kalerkantho


নৌকা জেতাতে মরিয়া শাহীন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৭:৩৬



নৌকা জেতাতে মরিয়া শাহীন

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার একটি কথায় সব কষ্ট আর অভিমান ভুলে ভোটের মাঠে নেমে পড়লেন ঢাকা-২ আসনের জননন্দিত নেতা শাহীন আহমেদ। নিজের বিশাল কর্মীবাহিনী নিয়ে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ভোট চাইছেন নৌকা প্রতীকের জন্য।

অথচ মাত্র কদিন আগেও শাহীন আহমেদ ছিলেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দৌঁড়ে খুবই এগিয়ে থাকা নেতা। দীর্ঘদিন ধরে যিনি একটি আসনের মানুষকে এক সুতোয় গেঁথে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন, ত্যাগী আর নির্যাতিত নেতাকর্মীদের আশ্রয়স্থল ছিলেন, সেই শাহীনকে নিয়ে সাধারণ মানুষের মনেও জ্বলে উঠেছিলো আশার বাতি। অগণিত কর্মী সমর্থক নিয়ে তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন এ অঞ্চলের মানুষের মাঝে নতুন সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলার। সেই তিনি সবরকম সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও শেষপর্যন্ত মনোনয়নবঞ্চিত।

আওয়ামী লীগের নির্যাতিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের আশ্রয় হতে গিয়ে নিজেও কম হয়রানির শিকার হননি শাহীন আহমেদ। এ আসনের সাংসদ খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের অনুসারীদের হাতে ন্যাক্কারজনকভাবে মার খেয়েছেন শাহীন সমর্থক নেতাকর্মীরা। মামলা হামলার ভারে ন্যুব্জ অনেক নেতাকর্মী এলাকাছাড়া হয়েছিলেন। সে অবস্থায়ও জনপ্রিয়তায় অনেকখানি এগিয়ে ছিলেন শাহীন আহমেদ।

কিন্তু মনোনয়ন বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ আসনে কামরুল ইসলামকেই মনোনয়ন দেওয়া হয়। এরপর কামরাঙ্গীরচর, কেরানীগঞ্জ, আমিনবাজার, ভাকুর্তা, তেতুলঝোড়া এলাকায় হাজার হাজার নেতাকর্মী ক্ষোভে মুষড়ে পড়েন। তারা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করতে থাকেন।

এক পর্যায়ে গত ২৬ নভেম্বর শাহীন আহমেদকে গণভবনে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি একান্তে কথা বলেন শাহীনের সঙ্গে।

জানা গেছে, ওই বৈঠকে শাহীন আহমেদের মাথায় হাত বুলিয়ে নতুন আশায় জাগিয়ে তোলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। ভবিষ্যতে যে কোনো সময় শাহীনের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় শাহীন তার বিরুদ্ধে বিএনপি জামায়াত সরকারের সময়ে হওয়া ২৯টি মামলার বিষয়টি তুলে ধরেন। একইসঙ্গে বিগত পাঁচ বছরে খাদ্যমন্ত্রীর রোষাণলের শিকার হয়ে তার যে অগণিত নেতাকর্মী মামলা হামলার শিকার হয়ে এলাকাছাড়া, সেসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন শাহীন। এ বিষয়গুলোও তিনি দেখভাল করবেন বলে শাহীনকে আশ্বস্ত করেন।

এরপর নতুন উদ্যমে ভোটের মাঠে নেমে পড়েন শাহীন আহমেদ। তার সমর্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা কাটিয়ে তোলার চেষ্টা করেন। সবাইকে নতুন করে জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়ে নেমে পড়েন ভোট চাইতে। একইসঙ্গে দলীয় মনোনীত প্রার্থী কামরুল ইসলামের সঙ্গে বসে শলাপরামর্শ করে নৌকা প্রতীককে বিজয়ী করতে নানারকম পরিকল্পনা করেন।

জানা গেছে, ঢাকার উপকণ্ঠ কামরাঙ্গীরচর, পাশ্ববর্তী উপজেলা কেরানীগঞ্জের সাতটি ইউনিয়ন এবং সাভারের আমিনবাজার, তেতুলঝোড়া ও ভাকুর্তা ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ঢাকা-২ আসন একসময় ছিলো বিএনপির ঘাঁটি। এখানে বিএনপি মনোনিত প্রার্থী হলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমান উল্লাহ আমান। জনপ্রিয়তার দিক থেকে আমান এখানে শক্তিশালী প্রার্থী।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিএনপি জোটের প্রার্থী আমান উল্লাহ আমাদের বিরুদ্ধে ভোটযুদ্ধে জিততে হলে আওয়ামী লীগ জোটেরও দরকার ছিলো জনপ্রিয় ও শক্তিশালী প্রার্থী। সেদিক থেকে অনেকটাই পিছিয়ে ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। কারণ, এলাকায় তিনি জনবিচ্ছিন্ন নেতা বলেই বেশি পরিচিত। মন্ত্রিত্ব পেয়েও এলাকার উন্নয়নে তিনি মনযোগী ছিলেন না। গুটিকয়েক নেতার পরামর্শ শুনে আওয়ামী লীগেরই অন্তপ্রাণ ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের দূরে সরিয়ে রাখেন তিনি। শুধু তাই নয়, নানা কারণে আওয়ামী ঘরানার নেতাকর্মীরাই বেশি নির্যাতনের শিকার হন দল ক্ষমতায় থাকার পরেও।

এসব কারণে স্থানীয় সাংসদ খাদ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হয় নেতাকর্মীদের। উন্নয়ন না হওয়া এবং বিগত সময়ের প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় সাধারণ ভোটারেরাও মুখ ফিরিয়ে নেন কামরুলের দিক থেকে। এ সময় এগিয়ে আসেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ। তিনি এলাকার সাধারণ ভোটারদের হতাশা থেকে আলোকিত করে তোলেন নতুন স্বপ্ন দেখিয়ে। মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে সবার মন জয় করেন। নেতাকর্মীদের দুঃসময়ে ছায়া হয়ে থেকে তাদেরও মন কেড়ে নেন। ফলে শাহীনকে ঘিরে তৈরি হয় নতুন সম্ভাবনা। একপর্যায়ে শাহীন শাহীন রব উঠে যায় পুরো ঢাকা-২ আসনে।

স্থানীয়দের মতে, বিএনপি জোটের আমান উল্লাহ আমানের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো যাথেষ্ট জ্বালানি রয়েছে শাহীনের। একটি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর আওয়ামী লীগেরই বিজয় অর্জন সম্ভব হতো। কিন্তু জনবিচ্ছিন্ন নেতাকে মনোনয়ন দেওয়ায় এলাকার নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েন।

এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাস এবং বঙ্গবন্ধুকন্যার মুখ উজ্জ্বল করার মানসিকতায় মনোবল চাঙা করে ঘুরে দাঁড়ান শাহীন আহমেদ। একইসঙ্গে চাঙা করে তোলেন তার হতাশ নেতাকর্মীদেরও। সবাইকে নিয়ে এখন তিনিও ভোটযুদ্ধে। নৌকা প্রতীককে জেতানোই তাঁর লক্ষ্য।



মন্তব্য