kalerkantho


সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার সমাবেশ

বাজার নৈরাজ্য বন্ধ করে দেশব্যাপী গণবণ্টন ব্যবস্থা চালুর দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ মে, ২০১৮ ২৩:১৩



বাজার নৈরাজ্য বন্ধ করে দেশব্যাপী গণবণ্টন ব্যবস্থা চালুর দাবি

ছবি: কালের কণ্ঠ

বাজার নৈরাজ্য বন্ধ করে দেশব্যাপী টিসিবি’র কার্যক্রম জোরদার ও গণবণ্টন ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছে বামপন্থি দলগুলোর নেতৃবৃন্দ। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি প্রতিরোধে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এই দাবি জানানো হয়।

সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার উদ্যোগে দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয়ভাবে আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমারেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম। বক্তৃতা করেন সিপিবি সহকারী সাধারণ সম্পাদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, বাসদ কেন্দ্রীয় নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আজিজুর রহমান, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের হামিদুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের বাচ্চু ভুইয়া প্রমুখ।

সমাবেশে সিপিবি সাধারণ সম্পাদক বলেন, মুক্তবাজার অর্থনীতির চর্চার নামে সরকার বাজার নৈরাজ্যকে প্রণোদনা দিচ্ছে। মানুষের আয় বেড়েছে এই যুক্তি দিয়ে বাজারে যে লুট চলছে তাকে বৈধতা দেয়া হচ্ছে। মন্ত্রী, আমলা, ব্যবসায়ী সব সিণ্ডিকেটের অংশ। সরকারি দলের মাস্তানরা শহর থেকে গ্রামের হাটে, ঘাটে চাঁদাবাজি করছে। বাম বিকল্প শক্তিই বাজার অর্থনীতির বিকল্প অর্থনীতির দিতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।

বাসদ কেন্দ্রীয় সদস্য বজুলর রশীদ ফিরোজ মুনাফাখোর, সিণ্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, লুটেরা সরকারের কাছে গরিবদের দাবি জানিয়ে কোন লাভ নেই। তিনি দ্রব্যমূল্য উর্ধ্বগতির প্রতিবাদে পাড়া মহল্লায় প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

সমাবেশে অন্যান্য বক্তারা বলেন, প্রতিবছর রোজার আগে মন্ত্রীরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন ব্যবসায়ীরা প্রতিশ্রুতি দেন— দাম বাড়বে না। সরকার সেটা প্রচারও করেন। কিন্তু দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিক হারে বাড়ে এটা একটি নিয়মে পরিণত হয়েছে। আরো বলেন, সরকারের লোক দেখানো উদ্যোগ শহরের কিছু মানুষ সুবিধা পায় ঠিক। খোলা বাজারে কিছু পণ্য বিক্রি হয় কিন্তু তা জেলা শহর পর্যন্ত বিক্রি হয় গ্রামের দরিদ্র মানুষের জন্য সরকার ভাবে না। 
বক্তারা বলেন, একটা দেশের সরকার তার দেশের গ্রামের গরীব মানুষকে মুনাফা লুটেরাদের হাতে সপে দিতে পারে না। কিন্তু সেটা এখানে প্রতিনিয়ত ঘটছে। বক্তারা সরকারি উদ্যোগে সার-বীজের মতো টিসিবির মাধ্যমে পণ্য আমদানি করে গ্রাম ও ইউনিয়ন পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানান। 

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।



মন্তব্য