kalerkantho


আমরা একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি: মতিয়া চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২২:৫০



আমরা একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি: মতিয়া চৌধুরী

কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে বিএনপি-জামায়াত দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিলো। তারা সন্ত্রাস-নৈরাজ্য, জ্বালাও-পোড়াও এমনকি মানুষকে পুড়িয়ে মারতেও দ্বিধা করেননি। যে কারণে  বিএনপি নেত্রী আগুন সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত পেয়েছে। এসব দানবীয় ও বিভীষিকাময় কর্মকাণ্ড প্রতিহত করে শেখ হাসিনা শান্তি ও সমৃদ্ধির বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করছেন। এখন দেশবাসীসহ আমরা একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

আজ বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে এই আলোচনায় আরও অংশ নেন সরকারি দলের বিএম মোজাম্মেল হক, মোহাম্মদ সুবিদ আলী ভূঁইয়া, সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী, রেবেকা মমিন, ছলিম উদ্দিন তরফদার, আয়েশা ফেরদাউস ও জাসদের নাজমুল হক প্রধান।

আলোচনায় অংশ নিয়ে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, বিএনপি সাংবিধানিক গণতন্ত্র চায় না। এ দলটির সৃষ্টি সামরিক ছায়াতলে। বিএনপি নেত্রীর উদ্দেশে দেশকে অস্থিতিশীল করা, গণতন্ত্রকে ব্যহত করা। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একটি বিশেষ শক্তিকে খুশি করতে পারলেই যেন তারা বিএনপিকে সন্দেশের কিচমিচের মতো ক্ষমতায় বসাবে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কথার ফুলঝুড়িতে নয়, কাজে বিশ্বাস করে। শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের প্রত্যাশায় জনগণ শেখ হাসিনার পেছনে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী ড. মুহাম্মদ ইউনুসের সমালোচনা করে বলেন, বিশ্ব ব্যাংক পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগ এনে অর্থায়ন স্থগিত করে। এর পেছনে কলকাঠি নাড়েন ড. মুহাম্মদ ইউনুস। শেখ হাসিনা অবিচল থেকে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করছেন। আদালতে হেরে গ্রামীণ ব্যাংকের এমডির পদ হারালেও পাঁচটি বছর কোন ভাড়া না দিয়ে ওই ব্যাংকের বাড়ি ব্যবহার করেছেন ড. ইউনূস।

রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানিয়ে মতিয়া চৌধুরী আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি, উন্নয়ন ও গণতন্ত্র পাশাপাশি হাতে হাত রেখে এগিয়ে চলছে। দেশবাসীসহ আমরা একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার অঙ্গীকার ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলবে। রাষ্ট্রপতির ভাষণে সেটাই ফুটে উঠেছে। সেই অঙ্গীকারের পথ ধরেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্বসভায় একটি উন্নত-সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠিত হবেই।

জাসদের নাজমুল হক প্রধান বলেন, বর্তমান সরকার উন্নয়ন-সফলতা দিয়ে দেশের চেহারাই যে পাল্টে দিয়েছে। কিন্তু দুঃখ লাগে সাঁওতালদের ওপর যখন হামলা হয়, সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত হয়। বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ করা হলেও আদর্শিক বিভ্রান্তির কারণে পাঠ্যপুস্তকে সাম্প্রদায়িকতা ঢুকানো হচ্ছে কার স্বার্থে? এসব ষড়যন্ত্রের কাছে মাথানত করা হবে আত্মঘাতি। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া এখনও জামায়াতের সঙ্গ ছাড়েনি। তাই বামপন্থীসহ সকল মুক্তিযুদ্ধ পক্ষের শক্তিকে সবকিছু ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনসহ সবক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িক ও তালেবানী শক্তিকে পরাজিত করতেই হবে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক জিয়াউর রহমানকে ‘খুনি’ আখ্যায়িত করে বলেন, এই খুনি জিয়াই অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে ধ্বংস করে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির উত্থান ঘটিয়ে জাতিকে বিভক্ত করেছিলেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যখন দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন আবারও নতুন করে খালেদা জিয়া চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছেন। অগ্নিসন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও পেট্রোল বোমা হামলা করে ব্যর্থ হয়ে এখন বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন।

আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট আন্দোলনের নামে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যত ধ্বংস করতে চেয়েছিল। কিন্তু দেশের জনগণই তাদের রূখে দিয়েছে। পোড়া মাটির বাংলাদেশ আজ সমৃদ্ধির সোপানে নিয়ে গেছেন প্রধানমন্ত্রী। ১৭ কোটি মানুষের খাদ্য নিশ্চিত করেছেন। অন্ধকারাচ্ছন্ন বাংলাদেশকে বিদ্যুত দিয়ে আলোকিত করে তুলেছেন।


মন্তব্য