kalerkantho


জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা

আপিলে খালেদার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড চাইল দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ অক্টোবর, ২০১৮ ১১:০৫



আপিলে খালেদার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড চাইল দুদক

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় নিম্ন আদালতে সাজার বিরুদ্ধে করা আপিলের ওপর রাষ্ট্রপক্ষ এবং খালেদা জিয়ার সাজা বাড়াতে দুদকের আবেদনের ওপর গতকাল মঙ্গলবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। শুনানিতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সংশ্লিষ্ট আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। তবে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম নিম্ন আদালতের দেওয়া পাঁচ বছরের সাজা বহাল রাখার আবেদন জানিয়েছেন।

এদিকে আপিলের শুনানি মুলতবি রাখতে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের আবেদন গ্রহণ না করায় তাঁর আইনজীবীরা শুনানিতে অংশ না নিয়ে আদালত কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। পরে বিকেলে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করেছেন।

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে গতকাল জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় শুনানি হয়। আদালত এ মামলায় আজ বুধবার পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন। তবে একজন সাক্ষীর (৩২ নম্বর সাক্ষী) অধিকতর সাক্ষ্যগ্রহণের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এ মামলায় খালাস চেয়ে খালেদা জিয়ার আপিলের বিপক্ষে গতকাল আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আর সাজা বাড়াতে দুদকের আবেদনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম  খান।

এর আগে গতকাল সকালে খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী শুনানি মুলতবি রাখার আবেদন জানান। এ সময় তিনি মামলার ৩২ নম্বর সাক্ষী রিয়াদে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত খন্দকার আবদুস সাত্তারের অধিকতর সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য (মামলায় যে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সেই টাকার উৎস জানার জন্য) করা আবেদনের বিষয়ে আদালতের কাছে লিখিত আদেশ চান। তিনি বলেন, আগের দিন (সোমবার) করা আবেদনটির বিষয়ে শুনানি শেষ হলেও আপনারা (আদালত) তা নথিভুক্ত করেছেন। এই নথিভুক্ত করার বিষয়ে লিখিত আদেশ চাচ্ছি। আমরা এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাব।

এ সময় আদালত বলেন, আপিল বিভাগে যাবেন সেটা আপনাদের ব্যাপার। আর আপনারা যে বিষয়ে আদেশ চাচ্ছেন, মূল আপিলের ওপর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে সেটার বিষয়ে আদেশ দেওয়া হবে।

এ জে মোহাম্মদ আলী ও অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, আপনাদের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাব। আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত শুনানি মুলতবি রাখুন। আদালত তাঁদের আবেদন খারিজ করে দিয়ে বলেন, যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলবে। এরপর খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালত কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। এরপর রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে খুরশীদ আলম খান যুক্তি উপস্থাপন করেন। দুপুর পৌনে ১টায় শুনানি শেষে আদালত আদেশ দেন। এ আদেশে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের আদালত কক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা তুলে ধরে বলা হয়, অতিরিক্ত সাক্ষ্যগ্রহণের আবেদন খারিজ করা হলো।

এ মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ বিচার শেষে গত ৮ ফেব্রুয়ারি রায় দেন। রায়ে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং কাজী সালিমুল হক ও শরফুদ্দিন আহমেদকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সব আসামিকে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এ রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে গত ২০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে আপিল আবেদন (১৬৭৬/২০১৮) দাখিল করেন খালেদা জিয়া। এ আপিল গত ২২ ফেব্রুয়ারি গ্রহণ করে নিম্ন আদালতের দেওয়া জরিমানার রায় স্থগিত করেন হাইকোর্ট। পরে চার যুক্তিতে গত ১২ মার্চ হাইকোর্ট খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন। পরে আরো দুইজন পৃথকভাবে আপিল আবেদন করেন। অপরদিকে গত ২৫ মার্চ দুদক খালেদা জিয়ার সাজা বাড়াতে নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিশন আবেদন করে। ২৮ মার্চ হাইকোর্ট রুল জারি করেন। এই চার আবেদন হাইকোর্টে বিচারাধীন। এর মধ্যে খালেদা জিয়ার আপিলের ওপর গত ১২ জুলাই থেকে শুনানি শুরু হয়। পরে দুদকের আবেদনের ওপর শুনানি হয়। আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে এ আপিল নিষ্পত্তির জন্য আপিল বিভাগের নির্দেশনা রয়েছে। 



মন্তব্য