kalerkantho

শুধুই মেয়েদের

কয়েকটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ আছে কেবল মেয়েরা পড়ালেখা করতে পারে। খোঁজ জানাচ্ছেন মাহতাব হোসেন

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



শুধুই মেয়েদের

কুমুদিনী মেডিক্যাল কলেজ

দেশে মেয়েদের মেডিক্যাল শিক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে টাঙ্গাইলের কুমুদিনী উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ। ৭৫ আসন নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও এমবিবিএসে আসন সংখ্যা ১২০টি।

বিভিন্ন ব্যাচে বর্তমান শিক্ষার্থী ৬৩৩। এর মধ্যে বাংলাদেশি ৪২৫ জন, ভারতের ১২০ জন ও নেপালের ৪০ জন। ইন্টার্ন ডাক্তার রয়েছে ১০৩ জন।

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় প্রায় ১১০ একর জমির মধ্যে এই মেডিক্যাল কলেজ অবস্থিত। ১৯৯৪ সালে মেয়েদের জন্য একটি ট্রাস্ট চালু করেন টাঙ্গাইলের শিক্ষানুরাগী আরপি সাহা। তারই অংশ কুমুদিনী উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ। পড়াশোনার খরচ অন্যান্য বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের তুলনায় কিছুটা কম। গত বছর এমবিবিএস কোর্সে খরচ নেওয়া হয়েছিল সাড়ে ১১ লাখ টাকা। এবারও প্রায় একই খরচ নেওয়া হবে।

ভর্তি হতে চাইলে এক হাজার টাকা দিয়ে ফরম নিতে হবে। ভর্তি ফরম পাওয়া যাবে মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাসে অথবা কুমুদিনী ট্রাস্টের গুলশান কার্যালয়ে। কলেজ অধ্যক্ষ ডা. আবদুল হালিম বলেন, ‘আমাদের মেডিক্যাল কলেজের বিশেষ দিক হচ্ছে ব্যবহারিক ক্লাস। কলেজের সঙ্গে ৭৫০ শয্যার হাসপাতাল রয়েছে। শিক্ষার্থীদের রোগ ও রোগীর সঙ্গে প্রথম থেকেই পরিচয় হওয়ার সুযোগ রয়েছে। যেটাকে বলা হয় ক্লিনিক্যালি লার্নিং। পর্যাপ্ত শিক্ষক, যন্ত্রপাতি ও মডার্ন মেথডোলজির সাহায্যে শিক্ষার্থীদের পড়ানো হয়। রয়েছে ৮০৪ আসনের চারটি হোস্টেল। ছয়তলাবিশিষ্ট ২৪০ আসনের হোস্টেল নির্মাণাধীন।

 

আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ ও আদ্-দ্বীন সখিনা মেডিক্যাল কলেজ

আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ অবস্থিত ঢাকার মগবাজারে। মেডিক্যাল কলেজটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আশিকুর রহমান জানান, সরকারি অনুমোদন নিয়ে ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে মেডিকেল কলেজের শিক্ষাকার্যক্রম শুরু হয়।

মেডিক্যাল কলেজটি আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে কলেজের কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে আসনসংখ্যা ৯৫টি। শুরুতে শিক্ষক ছিলেন ৩০ জন। বর্তমানে শিক্ষক সংখ্যা ১১৭। হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠিত হয় কলেজ প্রতিষ্ঠার ১৩ বছর আগে। তাই মেডিকেল কলেজ পরিচালনার সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ছিল আগে থেকেই। অধ্যাপক ডা. মো. আশিকুর রহমান বলেন, ‘এখানে শিক্ষার্থীদেরকে এমবিবিএস শিক্ষা পাঠ্যক্রমের সঙ্গে সঙ্গে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি করার উপযোগী করে তোলা হয়। তাই শিক্ষার্থীরা পোস্ট গ্রাজুয়েশন কোর্স করার মানসিকতা নিয়ে এমবিবিএস পাশ করে। ’

আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে পরিচালিত আরেকটি মহিলা কলেজ হলো আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিক্যাল কলেজ। এটি যশোরের পুলেরহাটে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১২ সালে। গুণগতমানের দিক থেকে মেয়েদের কলেজ দুটো বেশ এগিয়ে। আধুনিক ক্লাসরুম, পর্যাপ্ত বইসমৃদ্ধ লাইব্রেরিসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাসম্বলিত মেডিক্যাল কলেজ দুটো বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

 

জেড এইচ শিকদার উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ

ঢাকার পশ্চিম ধানমণ্ডিতে অবস্থিত জেড এইচ শিকদার উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ। ১৯৯২ সালে ৪০টি আসন নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে এর আসন সংখ্যা ১০০টি। মেয়েদের এই মেডিক্যাল কলেজে কেবল এমবিবিএস পড়ানো হয়, এখানে বিডিএস নেই।

বিভিন্ন দেশ থেকে এই মেডিক্যাল কলেজে পড়তে আসে। ফলে এর মোট আসনের অর্ধেকই বিদেশি শিক্ষার্থীদের দিয়ে পূরণ হয়ে যায়। এমবিবিএস পড়তে খরচ পড়ে প্রায় ১৫ লাখ টাকা। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য পাঁচটি আসন বরাদ্দ রয়েছে।

কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. সাইজুদ্দিন কবির জানান, জেড এইচ শিকদার মেডিক্যাল কলেজ এরই মধ্যে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য রয়েছে সমৃদ্ধ লাইব্রেরি। রয়েছে পর্যাপ্ত শিক্ষক ও বিদেশি কনসালট্যান্ট। সুপরিসর ক্যাম্পাস ও আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে একটি বড় হোস্টেল। আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাব্যবস্থা।

 

সিলেট উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ

২০০৫ সালে ৫০ আসন নিয়ে যাত্রা শুরু সিলেট উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজের। বর্তমানে এই মেডিক্যাল কলেজের আসন সংখ্যা ১০০। মেডিক্যাল কলেজসংশ্লিষ্ট হাসপাতালটিও বেশ বড়। কলেজের পরিচালক বিশির আহম্মেদ বলেন, ‘আমাদের মেডিক্যাল কলেজ এ অঞ্চলে বেশ নামকরা। আমাদের শিক্ষক সংখ্যা পর্যাপ্ত। কখনো বাইরে থেকে শিক্ষক নিয়ে আসতে হয় না। এ ছাড়া মেডিক্যাল কলেজের হাসপাতালটি অফিশিয়ালি ৫০০ শয্যার হলেও ক্যাপাসিটি ৭২০ শয্যার। ’

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মেডিক্যাল কলেজে পড়াশোনার খরচ সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা।   ভর্তির আবেদন ফরমের জন্য গুনতে হয় এক হাজার টাকা। ২৭৫ আসনের একটি হোস্টেল রয়েছে। একটি ১৫ তলা হোস্টেল নির্মাণাধীন।

গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ থাকে পাঁচটি আসন।

কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘আমাদের মেডিক্যাল কলেজে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাত ১:৪। অর্থাত্ প্রয়োজনের চেয়েও বেশি শিক্ষক আছে। লাইব্রেরি থেকে শুরু করে পড়াশোনার পরিবেশ চমত্কার। ফলাফলও অনেক ভালো। ’

 

মেডিক্যাল কলেজ ফর উইমেন্স

মেডিক্যাল কলেজ ফর উইমেন্সের একটি ক্যাম্পাস উত্তরায়, অপরটি রাজধানীর দক্ষিণখানে। ভর্তিসংক্রান্ত বিষয়ে যোগাযোগ করতে হয় উত্তরার প্লট নম্বর ৪, রোড নম্বর ৯—এই ঠিকানায়। মেয়েদের জন্য ১৯৯২ সালে এই মেডিক্যাল কলেজ যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খান।

অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ডা. প্রফেসর গুলশান আরা। কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে ২৪ ঘণ্টা খোলা লাইব্রেরি। রয়েছে দুটি আবাসিক হোস্টেল।

মেধার ভিত্তিতে সরকারি বিধিমোতাবক শিক্ষার্থীরা এখানে পড়ার সুযোগ পায়। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা এই মেডিক্যাল কলেজকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের ফলাফল তুলনামূলক ভালো। আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য অন্যান্য সুবিধার পাশাপাশি রয়েছে হোস্টেল ও জিমনেশিয়াম।


মন্তব্য