kalerkantho


আত্মীয়ে আত্মীয়ে মনোনয়ন লড়াই

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ নভেম্বর, ২০১৮ ১৩:১০



আত্মীয়ে আত্মীয়ে মনোনয়ন লড়াই

সিলেট-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন তাহসিনা রুশদীর লুনা ও তাঁর বড় ছেলে ব্যারিস্টার আবরাব ইলিয়াস অর্ণব। ছবি : কালের কণ্ঠ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে প্রার্থিতা চেয়ে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন কয়েকজন নিকটাত্মীয়। তাঁদের অনেকে ‘ডামি প্রার্থী’ হিসেবে ফরম দাখিল করেছেন। আবার অনেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েই মনোনয়ন চেয়েছেন। এ তালিকায় মা-ছেলে, বাবা-ছেলে, বাবা-মেয়ে, স্বামী-স্ত্রী, ভাই-ভাই, ভাই-বোন কিংবা চাচা-ভাতিজাও রয়েছেন। নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে প্রতিবেদনটি সাজানো হলো

মা-ছেলে
সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে প্রার্থিতা চেয়ে দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন বিএনপির নিখোঁজ কেন্দ্রীয় নেতা ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদীর লুনা ও তাঁর বড় ছেলে ব্যারিস্টার আবরাব ইলিয়াস অর্ণব। ফলে এ আসনে বিএনপি থেকে কে মনোনয়ন পাচ্ছেন, তা নিয়ে নানা ধরনের কানাঘুষা চলছে। ১৮-২০ নভেম্বর ধানের শীষের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর খুলবে এই রহস্যের জট।

নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়ে ফরম সংগ্রহ করেছেন নাসরিন আরা সিদ্দিকী ও তাঁর ছেলে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি। এ ব্যাপারে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি বলেন, ‘আমি মনোনয়ন ফরম কিনেছি। আমার একটু আইনগত জটিলতা আছে। মা আমার প্রতিদ্বন্দ্বী নন, তিনি আমার প্রস্তাবক।’

বাবা-ছেলে
সিরাজগঞ্জ-১ (কাজীপুর-সদর আংশিক) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও তাঁর ছেলে সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয়। এ আসন থেকে আর কেউ দলীয় মনোনয়ন চাননি। তাই একই আসন থেকে বাবা-ছেলের দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ নিয়ে জনমনে কৌতূহলের শেষ নেই।

বাবা-মেয়ে
নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনে নৌকা প্রতীক চেয়ে মনোনয়ন ফরম দাখিল করেছেন বাবা-মেয়ে। তাঁরা হচ্ছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস ও তাঁর মেয়ে কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি। এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের আরো সাতজন মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। এ ছাড়া বিএনপির সাতজন, জাতীয় পার্টির দুজন, জাসদের একজন নিজ নিজ দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।

স্বামী-স্ত্রী
সিরাজগঞ্জ-২ (সদর ও কামারখন্দ) আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন ফরম তুলেছেন দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং তাঁর সহধর্মিণী সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রুমানা মাহমুদ। এ ছাড়া এ আসনে একই দল থেকে আরো দুজন মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন। তাঁরা হচ্ছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) মোহাম্মদ হানিফ ও সাবেক পৌর মেয়র টিআরএম নূর-ই-আলম হেলাল।

ভাই-ভাই
নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) আসনে বিএনপি থেকে ছোট ভাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বড় ভাই মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। তাঁরা হচ্ছেন বিএনপির সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন বুলু। এখন কে পাবেন এ আসনের মনোনয়ন টিকিট, তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। এমন ঘটনায় অনেক নেতাকর্মী ক্ষোভ প্রকাশও করছে। তবে দুই ভাইয়ের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য আত্রাই-রানীনগরবাসীর চেষ্টা অব্যাহত আছে।

গাজীপুর-১ (কালিয়াকৈর ও গাজীপুর সিটির একাংশ) আসনে দুটি ভিন্ন দল থেকে প্রার্থিতার জন্য আবেদন করেছেন দুই ভাই। এ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছেন বড় ভাই গাজীপুর মহানগর শ্রমিক দলের সভাপতি ফয়সাল আহমেদ সরকার। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছেন তাঁরই ছোট ভাই মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল আহসান সরকার রাসেল।

হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম কিনেছেন আপন দুই ভাই। তাঁরা হচ্ছেন জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল এবং তাঁর ছোট ভাই জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও মাধবপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ শাহজাহান। দুই ভাই কেন মনোনয়ন ফরম কিনেছেন, তা নিয়ে সবার মধ্যে কৌতূহল বিরাজ করছে। এ ব্যাপারে মাধবপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আল রনি জানান, সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল এখানে মূল প্রার্থী। আর ‘ডামি প্রার্থী’ হিসেবে সৈয়দ মোহাম্মদ শাহজাহানের মনোনয়ন ফরম তোলা হয়েছে।

ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন সৌদি আরব পূর্বাঞ্চল বিএনপির সভাপতি এ কে এম রফিকুল ইসলাম ও তাঁর ছোট ভাই এ এফ এম আজিজুল ইসলাম। একই আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন দুই চাচাতো ভাই মোস্তাফিজুর রহমান সুমন ও জামাল উদ্দিন।

ভাই-বোন
গাজীপুর-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদের কন্যা সিমিন হোসেন রিমির বিরুদ্ধে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছেন তাঁর ফুফাতো ভাই ব্যবসায়ী আলম আহাম্মদ। ২০০৮ সালে এ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন রিমির ছোট ভাই সোহেল তাজ। তিনি পদত্যাগ করলে ২০১৩ সালে উপনির্বাচনে এমপি হন রিমি। দশম সংসদ নির্বাচনেও তিনি নির্বাচিত হন। তাঁর বিরুদ্ধে গিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন আলম আহাম্মদ। এ নিয়ে দুজনের সমর্থকদের মধ্যে একাধিকবার হামলা, গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। আলম আহাম্মদ তাজউদ্দীন আহমদের বোনের ছেলে।

পাবনা-৩ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম কিনেছেন তিন ভাই-বোন। তাঁরা হলেন জিয়া সাংস্কৃতিক দলের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাসানুল ইসলাম রাজা, চাটমোহর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাসাদুল ইসলাম হীরা এবং তাঁদের ছোট বোন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমা। তাঁরা তিনজনই বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়। তাই এ আসন থেকে কে পাবেন মনোনয়ন, তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছেই।

চাচা-ভাতিজা
ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন ফরম তুলেছেন সাবেক সংসদ সদস্য খুররম খান চৌধুরী ও তাঁর আপন ভাতিজা ইয়াসের খান চৌধুরী। বিএনপির প্রভাবশালী নেতা খুররম খান চৌধুরীর পাশাপাশি তাঁর ভাতিজা ইয়াসের খান চৌধুরীও দলীয় কার্যক্রমে খুবই সক্রিয়।

চাচা-ভাতিজি
গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ, পুবাইল ও সদরের একাংশ) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য মেহের আফরোজ চুমকি। বর্তমানে তিনি মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এবারও তিনি নৌকা প্রতীক চেয়ে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন। কিন্তু তাঁকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছেন তাঁরই চাচা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এস এম নজরুল ইসলাম। নজরুল ইসলাম চুমকির বাবা শহীদ ময়েজউদ্দীনের চাচাতো ভাই।

ফুফু-ভাতিজা
বরগুনা-২ (পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী উপজেলা) আসনে নৌকা প্রতীক চেয়ে মনোনয়ন ফরম দাখিল করেছেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নাসিমা ফেরদৌসী। তাঁর বড় ভাই প্রয়াত আবদুল মজিদের ছেলে পাথরঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাভোকেট জাবির হোসেনও আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চেয়ে ফরম জমা দিয়েছেন। আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন লাভের ব্যাপারে উভয়ে আশাবাদী বলে জানিয়েছেন। জাবির হোসেন বলেন, ‘আমার নেতৃত্বগুণ আছে বলেই প্রার্থী হয়েছি। আশা করি, আমার সততা ও সক্ষমতা বিচার করে দল মনোনয়ন দেবে।’



মন্তব্য