kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘আইন করে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া যথেষ্ট নয়’

বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের পড়াশোনা ও সরকারের করণীয় নিয়ে ক্যাম্পাসের সঙ্গে কথা বলেছেন নর্দান মেডিক্যাল কলেজের চেয়ারম্যান ড. আবু ইউসুফ মো. আবদুল্লাহ

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



‘আইন করে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া যথেষ্ট নয়’

দেশে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে শিক্ষার পরিবেশ কেমন?

একটা সময় বাংলাদেশে শুধু সরকারি মেডিক্যাল কলেজের অস্তিত্ব ছিল। একপর্যায়ে সরকার উপলব্ধি করল, প্রাইভেট সেক্টরকে এগিয়ে আসতে হবে।

সারা বিশ্বে এর একটা প্রতিফলন আছে। সরকারের সিদ্ধান্তের ফলে আমরা জনসংখ্যা ও ছাত্রছাত্রীর বিশাল অংশকে চিকিৎসাশাস্ত্রে শিক্ষিত করার চ্যালেঞ্জ নিতে পারছি। প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজগুলো ভালোও করছে। তার পরও অনেকে ভাবে, মেডিক্যাল কলেজের সংখ্যা চাহিদার তুলনায় কম। এখনো অনেক শিক্ষার্থী ভালো রেজাল্ট করেও মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হতে পারছে না। তবে বেসরকারি পর্যায়ে মেডিক্যাল শিক্ষাব্যবস্থা চালু থাকায় আগের চেয়ে বেশি শিক্ষার্থী এ বিষয়ে পড়তে পারছে।

বেশির ভাগ বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতাল রয়েছে। এই হিসেবে জাতীয় অর্থনীতিতে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোর অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ ক্ষেত্রে দেশ এখনো স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। সরকারের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। একটা আইন করে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়াটা যথেষ্ট নয়। সরকার বলছে, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস লাগবে। ঠিক আছে। কিন্তু শুধু কি স্থায়ী ক্যাম্পাসই যথেষ্ট? শিক্ষার মান, শিক্ষকের স্বল্পতা, অবকাঠামোগত বিষয়ের সমাধান একা একটি প্রতিষ্ঠান করতে পারে না। এ ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রসঙ্গে বলি, সরকার কি পারত না ঢাকার আশপাশে পড়ে থাকা পতিত জমিগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দিতে? উত্তরা-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন বেল্টে অনেক জমি আছে। যদি ৫০টা বিশ্ববিদ্যালয়কে বলত যে তোমাদের পাঁচ বিঘা করে জমি দিচ্ছি, সরকারি রেটে কিনে নাও। তাহলে স্থায়ী ক্যাম্পাস সমস্যার সমাধান হতোই।

 

কলেজ পরিচালনায় কী ধরনের

সমস্যা হয়?

মেডিক্যাল কলেজ পরিচালনা বেশ জটিল। অভিজ্ঞ শিক্ষকের অভাব বড় সমস্যা। তবে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির চেষ্টা করছেন সবাই। মেডিক্যাল কলেজের সঙ্গে একটি হাসপাতাল থাকতে হয়। এতে খরচ বাড়ে।

সাধারণ হাসপাতাল থেকে আয় হলেও শিক্ষার্থীদের স্বার্থে মেডিক্যাল কলেজ পরিচালিত হাসপাতাল থেকে আয় করা সম্ভব নয়। আরেক বড় সীমাবদ্ধতা হলো, বছরে আমরা মাত্র ৭০ থেকে ৭৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে পারি। এত কম শিক্ষার্থী নিয়ে এত বড় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কষ্টসাধ্য।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিএমডিসির চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষক, ক্লাসরুম, ইকুইপমেন্টসহ আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষার্থী বেতন বা হাসপাতালের আয় দিয়ে তা কখনোই সম্ভব নয়। এ ধরনের প্রতিষ্ঠান চালাতে বড় বড় গ্রুপের দরকার, যারা মানুষের কল্যাণে, দেশের উন্নয়নে কিছু করতে চায়, রোগীর সেবা তথা চিকিৎসা দিতে চায়।

 

নর্দান মেডিক্যাল কলেজ কতটা এগিয়েছে বলে মনে করেন?

নর্দান ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ গুণগত মানের চিকিৎসা শিক্ষায় অনন্য প্রতিষ্ঠান। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এটি। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলই নয়, নর্দান মেডিক্যাল ভালো ডাক্তার তৈরির সঙ্গে সঙ্গে আলোকিত মানুষ তৈরির প্রচেষ্টাও অব্যাহত রেখেছে। আমার লক্ষ্যও ছিল তা-ই।  

 

আগামী দিনের ডাক্তারদের জন্য পরামর্শ?

প্রথমেই বলব, শিক্ষার্থীকে বুঝতে হবে এটা তার ভালো লাগবে কি না। তার সেবার মনোভাব আছে কি না।

প্যাশন আছে কি না। বড়লোক হওয়ার প্রফেশন চিকিৎসাসেবা নয়। একজন ডাক্তারকে সব সময় নিবেদিতপ্রাণ হতে হয়। পাশাপাশি বেসরকারি মেডিক্যালে পড়াশোনা ব্যয়সাপেক্ষ। বিষয়টিও মাথায় রাখা উচিত। মাঝপথে এসে থেমে যাওয়া চলে না। প্রস্তুতি ও মানসিকতা নিয়ে লক্ষ্য ঠিক করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

 

সাক্ষাৎকার : হাসান মাহমু


মন্তব্য