kalerkantho


‘খালেদা জিয়ার বাম হাত অবশ ও বাঁকা হয়ে গেছে’

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৮ অক্টোবর, ২০১৮ ২০:৫৬



‘খালেদা জিয়ার বাম হাত অবশ ও বাঁকা হয়ে গেছে’

বাত এবং ডায়াবেটিসের কারণে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বাম হাত বাঁকা হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন তার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ড।

আজও বেগম খালেদা জিয়ার দেখা পায়নি ৫ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড। তবে মেডিকেল বোর্ড জানিয়েছে, তার শারীরিক সমস্যাগুলো নথিবদ্ধ করছেন চিকিৎসকরা। মূল চিকিৎসা শুরু হতে দুসপ্তাহ সময় লাগবে।

সোমবার বেলা সোয়া ১টার দিকে খালেদা জিয়ার কেবিন পরিদর্শন শেষে মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক আব্দুল জলিল চৌধুরীর নেতৃত্বে ৫ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন দুপুরে। তাদের সঙ্গে ছিলেন, পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন। ঘণ্টাখানেক পর বের হয়ে এসে মেডিকেল বোর্ড প্রধান জানান, বেগম জিয়ার সঙ্গে তাদের দেখা হয়নি।

মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক ডাঃ এম এ জলিল চৌধুরী বলেন, এটি বাতের কারণে হয়েছে। কারণ, এ রোগে তিনি ৩০ বছর ধরে ভুগছেন। যার ফলে উনার বাম হাত বাঁকা হয়ে গেছে।

ডাঃ জলিল বলেন, বাতের জন্য খালেদা জিয়ার যে পরিমাণ ওষুধ খাওয়া দরকার ছিলো ঠিক সে পরিমাণে খাওয়া হয়নি। যার ফলে এ সমস্যা শুরু হয়েছে। এজন্য তার বাম হাত অবশ ও বাঁকা হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার প্রধান সমস্যা হলো জয়েন্টপেইন কোমরে, মাজায়, হাতেও ব্যথা। এছাড়াও তিনি ডায়াবেটিস, এ্যাজমা সহ নানান রোগে ভুগছেন। তার হাই পেশারের সমস্যা আছে। তার হাঁটু প্রতিস্থাপন করার কারণে হাঁটুতেও সমস্যা আছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা খালেদা জিয়াকে যখন কারাগারে দেখতে গিয়েছিলাম তখন উনাকে পিজিতে ভর্তি হতে বলেছিলাম। বলেছিলাম, ভালো চিকিৎসা চাইলে আমাদের উপর আস্থা রাখতে পারেন।

এসময় ডাঃ আতিকুল হক বলেন, খালেদা জিয়ার মূল চিকিৎসা শুরুর আগে আমাদের ২ সপ্তাহ প্রাথমিক পরীক্ষা করা লাগবে। আমরা এরই মাঝে কিছু পরীক্ষা দিয়েছি সেগুলো আসার পর মূল চিকিৎসা শুরু হবে। তবে ডায়াবেটিস না কমলে তার মূল চিকিৎসা শুরু করা যাবে না। তাই ২ সপ্তাহ পরই যে পরীক্ষা শুরু হবে সেটি এখনও বলা যাচ্ছে না।

যে সমস্যা গুলো আছে সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ আসলে তখন মূল চিকিৎসা শুরু হবে। তাকে কতদিন হাসপাতালে থাকতে হবে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে বলা যাবে না। তবে এ ক্ষেত্রে রোগীরও সহযোগিতা লাগবে। কারণ রোগীর সহযোগিতা ছাড়া চিকিৎসা সম্ভব না।

আর ফিজিওথেরাপির বিষয়ে জনতে চাইলে তিনি বলেন, কাল থেকে খালেদা জিয়ার ফিজিওথেরাপি শুরু করা হবে।

বোর্ডের সভাপতি মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক এম এ জলিল চৌধুরীর সাথে আরো ছিলেন অধ্যাপক ডঃ সৈয়দ আতিকুল হক (নিউমটোলিজ), ডাক্তার তানজিমা ও পিজিক্যাল মেডিসিনের সহকারী অধ্যাপক বদরুন্নেসা। এছাড়াও খালেদা জিয়ার ভাগিনা ও ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডাক্তার মামুন।



মন্তব্য