kalerkantho


কুষ্টিয়া-১, ২, ৩ ও ৪ আসন

এলাকা রাঙাচ্ছেন এক ডজন তরুণ মুখ

তারিকুল হক তারিক, কুষ্টিয়া    

১৩ অক্টোবর, ২০১৮ ১২:৪৩



এলাকা রাঙাচ্ছেন এক ডজন তরুণ মুখ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কুষ্টিয়া জেলার চারটি আসনে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা জোরেশোরে জনসংযোগও শুরু করে দিয়েছেন। জাতীয় পার্টি, জাসদসহ ছোট দলগুলোও রয়েছে প্রচারণার মাঠে। তবে এবার প্রবীণদের চেয়ে তরুণ ও নতুন মুখের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মনোনয়নপ্রত্যাশী আগেভাগেই নির্বাচনী এলাকায় সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। হিসাব মতে কুষ্টিয়ার চারটি আসনে এবার আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জাসদের এক ডজন তরুণ নেতা এরই মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে পড়েছেন। তাঁরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ দলের মনোনয়ন প্রত্যাশার পাশাপাশি সভা-সমাবেশ করে দলের ইতিবাচক দিক তুলে ধরে দলীয় প্রতীকে ভোট চাইছেন। এই চারটি আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও ন্যাপের ১২ জন তরুণ মনোনয়নপ্রত্যাশী এলাকায় জনসংযোগ করছেন।

কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান ও সাবেক দুই সংসদ সদস্য, বিএনপির এক সাবেক সংসদ সদস্যের পাশাপাশি এবার আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির একাধিক নতুন মুখ মনোনয়নের আশায় জনসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপকমিটির অন্যতম সদস্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ও স্থানীয় খলিশাকুণ্ডি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ  মোফাজ্জেল হক, জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসানুল আসকার হাসু ও জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার জামিল জুয়েল।

মোফাজ্জেল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মনোনয়ন পাব কি পাব না সেটা বড় কথা নয়, আমি সভা-সমাবেশ ও জনসংযোগের মাধ্যমে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের কথা মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি এবং সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী এলাকার মানুষের কাছে নৌকার পক্ষে ভোট চাচ্ছি।’

শাহরিয়ার জামিল জুয়েল বলেন, ‘আমার নেতা এরশাদের উন্নয়নের কথা মানুষকে মনে করিয়ে দিয়ে লাঙলের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি আমি।’

কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনে মহাজোটের পুরনো প্রার্থী জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক শহীদুল ইসলামের পাশাপাশি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আশায় জনসংযোগ করছেন নতুন মুখ তরুণ রাজনীতিক আওয়ামী লীগের মিরপুর থানার সাধারণ সম্পাদক ও মিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন ও বিএনপির জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী।

কামারুল আরেফিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা সংখ্যাঘরিষ্ঠ ভোটের মালিক, তাই জাসদকে ছাড় না দেওয়ার জন্য এবং আওয়ামী লীগকে এই আসন উপহার দেওয়ার জন্য আমি এবার প্রথমবারের মতো নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছি।’

রাগীব রউফ চৌধুরী বলেন, ‘এ আসনে আমার বাবা রউফ চৌধুরী দীর্ঘদিন সংসদ সদস্য ছিলেন। তাঁর হাত ধরে আমি রাজনীতিতে এসেছি। এলাকার ভোটারদের আগ্রহে আমি নির্বাচনের জন্য মাঠ প্রস্তুত করছি।’

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিনের পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারে নেমেছেন নতুন মুখ বিএনপির কুষ্টিয়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শিল্পপতি জাকির হোসেন ও ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীম উল হাসান অপু, জাতীয় পার্টির জেলা আহ্বায়ক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন এবং বাংলাদেশ আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ)  কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ইলিয়াস আহম্মেদ বিপ্লব।

শামীম উল হাসান অপু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপির নতুন এবং তরুণ নেতৃত্বের বিকল্প নেই। তাই আমি নিজেকে একজন যোগ্য প্রার্থী মনে করছি।’

ইলিয়াস আহম্মেদ বিপ্লব বলেন, ‘আমার দল এ আসনে আমাকে দলীয় প্রার্থী মনোনীত করেছে। ফলে আমি প্রচারণায় নেমেছি।’

জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘গতবার আমি মনোনয়নপত্র কিনলেও মাহবুবউল আলম হানিফের সমর্থনে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলাম। কিন্তু এবার আমি মাঠে থাকব।’

কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনেও আওয়ামী লীগের সাবেক ও বর্তমান সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির হাফ ডজন নতুন মুখ মনোনয়নের প্রত্যাশায় এলাকায় জনসংযোগ করছেন। সভা-সমাবেশ, মিছিল-মিটিং করে তাঁরা এলাকা চাঙ্গা করছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সুফি ফারুক ইবনে আবু বকর, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মিজানুর রহমান বিটু ও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের শাহবাগ থানা শাখার তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক অভি চৌধুরী এবং জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সুমন আশরাফ।

অভি চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কুমারখালী-খোকসার জনগণের কাছে আমি কে তারা ভালো করেই জানে। আমার সঙ্গে কারো রাজনৈতিক বিরোধ নেই। আমি এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই।’

মিজানুর রহমান বিটু বলেন, ‘এলাকার মানুষের উন্নয়নের কথা চিন্তা করে আমি নির্বাচন করতে কাজ করছি।’

সুফি ফারুক ইবনে আবু বকর বলেন, ‘আমি এলাকার মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটাতে নির্বাচন করতে চাই।’ 



মন্তব্য