kalerkantho

সিপিবি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কমিউনিস্ট ঐক্যের ডাক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ মার্চ, ২০১৯ ২৩:১৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিপিবি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কমিউনিস্ট ঐক্যের ডাক

ছবি: কালের কণ্ঠ

কমিউনিস্ট ঐক্যের ডাক দিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) নেতারা। পার্টির ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তারা বলেছেন, ইতিহাস স্বাক্ষী দেয় সবাইকে ম্যানেজ করা যায় কিন্তু শত্রুরাও জানে কমিউনিস্টদের ম্যানেজ করা যায় না। তাই শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য কমিউনিস্টদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

আজ বুধবার রাজধানীর পুরানা পল্টনস্থ মুক্তি ভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন পার্টির সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান খান ও সহিদুল্লাহ চৌধুরী, ঐক্য ন্যাপ সভাপতি পংকজ ভট্টাচার্য, বাসদ সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, ভাষা সংগ্রামী কামাল লোহানী ও পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম। সভা পরিচালনা করেন পার্টির সহকারী সাধারণ সম্পাদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন।

সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, দেশে চলছে ভয়ংকর পরিস্থিতি। ফ্যাসিবাদের লক্ষণগুলো স্পষ্ট। জনসমর্থনহীন সরকার ‘নির্বাচনকে রাষ্ট্রায়ত্তকরণ’ করেছে। এর অভিঘাত রাষ্ট্রের মতো শাসকদলের ওপরও পড়বে। তিনি বলেন, শাসকগোষ্ঠীর সৃষ্ট নৈরাজ্য ফ্যাসিবাদকে বিস্তৃত করবে। তাই বর্তমানে দেশে যে রাজনৈতিক শূন্যতা চলছে সে শূন্যতা কমিউনিস্টদের পূরণ করতে হবে।

পার্টির সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান খান বলেন, বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান আন্দোলনের কর্মী ছিলেন। কিন্তু কমিউনিস্টরা পাকিস্তান আন্দোলনের জালে না জড়িয়ে সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে দেশ ভাগের বিরুদ্ধে আবস্থান নিয়েছিল। তাই পাকিস্তানের ২৩ বছর তাদেরকে নিষ্ঠুর নিপীড়ন ভোগ করতে হয়েছে। 

জননেতা পংকজ ভট্টাচার্য বলেন, বাঙালি জাতির ইতিহাসে সিপিবি ও কমিউনিস্টদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সংঘঠিত কৃষক আন্দোলন, শ্রমিক আন্দোলন, ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় মুক্তির আন্দোলনে কমিউনিস্টদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কমিউনিস্ট ও বাম-প্রগতিশীলদের ঐক্য গড়তে কমিউনিস্ট পার্টি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সাবেক সভাপতি সহিদুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ক্ষমতাসীনরা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। জনগণ থেকে বিচ্ছিন্নতা ফ্যাসিবাদের ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি করছে। বামপন্থীদের ঐক্যবদ্ধভাবে এ পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে।
 
বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান এ অঞ্চলে কমিউনিস্ট আন্দোলনের একশ বছরের এবং কমিউনিস্ট পার্টির ৭১ বছরের ইতিহাস বর্ণনা করে এ দেশের জাতীয় ও শ্রেণি মুক্তির আন্দোলনে কমিউনিস্ট পার্টির ভূমিকার ভুয়সী প্রশংসা করেন। 

ভাষাসংগ্রামী কামাল লোহানী বলেন, মুক্তিযুদ্ধে রণক্ষেত্রে কমিউনিস্টরা যেমন লড়াই করেছে তেমনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সমর্থন আদায় সর্বাত্মক ভূমিকা রেখেছে।

আলোচনা সভার শুরুতে পার্টির লাল পতাকা উত্তোলন করা হয়। উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী গণসংগীত পরিবেশন করে। আলোচনা সভা মঞ্চে ‘একতা অনলাইন টিভি’র পরীক্ষামূলক সম্প্রচার উদ্বোধন করেন পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।

মন্তব্য