনোনয়ন দাখিল করায় প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে।’

এদিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আপিলকারী ১০ প্রার্থীর মধ্যে ছয়জন শুনানিতে অংশ নেন। তবে জেলা প্রশাসক তাঁদের মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। এ ছাড়া আপিল শুনানিতে অনুপস্থিত থাকার কারণে অন্য চারজন তাঁদের প্রার্থিতা ফিরে পাননি। সব মিলিয়ে ১৬ জনের প্রার্থিতা বাতিল হয় যাচাই-বাছাইকালে। এর মধ্যে আপিল করা ১০ জনেরও প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে।

রাজশাহীর যে ১০ জন প্রার্থী আপিল করেছিলেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মোহনপুর উপজেলার চেয়ারম্যান পদের প্রার্থী শহিদ ইবনে শাহাদাত হোসেন ও কামরুজ্জামান বুলু, বাঘা চেয়ারম্যান প্রার্থী ও জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেরাজুল ইসলাম মেরাজ ও দুর্গাপুরের চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল মজিদ সরদার প্রমুখ।

 

মন্তব্য