kalerkantho


আওয়ামী লীগই শহীদদের রক্তের সঙ্গে ‘বেঈমানি’ করেছে : ফখরুল

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২২:০৯



আওয়ামী লীগই শহীদদের রক্তের সঙ্গে ‘বেঈমানি’ করেছে : ফখরুল

খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করেছেন বলে শেখ হাসিনার বক্তব্যের পাল্টা জবাবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, দেশকে ‘গণতন্ত্রহীন’ রেখে আওয়ামী লীগই শহীদদের রক্তের সঙ্গে ‘বেঈমানি’ করেছে। আজ সোমবার বিকেলে বিএনপির আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
 
আজ সোমবার সকালে এক অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা  নিয়ে প্রশ্ন তোলায় বিএনপি চেয়ারপারসনের কড়া সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
 
তিনি আরো বলেন, এখনকার শাসকগোষ্ঠি বৃহত্তর জনগোষ্ঠির যে আশা-আকাঙ্ক্ষা পদদলিত করে দেশে একটা এক দলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। বন্দুক-অস্ত্র ব্যবহার করে জনগণের ন্যায্য দাবিগুলো তারা দাবিয়ে রাখছে।
 
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, তারা (ক্ষমতাসীনরা) ভাষা আন্দোলনের চেতনার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তের সাথে বেঈমানি করেছে।
 
বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের দমন-পীড়নের চিত্র তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমাদের হাজারের উপর ভাই এই শাসকগোষ্ঠির নির্যাতনে প্রাণ হারিয়েছে, ৫০০ উপরে ভাই-বন্ধু গুম ও নিখোঁজ, হাজার হাজার নেতা-কর্মী পঙ্গু। নিপীড়ন-নির্যাতনে কেউ বাসা-বাড়িতে থাকতে পারে না। আমাদের অনেক কর্মীরা নিজের বাড়িতে থাকতে পারে না, অন্য বাড়িতে থাকে, নেতা-কর্মীরা নিজেদের পাড়ায় থাকতে পারে না, অন্য পাড়ায় গিয়ে থাকে। এই হচ্ছে রাজনৈতিক নিপীড়নের চিত্র। ”
 
সরকার দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে দিচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, “মিথ্যা বলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের একটা কল্পকাহিনী তৈরি করে জনগণকে বোঝানো হচ্ছে যে বাংলাদেশ দ্রুত উন্নতির দিকে এগিয়ে চলেছে, এত প্রবৃদ্ধি না কি কখনও হয়নি। ”
 
এ ছাড়াও নতুন নির্বাচন কমিশন ও আগামী নির্বাচনের বিষয়ে দলের অবস্থানও তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, আজকে যে নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে, তার প্রধান যাকে নিযুক্ত করা হয়েছেন তিনি হচ্ছেন আওয়ামী লীগ দলীয় একজন ব্যক্তি। কেউ তাকে চিনে না।
 
তিনি আরো বলেন, আগামীতে যে নির্বাচন আসবে, সেই নির্বাচন আমরা দেখতে চাই একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। সেটা যে নামেই চিহ্নিত করা হোক না কেন- সহায়ক সরকার বলি বা অন্য কোনো সরকার বলি, তাকে সম্পূর্ণভাবে নিরপেক্ষ হতে হবে।
 
সভায় অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, সাবেক স্পিকার মুহাম্মদ জমিরউদ্দিন সরকার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ, অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন।

মন্তব্য