kalerkantho


অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনেই নির্বাচন চান বি চৌধুরী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনেই নির্বাচন চান বি চৌধুরী

দশম সংসদ নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বদলীয় সরকার গঠনের যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন সেই প্রস্তাব আগামী নির্বাচন সামনে রেখে প্রত্যাশা করেছেন বিকল্প ধারার সভাপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। দশম সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২০১৩ সালের অক্টোবরে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য সর্বদলীয় মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সে সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনে থাকা বিএনপি ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। পরে ওই সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন বর্জন করে তা প্রতিহতের জন্য আন্দোলনে নেমেছিল তারা। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ওই ভোটে নির্বাচিত হয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ।  

সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে কবি আবদুল হাই শিকদারের লেখা 'বাংলাদেশের অলি আহাদ' গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বি চৌধুরী। তিনি বলেন, সঠিক নির্বাচন যদি করতে হয় নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে কিছুই করতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত একটি নিরপেক্ষ সরকার না থাকে। সরকারকে নিরপেক্ষ হতে হবে।

যেমন প্রধানমন্ত্রী ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে একটা টেলিফোন করলেন বিরোধী দলের নেত্রীকে। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বললেন, আসুন আমরা সবাই মিলে সুন্দরভাবে নির্বাচনটা করি। নির্বাচনের জন্য আমি অফার দিলাম, আপনি মন্ত্রিসভায় যোগ দেন ফাইভ ফাইভ।

আপনাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংস্থাপন মন্ত্রণালয় দিয়ে দেব। সবচেয়ে বড় দুইটা মন্ত্রণালয় আপনাকে দিয়ে দেব, যেটা নির্বাচনকে স্বাধীন করার জন্য বড় ভূমিকা রাখে।

প্রধানমন্ত্রীর এই প্রস্তাবকে যৌক্তিক অভিহিত করে সাবেক রাষ্ট্রপতি বি চৌধুরী বলেন, সংবিধান যেখানে বলে দিয়েছে, নিরপেক্ষ সরকার থাকবে না। এর চাইতে বড় যৌক্তিক প্রস্তাব কি হতে পারে? মনে হয় বিরোধী দলের নেত্রীর (খালেদা জিয়া) এক সেকেন্ডের বেশি লাগে নি উত্তর দিতে না না না কিছুই হবে না। উনার না বোঝার মতো কথা নয়। হয়ত অন্য কেউ প্ররোচনা দিয়েছে বাংলাদেশ থেকে উদ্ধার করে দেব ম্যাডাম, চিন্তা কইরেন না। জনগণ সব আমাদের পক্ষে আছে।

তবে বদরুদ্দোজা নিজেও প্রধানমন্ত্রীর ওই প্রস্তাবকে অস্পষ্ট আখ্যা দিয়ে এর বিরোধিতা করেছিলেন। সে সময় এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অন্তর্বর্তী সরকারের রূপরেখা অস্পষ্ট এবং ধোঁয়াশাচ্ছন্ন। মনে হয় দেশের মানুষকে এক ধরনের অস্পষ্টতার মধ্যে ফেলে রাখাই এই প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য। আমরা মনে করি, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনই বর্তমান সংকট নিরসনের একমাত্র পথ। নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে হলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনে তা অসম্ভব এবং অবাস্তব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য্ অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও জাহাঙ্গীর আলম মিন্টুর পরিচালনায় সভায় অন্যআদের মধ্যে্ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ভাষা সৈনিক অধ্যাপক আবদুল গফুর, অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, লেখক কবি আবদুল হাই শিকদার, তার বইয়ের প্রকাশক জাকির হোসেন, সাংবাদিক নেতা জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, সৈয়দ আবদাল আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।


মন্তব্য