kalerkantho


তৃণমূল চায় নতুন মুখ

টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসন

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি    

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ১৩:২৪



তৃণমূল চায় নতুন মুখ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে চলছে তোড়জোড়। তবে টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির দলীয় প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ আসনে আওয়ামী লীগের চারজন, বিএনপির তিনজন, জাতীয় পার্টির একজন, ওয়ার্কার্স পার্টির একজন ও খেলাফত মজলিসের একজন নেতা নিজ নিজ দলের মনোনয়ন পেতে মাঠে রয়েছেন। আসনটিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। প্রধান দুই দলের তৃণমূল নেতারা এই আসনে নতুন মুখ দেখতে চান। আওয়ামী লীগের নতুন মুখ হিসেবে এলাকায় কাজ করছেন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ও জেলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সভাপতি খান আহমেদ শুভ, জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য মেজর (অব.) খন্দকার এ হাফিজ এবং মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর শরীফ মাহমুদ। এ ছাড়া বর্তমান সংসদ সদস্য (এমপি) মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. একাব্বর হোসেনও মনোনয়ন দৌড়ে আছেন।

বিএনপির মনোনয়ন পেতে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন মির্জাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাঈদ সোহরাব এবং জেলা বিএনপি নেতা ব্যবসায়ী ফিরোজ হায়দার খান।

এদিকে এমপি মো. একাব্বর হোসেনের প্রার্থিতা চূড়ান্ত বলে দাবি করছে তাঁর অনুসারীরা। অন্যদিকে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ও জেলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সভাপতি খান আহমেদ শুভর সমর্থকরাও বলছে এবার তিনিই মনোনয়ন পাবেন।

খান আহমেদ শুভ মনোনয়ন পাওয়ার আশায় আটঘাট বেঁধেই মাঠে নেমেছেন। তিনি একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নে নিয়মিত উঠান বৈঠক, সভা-সমাবেশ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। তাঁর বাবা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক এই আসনের সাবেক এমপি হওয়ায় সাধারণ মানুষ সহজেই তাঁকে আপন করে নিচ্ছে। এ ছাড়া এলাকায় তিনি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করছেন। তা ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে অবমূল্যায়নের কারণে অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী রাজনীতি থেকে সরে গিয়েছিল। শুভ ফের রাজনীতিতে সক্রিয় করে তাদের সঙ্গে নিয়ে মাঠে কাজ করছেন। কর্মীবান্ধব প্রার্থী শুভ মির্জাপুরের তরুণ যুবসমাজের অন্তরে এরই মধ্যে পাকাপোক্তভাবে স্থান করে নিয়েছেন। বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে সরকারের নানা সফলতার কথা তুলে ধরে নৌকা প্রতীকে ভোট চাইছেন।

এ ছাড়া মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য মেজর (অব.) খন্দকার এ হাফিজ ও মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর শরীফ মাহমুদ আলাদাভাবে জানিয়েছেন একাব্বর হোসেন এমপি এবার মনোনয়ন না পেলে তাঁদের মনোনয়ন এক রকম নিশ্চিত।

২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হতে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা মজিবর রহমান পেশওয়ারি সভা-সমাবেশ অব্যাহত রেখেছেন।

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম জহির নেতাকর্মীদের সক্রিয় রেখে মাঠে কাজ শুরু করছেন।

এদিকে ওয়ার্কার্স পার্টির টাঙ্গাইল জেলা সভাপতি কমরেড গোলাম নওজব পাওয়ার চৌধুরী উপজেলার সর্বত্র গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি উপজেলার বিভিন্ন স্পটে ফেস্টুন ও পোস্টার সাঁটিয়েছেন। 

জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে শরিক অন্য কোনো দলকে ছাড় দেবে না আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের হাত থেকে এ আসনটি ছিনিয়ে আনতে বিএনপি উপযোগী যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন চায় তৃণমূল বিএনপি। অন্যদিকে আসনটি ধরে রাখতে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা নতুন এবং জনপ্রিয় ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি করছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একই ব্যক্তি মনোনয়ন পাওয়ায় মাঠপর্যায়ের অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী অবমূল্যায়নের কারণে রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়ে। তবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা জানায়, সর্বশেষ দল থেকে যাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হবে তাঁর পক্ষেই কাজ করবে তারা।

মনোনয়নপ্রত্যাশী কেন্দ্রীয় বিএনপির শিশুবিষয়ক সম্পাদক ও মির্জাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা এখন মনোনয়ন কিংবা নির্বাচন নিয়ে ভাবছি না। আমাদের মূল দাবি খালেদা জিয়ার মুক্তি। চেয়ারপারসনকে মুক্ত করে আমার নির্বাচনে যাব।’

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ও জেলা শ্রমিক দলের উপদেষ্টা জানান, তিনি বিএনপির মনোনয়ন পেলে হারানো এ আসনটি পুনরুদ্ধার করতে পারবেন।

আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী খান আহমেদ শুভ বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার বাবা ফজলুর রহমান খান ফারুকের অবদান ও ত্যাগের কথা জানেন। সব কিছু বিবেচনা করে তিনিই ভালো সিদ্ধান্ত নেবেন।’

মনোনয়নপ্রত্যাশী টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মেজর (অব.) খন্দকার এ হাফিজ বলেন, ‘দীর্ঘ এক যুগ ধরে মির্জাপুরে রাজনীতি করছি। জননেত্রী শেখ হাসিনা যাঁর হাতে নৌকা দেবেন ঐক্যবদ্ধভাবে আমি তাঁর হয়েই কাজ করব।’

মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর শরীফ মাহমুদ জানান, ঢাকা বিভাগীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সভা হয়েছে। সভায় বর্তমান সংসদে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি এমপিরা আগামী জাতীয় নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাবেন না বলে আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারকরা জানিয়েছেন। তা ছাড়া নতুন ও জনপ্রিয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদেরও মূল্যায়ন করা হবে বলে তিনি জানান। 



মন্তব্য