kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


'যেসব কারণে বাল্য বিয়ে হয় তা কমিয়ে আনতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ মার্চ, ২০১৬ ১৭:২৫



'যেসব কারণে বাল্য বিয়ে হয় তা কমিয়ে আনতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে'

মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেছেন, কন্যা শিশুর বিয়ের বয়স আঠারোতেই থাকবে। দারিদ্রতা, শিক্ষার অভাবসহ যেসব কারণে বাল্য বিয়ে হয় তা কমিয়ে আনতে এবং প্রতিরোধে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।


তিনি বলেন, কন্যা শিশুদের যথার্থভাবে শিক্ষিত ও সচেতন করতে পারলে বাল্য বিয়ের হার কমে যাবে। আর্ন্তজাতিক নারী দিবস উপলক্ষে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের উদ্যোগে শিশু একাডেমি অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভা ও কৃতী নারীদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
জাতীয় কন্যা শিশু এডভোকেসি ফোরামের সভাপ্রধান ও সহ সভাপতি শাহীন আক্তার জলির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড.মিজানুর রহমান।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ শিশু একাডেমির পরিচালক মোশাররফ হোসেন,জাতীয় কন্যা শিশু এডভোকেসি ফোরামের সহ সম্পাদক ও জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমী(নায়েম)’র সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ইফফাত আরা নার্গিস।
পরিবার ও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন হলে সমাজে নারীর প্রতি বৈষম্য থাকবে না উল্লেখ করে চুমকি বলেন, দেশে ২ কোটির মতো কন্যাশিশু রয়েছে। এদের পুষ্টি,শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সুনিশ্চিত করলে তারা পরবর্তীতে সুস্থ ও গঠনমূলক জাতি উপহার দিবে এবং দেশের উন্নয়নে অগ্রনী ভূমিকা রাখবে।
নারীর জন্য একটি দিবসই যথেষ্ট নয়, সারাবছর নারী ও শিশুর জন্য উন্নয়নের কাজ করতে এ দিনের কার্যক্রম প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন,নারীকে কেউ পথ দেখিয়ে দিবে না। নারীর উন্নয়নের পথ তাকেই তৈরি করতে হবে। নিজেদেরকে প্রস্তুত করতে হবে শিক্ষা ও সচেতনতার সঙ্গে, তবেই তারা মর্যাদাসম্পন্ন জাতি উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
ড. মিজানুর রহমান বলেন, লৈঙ্গিক বৈষম্য নারীর এগিয়ে যাওয়ার পথকে রুদ্ধ করে দেয়। এ বৈষম্যের কথা কোন ধর্মেই উল্লেখ নেই। এগুলো অমূলক, ভিত্তিহীন ও অবান্তর।
এ ধরনের বৈষম্য কন্যা শিশুকে নানা ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলছে। নারীর অধিকার ও সম্মান যদি সুনিশ্চিত হয় তবে সমাজের অগ্রগতিকে কেউ রুখতে পারবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন,দ্রুত এ বৈষম্যেও অবসান ঘটাতে হবে। নারী পুরুষের কোন বৈষম্য বাংলাদেশে স্থান পেতে পারে না।
শিক্ষাকে বিনিয়োগ অর্থ্যাৎ নারী শিক্ষা ও সকলের জন্য গুনগতমানের শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারলে দেশ এগিয়ে যাবে উল্লেখ করে মিজানুর রহমান বলেন,শিক্ষার সঙ্গে কোন ধরনের দুর্নীতি চলবে না। বছরের শুরুতে ৩৪ কোটি বই দেশের আনাচে কানাচে রাষ্ট্র পৌছে দিচ্ছে। পৃথিবীর কোন দেশে এমন দৃষ্টান্ত আর নেই।
অনুষ্ঠানে বিশেষ পর্বে তিনজন ব্যক্তিত্ব ভাষা সৈনিক অধ্যাপক শরীফা খাতুন,মুক্তিযোদ্ধা শিরিন বানু মিতিল এবং সাফ গেমসে দুটো স্বর্ণপদক বিজয়ী ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব মাহফুজা খাতুন শিলাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
এর আগে সকাল পৌনে ৯ টায় রাজধানীর টিএসসি মোড় থেকে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি পর্যন্ত এক র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয়। পরে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
পরে একই অনুষ্ঠানে ‘নারীর কথা-১১ নামক একটি জার্নাল এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।


মন্তব্য