kalerkantho


পৈশাচিক উল্লাসে বেপরোয়া ক্ষমতাসীনরা : রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক    

২১ জানুয়ারি, ২০১৯ ০১:৫০



পৈশাচিক উল্লাসে বেপরোয়া ক্ষমতাসীনরা : রিজভী

রুহুল কবীর রিজভী। ফাইল ছবি

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী অভিযোগ করেছেন, নোয়াখালীর সূবর্ণচরের নির্যাতিত নারীর আহাজারি না থামতেই নোয়াখালীর কবিরহাটেও গণধর্ষণ ঘটিয়েছে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা। তাঁর অভিযোগ, কবিরহাটের ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের ওই নির্যাতিত নারীর স্বামী যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে মিথ্যা মামলায় কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে। তিনি এই গণধর্ষণকে মনুষ্যত্বহীনতার দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে বলেন, ভুয়া ভোটের মিথ্যা জয়ে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা পৈশাচিক উল্লাসে মেতে উঠেছে। কুিসত অপকর্ম করতে তারা এখন বেপরোয়া।
 
গতকাল রবিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে নোয়াখালীর কবিরহাটের স্থানীয় যুবদল নেতার স্ত্রী নির্যাতনের ঘটনা তুলে ধরে এই অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে দলের নেতা আবুল খায়ের ভুঁইয়া, আতাউর রহমান ঢালী, আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
 
কবিরহাটে নির্যাতিতার আশু সুস্থতা কামনা করে দলের নেতাকর্মীদের এই নির্যাতিত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান রিজভী। তিনি বলেন, এরা (ক্ষমতাসীন দল) বিরোধী দলের সহায়-সম্পত্তি দখল ও লুটের পাশাপাশি নারীদের ওপর হানাদার বাহিনীর কায়দায় ঝাঁপিয়ে পড়ছে, এরা শকুনি দৃষ্টি নিয়ে সারা দেশে নির্ভয়ে শিকার করে বেড়াচ্ছে। এদের হাত থেকে মা-বোন-শিশু কেউই রেহাই পাচ্ছে না। এদের নিষ্ঠুরতায় বাংলাদেশ এখন আদিম অন্ধকার যুগে প্রবেশ করেছে। আইনের ধরাছোঁয়ার বাইরে বলেই আওয়ামী যুবলীগ ও ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের বেপরোয়াভাব এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে। ভোট ডাকাতির জয়ে ক্ষমতাসীনরা অহংকার ও উন্মত্ততায় বিচার বুদ্ধি হারিয়ে বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।
 
লক্ষ্মীপুরের বসিকপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানীয় বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুন নবীকে সন্ত্রাসীরা গুলিবর্ষণ করে গুরুতর আহত করার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি করেন রিজভী।
 
বিএনপির এই নেতা বলেন, গতকালকে (শনিবার) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনগণের পকেট কাটার টাকায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ছিল রাষ্ট্রের মালিক জনগণের সঙ্গে আরেকটি অবজ্ঞাভরা মশকরা। এই ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে গতকাল গণতন্ত্র হত্যার উত্সবে পরিণত করা হলো। নির্বোধ স্তাবকরা ছাড়া কে ছিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পরাধীন মঞ্চে? আপদমস্তক ভিতু, ফন্দিবাজ, পরান্নজীবী, কৃপাপ্রার্থী, উমেদার ও প্রবঞ্চকদের ভিড় ছিল। জনগণের কোটি কোটি টাকা শ্রাদ্ধ করে এই উত্সব করা হয়েছে।
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তিনি (শেখ হাসিনা) বলেছেন, জনগণ নাকি এবার স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে। তার এমন বক্তব্যে জনগণ হাসবে না কাঁদবে তা তারা ভেবে পাচ্ছে না। যখন মহাভোট ডাকাতিতে ভোটাধিকার হারা জনগণ ব্যথিত, বিমর্ষ ও বাক্যহারা তখন তাদের নিয়ে এ ধরনের বক্তব্য নিষ্ঠুর রসিকতা ছাড়া আর কিছুই নয়। 
 
রিজভী বলেন, সরকার বৈধতা পেতে এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেনদরবার শুরু করেছে। বিশ্বের গণতন্ত্রকামী মানুষ ও তাদের নির্বাচিত সরকারের কাছে এ রকম নির্বাচনের কোনো কানাকড়ি মূল্য নেই।


মন্তব্য