kalerkantho


পাঁচবারের এমপির সামনে তিন নেতা

মৌলভীবাজার-৪ আসনে মনোনয়ন

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি    

১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ১২:৫৮



পাঁচবারের এমপির সামনে তিন নেতা

মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরাই বিজয় নিশান উড়িয়েছেন। মণিপুরি, খাসিয়া, সাঁওতালদের মতো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং চা জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত এ আসনটি আওয়ামী লীগের ‘ঘাঁটি’ হিসেবে পরিচিত। তবে চা বাগানের ভোটে বিএনপিও ভাগ বসাতে শুরু করেছে। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেন্দ্রওয়ারি ভোটের ফল বিশ্লেষণে এমনটাই আভাস মেলে।

এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য (এমপি) উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ। তিনি টানা পাঁচবার আসনটিতে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বিরোধী দলের হুইপ ও সরকারি দলের চিফ হুইপের দায়িত্ব পালন করেছেন। শ্রীমঙ্গলের চা বাগানের স্কুলগুলো তাঁর প্রচেষ্টায় সরকারি হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে এসব স্কুলে অবকাঠামোগত উন্নয়নও হয়েছে। এলাকায় রয়েছে তাঁর শক্ত অবস্থান। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি এ আসনে দলের মনোনয়ন চাইবেন। তবে আসনটিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে আরো তিন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমান, মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাওল হলের সাবেক ভিপি ও শ্রীমঙ্গল দ্বারিকা পাল মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ মনসুরুল হক এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল আহাদ চৌধুরী।

মাঠে-ময়দানে ক্ষমতাসীন দলের নৌকা প্রতীকে ভোট চাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন আব্দুস শহীদ। গত ১০ বছরে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলে তিনি প্রচারণা চালাচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে এ প্রচারণা নতুন মাত্রা পেয়েছে। শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ ও ছাত্রলীগ নেতারা আব্দুস শহীদের সঙ্গে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। প্রায় প্রতিদিনই তাঁর সমর্থকরা দুই উপজেলায় মিছিল সমাবেশ ও উঠান বৈঠক করছে। এসব মিছিল-সমাবেশে আব্দুস শহীদের সরব উপস্থিতি মাঠপর্যায়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করেছে।

এদিকে কমলগঞ্জ উপজেলায় প্রচারণা চালাচ্ছেন অধ্যাপক রফিকুর রহমান। তাঁর সঙ্গেও রয়েছে কমলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের একটি অংশ। তিনিও সরকারের সফলতা সভা-সমাবেশে তুলে ধরে আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট চাইছেন।

সৈয়দ মনসুরুল হকের প্রচারণা সামাজিক অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কয়েকজন তরুণ নেতাকে সঙ্গে নিয়ে তাঁকে এসব সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি শ্রীমঙ্গল শহরের বিভিন্ন দেয়ালে তাঁর ছবিসংবলিত পোস্টার সাঁটা হয়েছে। এসব পোস্টারে নৌকায় ভোট চাওয়া হয়েছে।

আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী আব্দুল আহাদ চৌধুরী সম্প্রতি শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলায় কয়েকটি স্থানে জনসংযোগ করে তাঁর উপস্থিতি জানান দিয়েছেন। আব্দুল আহাদ চৌধুরী সম্প্রতি মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাবে আয়োজিত মতবিনিময়সভায় জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে সবুজ সংকেত পেয়েই তিনি মৌলভীবাজার-৪ আসনে গণসংযোগ করছেন।

অধ্যাপক রফিকুর রহমান বলেন, ‘সেই ছাত্রজীবন থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতি করে এখন আওয়ামী লীগে আছি। দলের দুর্দিনে শক্ত হাতে দলের হাল ধরেছি। ৭৫-এর পটপরিবর্তনের পরে বিরোধী দলে থেকে অনেক অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করেছি। দলের কাছে মনোনয়ন চাইব। নেত্রী অবশ্যই আমাকে মূল্যায়ন করবেন।’

সৈয়দ মনসুরুল হক বলেন, ‘স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের তরুণরা আমাকে সমর্থন করছে। মানুষ পরিবর্তন চায়। তাই দলের কাছে মনোনয়ন চাইব। দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করব।’

উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ বলেন, ‘আমি এরই মধ্যে আমার নির্বাচনী এলাকায় ৯০ শতাংশ কাজ পূরণ করতে সক্ষম হয়েছি। প্রধানমন্ত্রী আমাকে বারবার দলের মনোনয়ন দিয়েছেন। কালো টাকার বিপরীতে অবস্থান নিয়ে চা বাগানের ভাই-বোনেরা আমাকে সমর্থন ও ভোট দেন। আগামী নির্বাচনেও দলের সভানেত্রী আমাকে মনোনয়ন দেবেন, এমনটাই প্রত্যাশা করছি।



মন্তব্য