প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য জিঘাংসার-334048 | রাজনীতি | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বুধবার । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৩ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৫ জিলহজ ১৪৩৭


প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য জিঘাংসার বহিঃপ্রকাশ: রিজভী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ মার্চ, ২০১৬ ১৯:০৬



প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য জিঘাংসার বহিঃপ্রকাশ: রিজভী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নবনির্বাচিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন, তা যেন জিঘাংসার বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে একসংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী এ মন্তব্য করেন। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে বিএনপির প্রার্থী ও দলের নেতা-কর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, নির্বাচনী প্রচারে বাধা এবং প্রাণনাশের হুমকির ঘটনা তুলে ধরতেই এ সংবাদ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

বিএনপির দুই শীর্ষ পদে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া প্রসঙ্গে গত সোমবার ঢাকায় ৭ মার্চের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, বিএনপির নির্বাচিত দুজনই আসামি। একজন এতিমের টাকা চুরি করার মামলার আসামি, আরেকজন তো ২১ আগস্ট মামলার পলাতক আসামি, তার নাম ইন্টারপোলে ওয়ান্টেড তালিকায় আছে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, এটি গর্হিত, অনভিপ্রেত ও সভ্য রাজনীতিচর্চার জন্য চরম লজ্জার। তিনি আরও বলেন, এটা নতুন কিছু নয়। কটূক্তি, পেশি প্রদর্শন আর উগ্রচণ্ডা আওয়ামী সংস্কৃতিরই অংশ।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে ক্ষমতাসীন দলের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হামলায় পিরোজপুরের নাজিরপুর থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শামসুল হক নিহত হয়েছেন। তিনি নাজিরপুরের শেখমাটিয়া ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় হামলার শিকার হন। হামলায় আরও সাত-আটজন হয়েছেন। এর মধ্যে ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

তিনি বলেন, হামলার ঘটনায় চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিষয়ে প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় এলাকায় ভয়াল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তিনি জানান, ৭ মার্চ পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বেতমোর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আবদুর রাজ্জাক হাওলাদার ও দলের কর্মী মো. আবদুর রাজ্জাককে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করেছে। সদর উপজেলার টোনা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী হাওলাদারকে গত মঙ্গলবার দুইটার দিকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। রাতে নির্যাতন করে পুলিশ তাঁর হাত ভেঙে দিয়েছে।

এ ছাড়া পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়ন, রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন, চরমন্তাজ ইউনিয়ন, খুলনার দিঘলিয়া থানার সেনহাটি ইউনিয়ন, ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার এওয়াজপুর ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী ও তাঁর কর্মী-সমর্থকদের মারধর করা হচ্ছে। মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। এ ছাড়া ২০ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন পৌর এলাকায় ব্যাপক তাণ্ডব চালাচ্ছে। বিএনপি প্রার্থীর সমর্থক ও ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রশাসনের লোকজন হুমকি দিচ্ছে।
রিজভী দাবি করেন, নির্বাচন কমিশন সরকারের অপরাধের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। তারা ইউপি নির্বাচনে ছিনতাই করা বিজয়কে বৈধতার সনদ দিচ্ছে।

মন্তব্য