kalerkantho


মিত্র বাড়তে পারে আওয়ামী লীগের

আবদুল্লাহ আল মামুন    

১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ১২:৪১



মিত্র বাড়তে পারে আওয়ামী লীগের

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ নতুন করে মিত্রের সন্ধানে নেমেছে। উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে নির্বাচনী মহাজোটের কলেবর বৃদ্ধির। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি নির্বাচনে আসছে—এমনটা ধরে নিয়েই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে ক্ষমতাসীন মহলে। তারা আশা করছে, তাদের নির্বাচনী মহাজোটে কয়েকটি দল যোগ দেবে। নতুন দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে মহাজোটগতভাবে নির্বাচন, নাকি আওয়ামী লীগ এককভাবে মাঠে নামবে, সে বিষয়টি নির্ভর করছে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বিএনপির সিদ্ধান্তের ওপর। বিএনপি নির্বাচনে এলে মহাজোটগতভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দেবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্ট সূত্র কালের কণ্ঠকে এ তথ্য জানিয়েছে।

মহাজোটের কলেবর বৃদ্ধি করার চেষ্টার বিষয়টি স্বীকার করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, ১৪ দলের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম গতকাল মঙ্গলবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নতুন দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করছে রাজনৈতিক মেরুকরণের ওপর।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে এলে এক ধরনের চিন্তা, না এলে ভিন্ন চিন্তা রয়েছে। বিএনপি এলে মহাজোটগতভাবেই নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত আসতে পারে। নতুন কয়েকটি দলের সঙ্গে এ নিয়ে যোগাযোগ হচ্ছে।’

আজ বুধবার ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানেও নতুন মিত্রদের বিষয়টি আলোচনায় স্থান পেতে পারে।

আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, তারা চেষ্টা করছে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ এবং এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতার। আলোচনা ফলপ্রসূ হলে এলডিপি ও বিকল্পধারাও মহাজোটে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। শেষ পর্যন্ত যদি তা না হয়, তাহলে নির্বাচনী সমঝোতা হবে। অলি আহমদ তিনটি আসন চান। বি চৌধুরী তাঁর ছেলে মাহী বি চৌধুরী ও মেজর (অব.) আবদুল মান্নানের আসন দুটি চাইতে পারেন বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। এর বাইরে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সঙ্গে আলোচনা চলছে। জাকের পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা আমীর ফয়সলের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতারা কথা বলেছেন বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। জাকের পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা আমীর ফয়সল ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ড. সায়েম আমীর ফয়সল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা করতে এলে দুই দলের নেতাদের মধ্যে বৈঠক হয়।

ইসলামী দলগুলো ছাড়াও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সিপিবিসহ বামপন্থী দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সিপিবিসহ বেশ কয়েকটি বামপন্থী দল দশম জাতীয় নির্বাচন বর্জন করে। এবারও নির্বাচনে যাবে কি যাবে না সে ব্যাপারে সিপিবি নেতৃত্বাধীন বাম গণতান্ত্রিক জোট এখনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। আওয়ামী লীগ চাইছে বিএনপি বর্জন করলেও তারা যেন নির্বাচনে অংশ নেয়।

দিলীপ বড়ুয়ার নেতৃত্বাধীন সাম্যবাদী দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বাম জোট নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আজকে একটি বিষয় ভালো লাগছে যে বামপন্থীরা এক সুরে কথা বলছেন। সেটি হচ্ছে, সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে তাঁরা নেই। এই উচ্চারণ যাঁরা করেছেন, আসুন না আমরা মিনিমাম পয়েন্টে ম্যাক্সিমাম ইউনিটি গড়ে ফেলি।’

এদিকে সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের সঙ্গেও আওয়ামী লীগের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। এইচ এম এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি মহাজোটের প্রধান শরিক। বিএনপি নির্বাচনে এলে জাতীয় পার্টি মহাজোটগতভাবেই নির্বাচন করবে—এমন দাবি ক্ষমতাসীনদের। তাদের কৌশল নিজেদের ঐক্য সুসংহত করার পাশাপাশি বিএনপির ঐক্যে ভাঙন সৃষ্টি। এরই মধ্যে এ বিষয়ে অনেকটা সফল হয়েছে ক্ষমতাসীনরা। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে যায়নি বিকল্পধারা। গতকাল ২০ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ) ও ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি)।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, রাজনৈতিক মেরুকরণের ওপর নির্বাচনী জোট, মহাজোট গঠনের বিষয়টি নির্ভর করছে। বিএনপি নির্বাচনে এলে নিশ্চয় তাঁরা জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে জানান।

আওয়ামী লীগ বেশ আগেভাগেই মিত্র খুঁজে বের করতে অনেকগুলো দলের সঙ্গে আলোচনা করেছিল। গত ১৮ জুলাই ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে তৃণমূল বিএনপি চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ জাতীয় জোটের প্রধান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের আলমগীর মজুমদার, সম্মিলিত ইসলামিক জোটের মাওলানা জিয়াউল হাসান, ইসলামিক ফ্রন্টের সৈয়দ বাহাদুর শাহ, কৃষক শ্রমিক পার্টির ফারহানা হক চৌধুরীসহ গণতান্ত্রিক আন্দোলন, জাগো দল, একামত আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক জোটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের নেতারা। বৈঠকে নির্বাচনী মহাজোটে অন্তর্ভুক্তির বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের পক্ষে ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ নাসিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, দিলীপ বড়ুয়া, শরীফ নূরুল আম্বিয়া, শিরীন আখতার প্রমুখ।

এ বিষয়ে অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তৃণমূল বিএনপি ও বাংলাদেশ জাতীয় জোটের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা গতকাল কালের কণ্ঠকে জানান, একসঙ্গে নির্বাচন করার পরিকল্পনা থেকেই তিনি ২৫ জন প্রার্থীর একটি নামের তালিকা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠিয়েছেন। মহাজোটে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি। 



মন্তব্য