kalerkantho


নির্বাচন কমিশনে আওয়ামী লীগের ১১ দফার বিস্তারিত

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ অক্টোবর, ২০১৭ ২১:৩৪



নির্বাচন কমিশনে আওয়ামী লীগের ১১ দফার বিস্তারিত

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অধিকতর সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সর্বজনগ্রাহ্য করার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ আজ ১১টি প্রস্তাব নির্বাচন কমিশনে (ইসি) উপস্থাপন করেছে।  

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের জানান, আজ ইসির সাথে সংলাপে দলের ২১ সদস্যের প্রতিনিধি অংশ নিয়ে এই ১১টি প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে।

প্রস্তাবগুলো হলো-

এক. ইংরেজি ভাষায় প্রণীত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এবং সীমানা পুনর্নির্ধারণের আইন, ১৯৭৬ বাংলা সংস্করণ প্রণয়নের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সমর্থন থাকবে (আরপিও এর অনুচ্ছেদ ৯৪/এ অনুসরণযোগ্য।  

দুই. নির্বাচনে অবৈধ অর্থ ও পেশীশক্তির ব্যবহার রোধকল্পে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে বর্ণিত নির্বাচন সংক্রান্ত নির্দেশনা এবং বিদ্যমান নির্বাচনী আইন ও বিধিমালা নিরপেক্ষ ও কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করা।  

তিন. প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত এবং নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি বা সংস্থার অপেশাদার ও দায়িত্বহীন আচরণের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।

চার. নির্বাচন পরিচালনায় কেবলমাত্র প্রজাতন্ত্রের দায়িত্বশীল কর্মচারিদের মধ্য থেকে যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার নিয়োগ করা।

পাঁচ. তৃণমূলের কর্মীদের মনোনয়নের ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহী প্রার্থীদের বাছাই করে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী চুড়ান্ত করা।

ছয়. নির্বাচন পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে দেশি বিদেশি পর্যবেক্ষক নিয়োগে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও সতর্কতা অবলম্বন করা। কোনোভাবেই যেন কোনো বিশেষ দল বা গোষ্ঠী বা ব্যক্তির আনুগত্যশীল কোনো ব্যক্তি বা সংস্থাকে এ দায়িত্ব প্রদান করা না হয়।

সাত. নির্বাচনে দিন ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াসহ সকল গণমাধ্যম কর্মীদের নির্বাচনী বিধি-বিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দায়িত্ব পালনের জন্য কার্যকর নির্দেশনা প্রদান।

গণমাধ্যমকর্মীদের উপযুক্ত পরিচয়পত্র প্রদান ও তাদের দায়িত্ব কর্ম এলাকা নির্ধারণ করা।

আট. নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীসহ স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিয়োজিত পোলিং এজেন্টদের তালিকা ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্রসহ (কেন্দ্র ভিত্তিক) নির্বাচন অনুষ্ঠানের ৩ দিন পূর্বে রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা এবং তাদের পরিচয় প্রিজাইডিং কর্মকর্তা কর্তৃক নিশ্চিকরণের পর ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ ও ভোট শেষ না হওয়ার পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রে অবস্থানের অনুমতি প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করা।  

নয়. সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য বর্তমানে বিরাজমান সকল বিধিবিধানের সাথে জনমানুষের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করার স্বার্থে আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রসমুহের ন্যায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ইভিএম’ এর মাধ্যমে ভোটদান প্রবর্তন করা।  

দশ. নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিন এবং নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত নির্বাচন পরবর্তী সময়ের জন্য প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশসহ অন্যান্য আইন-শঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর ন্যস্ত থাকবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে কোন পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের নিয়োগ করা যাবে, ১৮৯৮ সালে প্রণীত ফৌজদারী কার্যবিধি ১২৯-১৩১ ধারায় এবং সেনা বিধিমালায় ‘বেসামরিক বাহিনীর সহায়তা’ (ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার) শিরোনামে সুস্পষ্টভাবে তার উল্লেখ রয়েছে।

এগারো. সীমানা পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি জনসংখ্যার বিশেষ করে আদমশুমারির সাথে সম্পর্কিত। সর্বশেষ ২০১১ সালে আদমশুমারির ওপর ভিত্তি করে (যা ২০১৩ সালে প্রকাশিত) ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনের আগে সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন আদমশুমারী ব্যতীত পুনরায় এই সীমানা পুনর্নির্ধারণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হলে বিভিন্ন আইনগত জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। কমিশন নিশ্চয়ই অবগত রয়েছেন, ২০১৮ সালের শেষ দিকে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এমতাবস্থায় ৩০০ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের মতো একটি জটিল কার্যক্রম সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে যেসব আইনানুগ পদক্ষেপ গৃহীত হয়ে থাকে, তথা খসড়া থেকে আপিল নিষ্পত্তি পর্যন্ত যে মহা কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করতে হয়, তা সময় স্বল্পতার কারণে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে কি না সে বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া আবশ্যক। ইসির সামনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং অনেক স্থানীয় নির্বাচন রয়েছে। সবদিক ভেবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অনুরোধ করছি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নির্বাচন কমিশনারবৃন্দ, ইসি সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিবসহ কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।  


মন্তব্য