kalerkantho


বিকল্পধারার শর্ত

জামায়াত থাকলে বিএনপির সঙ্গে ঐক্য নয়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১১:৩৬



জামায়াত থাকলে বিএনপির সঙ্গে ঐক্য নয়

বিএনপির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চাইলেও জামায়াত ছাড়ার শর্ত দিয়েছে বিকল্পধারা। গতকাল মঙ্গলবার রাতে যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিকল্পধারার নেতা এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বারিধারার বাসায় ‘জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া’র বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধিকে এ শর্ত জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর বিএনপির সমাবেশের পর বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করা হবে। বিএনপির অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এটি করা হচ্ছে।

বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, বিএনপির সঙ্গে ঐক্য চায় বিকল্পধারা, কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধী কাউকে শরিক হিসেবে রাখলে অর্থাত্ জামায়াতে ইসলামীসহ মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী দল থাকলে কোনো ঐক্য হবে না।

বৈঠকে বিএনপির পক্ষে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন। আর ড. কামাল হোসেন শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে আসতে পারেননি।

সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমাদের জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার মধ্যে আমরা বিএনপির সঙ্গে অনেক  কাছাকাছি এসেছি। আমরা দ্রুত একটা লিয়াজোঁ কমিটি করব। এ ব্যাপারে আজকের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে।’ তিনি জানান, বিএনপির প্রস্তাবনা অনুসারে তাঁরা ২৯ সেপ্টেম্বরের পর এই লিয়াজোঁ কমিটি করবেন। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি ওই দিন জনসভার মাধ্যমে তাদের সঙ্গে ঐক্যের ভবিষ্যত্ প্রক্রিয়া কী হবে সে বিষয়ে এবং তাদের নীতি সম্পর্কে বিবৃতি দেবে।

বিকল্পধারার প্রধান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘যারা মুক্তিযুদ্ধ ও মানচিত্রকে এখনো অস্বীকার করে, আমরা তাদের বাদ দিয়ে সকল গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য কামনা করি। আমরা যেভাবে কল্পনা করি সেভাবে জাতীয় ঐক্য হবে। যারাই গণতান্ত্রিক শক্তির সপক্ষে, যারাই স্বেচ্ছাচারী সরকার চায় না, যারা জনগণের সরকার চায়, দেশপ্রেমিক সরকার চায় তারা সবাই, আমরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারব। ভবিষ্যতে যাতে কোনো দিন স্বৈরাচারী সরকার না আসে এ ব্যাপারে ফর্মুলা বের করে জনগণের কাছে আমরা যাব।’

বৈঠকে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান বদরুদ্দোজা চৌধুরী।

বিএনপির প্রতিনিধি ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের ২৯ তারিখে যে জনসভা আছে সেই সভা থেকে আমরা আমাদের পরিকল্পনা জনগণের কাছে দেব। তার পরে আমরা যে ঐক্যপ্রক্রিয়া শুরু করেছি সবাই বসে কিভাবে সেটা সফল হয় তার চেষ্টা করব।’

যুক্তফ্রন্টের শরিক নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া এগোচ্ছে। গত দুই দিনে সরকার এটাকে খুব হিসাব করছে।’ আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহে যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া যৌথভাবে জনসভা করবে বলেও তিনি জানান।

সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম রব ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, পেশাজীবী নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের নেতা শহীদুল্লাহ কায়সার, বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার উমর ফারুক, নাগরিক ঐক্যের ডা. জাহেদ উর রহমান, জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার সদস্যসচিব আ ব ম মোস্তফা আমীন প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, গত ২২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার নাগরিক সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও ড. আবদুল মঈন খান যোগ দিয়েছিলেন।



মন্তব্য