kalerkantho


নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা পেশ করবে বিএনপি : আমির খসরু

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৯:৩৬



নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা পেশ করবে বিএনপি : আমির খসরু

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, 'বিএনপি গণতন্ত্র, সংবিধান এবং নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি করছে। যে কারণে নির্বাচন কমিশন গঠনে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরিতে ১৩ দফা প্রস্তাব দেওয়া হয়।

এখন নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা চূড়ান্ত করছে বিএনপি। যা অচিরেই প্রস্তাব আকারে জাতির সামনে পেশ করা হবে। ' 

আজ শনিবার দুপুরে খুলনার উমেশচন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে ‘সুষ্ঠু অবাধ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন এবং নির্বাচনকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ খুলনা শাখা এ সভার আয়োজন করে।  

তিনি আরও বলেন, 'দেশে নির্বাচন ব্যবস্থা ভেঙে চুরমার এবং ধংস করা হয়েছে। নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর জনগণ এবং দেশ-বিদেশের কারও আস্থা নেই। এ অবস্থা থেকে উদ্ধারের জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সার্চ কমিটি গঠনসহ রাষ্ট্রপতিকে ১৩ দফা প্রস্তাব দেন। জাতির প্রত্যাশা ছিল রাষ্ট্রপতি সব বিচারে নিরপেক্ষ, যোগ্য এবং জাতীয় মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে একজন সিইসি নিয়োগ দেবেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন গঠনে তার ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন।

জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন না ঘটিয়ে তিনি একজন অযোগ্য ব্যক্তিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দিয়েছেন। যিনি বিতর্কিত ও দলীয়। তার অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান কোনভাবেই সম্ভব নয়। '

সংবিধান পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে আমির খসরু বলেন, 'সংবিধান রচিত হয়েছে জনগণের প্রয়োজনে। জিয়াউর রহমান সংবিধান সংশোধন করে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে না আনলে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব থাকতো না। এখন আওয়ামী লীগ সংবিধানের দোহাই দিয়ে জনগণের ভোট এবং গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে। '

তিনি সংবিধানকে কোনো ‘ধর্মগ্রন্থ’ নয় উল্লেখ করে বলেন, 'দেশ ও জনগণের প্রয়োজনে বার বার সংবিধান সংশোধন বা পরিবর্তন করতে হবে। '

আমির খসরু বলেন, 'বিএনপি গণতন্ত্র, সংবিধান এবং নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির পথে চলবে। কিন্তু এ পথ শেষ হলে তারা চূড়ান্ত আন্দোলনে যাবে। '

তবে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে কোনোভাবেই জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে না বলেও উল্লেখ করেন বিএনপির এই নেতা।

সংগঠনটির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মাজহারুল হান্নানের সভাপতিত্বে আলোচনায় অন্যান্যদের মধ্যে অংশ নেন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেসিসির মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি, জেলা বিএনপির সভাপতি এস এম শফিকুল আলম মনা, সিনিয়র আইনজীবী আবদুল্লাহ হোসেন বাচ্চু, ড্যাবের সভাপতি ডা. রফিকুল হক বাবলু, প্রকৌশলী কাওছার আলী, সাংবাদিক নেতা শেখ দিদারুল আলম, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাজমুস সাদাত, কলেজ শিক্ষক সমিতির অধ্যাপক মনিরুল হক বাবুল।


মন্তব্য