kalerkantho


'বিএনপির মাধ্যমে আবারও দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২১:৫৯



'বিএনপির মাধ্যমে আবারও দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে'

ফাইল ছবি

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, দেশে এক ব্যক্তির শাসন চলছে, তার ইচ্ছেমতো সব কিছু হচ্ছে। একদল ও এক ব্যক্তির শাসনের অবসানের মাধ্যমে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ‘ফিরিয়ে আনার’ সংগ্রামের জন্য নেতা-কর্মীদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। আজ রবিবার বিকেলে মুক্তিযোদ্ধাদের এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়া বলেন, “দেশে গণতন্ত্র নেই, দেশে নির্বাচন হয় না। আমরা আজকে বলতে চাই, আগামী দিনে যে কর্মসূচি আসবে সেজন্য সকলকে প্রস্তুত হতে হবে। আন্দোলন, সংগ্রাম ও নির্বাচন সবকিছুর জন্য আপনাদের প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, আমরা সফল হব। আবারও বিএনপির মাধ্যমে এদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।

মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, “আপনাদের বয়স হয়েছে, অভিজ্ঞতা আছে। আপনারা দেশ স্বাধীন করেছিলেন। সেই স্বাধীন দেশ আওয়ামী লীগের পরাধীনতার শৃঙ্খলে বন্দি। বাংলাদেশকে তাদের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, এই শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হতে হলে জেগে উঠতে হবে, সবাই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অন্যান্য রাজনৈতিক দল যারা আছেন, তাদের সকলকে আমি আহ্বান জানাবো, আসুন আমরা-আপনারা ভুক্তভোগী। তাই আমরা সকলে মিলে প্রতিবাদ করি, গণতন্ত্রের সংগ্রাম করি, নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করি-এটাই হোক আমাদের শপথ।

আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দিয়ে ‘নিরপেক্ষ’ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে ভোটকেন্দ্রে জনগণকে আসতে দেয় না, তারা ভোটারবিহীন নির্বাচন করে। হাসিনার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। আমাদের দাবি হচ্ছে, আগামী নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু করতে হলে শেখ হাসিনাকে নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগকে রেখে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না।

সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে বলে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা যে বক্তব্য দিয়ে আসছেন সে বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, “সংবিধান তো তারাই লংঘন করেছেন। কারণ ১৫৪ জন বিনা ভোটে এমপি হয়েছেন। আর বাকীরা ৫ শতাংশও ভোট পায় নাই। এই সংসদ কি সংসদ আছে নাকি?

তিনি আরো বলেন, এই সংসদ ভেঙে দিতে হবে। এই সংসদ নির্বাচিত নয়। এদের অধীনে নির্বাচন হতে পারে না, হবে না। সেজন্য নিরপেক্ষ সরকার দরকার। যেহেতু তারাই নির্বাচিত সরকার নয়, তাহলে তারা কী করে দাবি করবে যে, নির্বাচিত সরকার না হলে সংবিধান লংঘন হচ্ছে। ক্ষমতাসীনরাই তো সংবিধান লংঘন করে ফেলেছে।

বিএনপি অশান্তি চায় না দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, আমরা চাই নির্বাচন করতে। আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসতে চাই। আমরা আপনাদের মতো বিনা ভোটে নয়। কাজেই সভা-সমাবেশ করার সুযোগ দিন এবং ঘরে-বাইরে উভয় জায়গায় সুযোগ দিন। আপনারা ভোট চাইছেন আর বিএনপি ঘরে বসেও সভা করতে পারবে না-এটা হতে পারে না। এসব বন্ধ করুন।”

এ সময় শেখ হাসিনার প্রতি ইঙ্গিত করে খালেদা জিয়া বলেন, একদলীয় বাকশালের দিকে দেশকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এখন এক ব্যক্তির শাসন চলছে। এক ব্যক্তি যা বলবেন সেটাই সবকিছু। তার নির্দেশই পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে সব জায়গায়। 

তিনি আরো বলেন, আমি আদালতে যাই, সেখান থেকে আমাদের কর্মীদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। কারাগারগুলো আমাদের কর্মী দিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। তারা (ক্ষমতাসীন) একতরফা সমাবেশ করছে। অন্য কোনো রাজনৈতিক দলকে তারা সমাবেশ করতে দেবে না, ঘরের ভেতরেও দেবে না। এমনকি বিরোধী দল যারা আছে তারা দলের প্রোগ্রাম করতে চাইলে, সেটাও করতে দেবে না। এর নাম কি গণতন্ত্র?”

এ ছাড়াও বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগ প্রসঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেন, “তিনি (বিচারপতি সিনহা) পদত্যাগ করতে চাননি। তাকে জোর করা হয়েছে, এমনভাবে তাকে ফোর্স করা হয়েছে তিনি বাধ্য হয়ে দিয়েছেন। এসবের সাথে সম্পূর্ণ সরকার জড়িত। এরা জুডিশিয়াল ক্যু করেছে। এরা তো অপরাধী। এই জুডিশিয়াল ক্যুর জন্য তাদের বিচার হওয়া উচিৎ।”

মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খানের পরিচালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি অলি আহমেদ, বিএনপির খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, আবদুল্লাহ আল নোমান, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক জয়নুল আবেদীন এবং মুক্তিযোদ্ধা দলের মিজানুর রহমান খান, নজরুল ইসলাম খোকা, আবদুল মালেক খান, সামাদ মোল্লা প্রমুখ।



মন্তব্য