kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মেধাবীদের বেশি সুযোগ দেওয়া দরকার

মেডিক্যাল শিক্ষার নানা বিষয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মোয়াজ্জেম হোসেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হাসান মাহমুদ

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



মেধাবীদের বেশি সুযোগ দেওয়া দরকার

এ সময়ের মেডিক্যাল শিক্ষা নিয়ে বলুন।

দেশে এখন ৬৭টি প্রাইভেট ও ৩০টি পাবলিক মেডিক্যাল কলেজ আছে।

বলব না যে বেসরকারি সব কটিরই স্ট্যান্ডার্ড ভালো বা পর্যাপ্ত শিক্ষক আছেন। ৫০-৬০ শতাংশ কলেজে শিক্ষার মান ভালো। তবে বিভিন্ন সরকারি মেডিক্যাল কলেজে অনেক বিষয়ের শিক্ষকই নেই। আবার ডাক্তার হতে আসা বড় একটা অংশ আসে মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে। উচ্চবিত্ত অনেকের এতে আগ্রহ নেই। সব স্তরের শিক্ষার্থী না এলে এই খাত বিস্তৃত হবে না। অবকাঠামোর উন্নয়ন দরকার। শিক্ষক দরকার। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ পুরনো কয়েকটি মেডিক্যাল কলেজে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন কোর্স চালু আছে। সরকারিসহ কিছু প্রাইভেট সেক্টরেও যদি এটা যোগ করা গেলে লোকবল বাড়বে।

 

উচ্চবিত্তরা মেডিক্যাল শিক্ষায় আগ্রহী নয় কেন?

মেডিক্যাল শিক্ষা সময়সাপেক্ষ। ইন্টার্নশিপসহ একজন শিক্ষার্থীর এমবিবিএস পাস করতে লাগে প্রায় সাড়ে ছয় বছর। দু-তিন বছর পর পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশনে ভর্তি। এমবিবিএস বা বিডিএস দিয়ে ভালো চাকরি জোটে না। এফসিপিএস, এমডি নিতে হয়। এখানেও তিন বছর পর আবার লিখিত পরীক্ষায় পাস করতে হবে। এক চান্সে পাঁচ বছরে কোর্স শেষ করতে পারবে এমন শিক্ষার্থী ১০ শতাংশও নেই। ৯০ শতাংশেরই সাত বছর লাগে। স্পেশালিস্ট হতে বয়স ৩৫ পেরিয়ে যায়। তারপর শুরু ক্যারিয়ার। যারা আর্থিকভাবে সচ্ছল, তারা এই দীর্ঘ পথে যেতে চায় না। দেশের বাইরে গিয়ে বিজনেসের কোর্স করেই কর্মজীবন শুরু করে দেয়। আবার ডিগ্রি নেওয়ার পরই ডাক্তারের কাছে রোগী আসবে—এমন সিস্টেম দেশে নেই। এখানে রেফারেল সিস্টেম নেই।

বেসরকারি মেডিক্যালের কিছু পরিসংখ্যান জানতে চাই।

বেসরকারি কলেজ থেকে এই মুহূর্তে বছরে পাঁচ হাজারের মতো ডাক্তার বের হয়ে আসছে। এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ২০২১ সাল নাগাদ বছরে ছয় হাজার ৭০০ ডাক্তার ও আড়াই হাজার ডেন্টাল সার্জন তৈরি করতে হবে। সেই পর্যায়ে যেতে পারিনি আমরা। ঘাটতি রয়েছে এক হাজার ৭০০-র মতো। এ কারণে মেধাবী ছেলেমেয়েদের বেশি সুযোগ দেওয়া দরকার। কোয়ালিটিও ধরে রাখতে হবে।

 

অর্থনৈতিক অবদান কেমন?

দেশের প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজে প্রায় ৬০ হাজার কর্মসংস্থান হয়েছে। ৯ হাজার ৬৩৫ জন ডাক্তার, প্রফেসর কর্মরত। নার্স ১৩ হাজার ৭২০ জন। স্টাফ, রিসেপশন, মার্কেটিং, আয়া, ওয়ার্ডবয়সহ ৩৩ হাজার ২৪০ জন। সব মিলিয়ে ৬০ হাজারের কাছাকাছি। ৩৫ হাজারের মতো রোগী প্রতিদিন আউটডোরে চিকিৎসা নিচ্ছে। ইনডোরে বেসরকারি পর্যায়ে ২১ হাজার ২৫০টি শয্যা আছে। এর ১০ শতাংশ বেড ফ্রি। ১৪ হাজার ৫০০ থেকে ৭০০ রোগী গড়ে ভর্তি হচ্ছে। সমাজে প্রাইভেট মেডিক্যাল ও ডেন্টালের এটা বিরাট অবদান।

 

অবকাঠামোগত উন্নয়নে কী করার আছে?

সরকারের কন্ট্রিবিউশন প্রাইভেট সেক্টরে আসছে। তবে অনেক বিদেশি দাতা সংস্থা রয়েছে, যেমন ডাব্লিউএইচও, ইউনিসেফ, ইউনেসকো, বিশ্বব্যাংক—তারা স্বল্প সুদে বেসরকারি মেডিক্যাল প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাহায্য করতে পারে। আবার কিছু মালিক, যাঁরা প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ তৈরি করছেন, তাঁদের পরিকল্পনার অভাবে অবকাঠামোর উন্নয়ন করতে পারছেন না। সে ক্ষেত্রে প্রাইভেট মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে তাঁদের সহযোগিতা করি আমরা। ই-লার্নিংয়ের ব্যবস্থা করতে পারি। একজন ভালো শিক্ষকের লেকচার অন্য প্রতিষ্ঠানে দেখানো যেতে পারে।

 

ইস্ট ওয়েস্ট মেডিক্যাল কলেজের লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে?

২০০৩ সালে ইস্ট ওয়েস্ট মেডিক্যাল কলেজ চালু হয়। সাত ব্যাচ ডাক্তার হয়ে বেরিয়েছে। উদ্দেশ্য ছিল কোয়ালিটি ডাক্তার তৈরি করা। আমি ভেবেছি, এখানকার একজন ভবিষ্যতে যেন আমার চিকিৎসক হতে পারে। আমি যদি আমার ডাক্তারের ওপর ভরসা আনতে না পারি, তাহলে উদ্দেশ্য সফল হবে কিভাবে?


মন্তব্য