kalerkantho


‘সেবার মানসিকতা থাকতে হবে’

আশুলিয়ার প্রায় ১২ বিঘা জমির ওপর নাইটিংগেল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। স্বল্প খরচে সেবা ও ডাক্তারি পড়ানোর স্বপ্ন নিয়ে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন আসাদুজ্জামান চৌধুরী

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



‘সেবার মানসিকতা থাকতে হবে’

শুরুতেই ডাক্তারি পড়া ও চিকিৎসায় বেসরকারি মেডিক্যালগুলোর অবদান সম্পর্কে জানতে চাই।

১৫ বছর আগেও রাজধানী কিংবা অন্য জেলা শহরে এত হাসপাতাল ছিল না। এখন অনেক বড় হাসপাতাল আছে। আগে দেখা যেত, রোগীদের একমাত্র গন্তব্য ছিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ বা সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল। বেসরকারি কলেজ ও হাসপাতাল বাড়ায় সেবাদাতা বেড়েছে, বেড়েছে হাসপাতালও।

 

বেসরকারি মেডিক্যালে পড়াশোনা নিয়ে বলুন।

দেশে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের সংখ্যা এখন অনেক হয়েছে। তবে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ মানেই যা খুশি পড়া নয়। এমনি এমনি সনদ পাবে না কেউ। প্রতিষ্ঠান বেসরকারি হতে পারে, কিন্তু পড়াশোনাটা সরকার ও বিএমডিসির নির্ধারিত মান অনুযায়ী হয়। যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত, সেই বিশ্ববিদ্যালয় কিন্তু পরীক্ষার মান নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ। আবার ঢাকার একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন অব দ্য ফ্যাকাল্টি অব মেডিসিন এসব তদারকি করে। প্রশ্ন আসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপালও সকাল সাড়ে ৭টায় গিয়ে ওখান থেকে প্রশ্ন আনেন এবং ১০টার সময় পরীক্ষা শুরু করেন। ওই প্রশ্নই ঢাকা ও সলিমুল্লাহ মেডিক্যালে যায়। একই প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়ে সবাই পাস করে। মৌখিক পরীক্ষাও হয়।

 

যে স্বপ্ন নিয়ে নাইটিংগেল মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তা কি সফল হয়েছে?

বিশ্বখ্যাত সেবিকা ছিলেন নাইটিংগেল। তাঁর নামেই মেডিক্যাল কলেজটির নাম রেখেছি। উদ্দেশ্য ছিল মানবসেবা। পরিশ্রম করে যা উপার্জন করেছি, তা দিয়ে চিন্তা করেছি একটি হাসপাতাল করব। প্রথমে হাসপাতাল করেছি, পরে মেডিক্যাল কলেজ। মেডিক্যাল শিক্ষায় যেন অবদান রাখতে পারি সে জন্যই এ কাজ। আমরা এখন বাংলাদেশের প্রথম পাঁচটি বড় মেডিক্যাল কলেজের একটি। আশুলিয়ায় ১২ বিঘা জমির ওপর এই কলেজ।

আরেকটি ব্যাপার, অনেক চিন্তা করেছি যে আশুলিয়ায় হাসপাতাল করলে তা কিভাবে মানুষের উপকারে আসবে। ঢাকায় অনেক হাসপাতাল। এখানে মানুষ চিকিৎসা পায় ভালো। আশুলিয়ায় গার্মেন্টের বহু কর্মী কাজ করে। তাদের কথা ভেবেই এখানে হাসপাতাল করেছিলাম। আমার মেডিক্যাল কলেজে দুজন সার্জারির প্রফেসর আছেন। একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, অন্যজন সরকারি মেডিক্যাল থেকে সদ্য অবসরে যাওয়া প্রফেসর। তাঁরা আশুলিয়া গিয়ে ক্লাস নিচ্ছেন এবং রোগী দেখছেন। কলেজ না হলে হয়তো তাঁরা ওখানে যেতেন না।  

 

কলেজটির কোনো বিশেষত্ব?

আমাদের মেডিক্যাল কলেজে ১২টি বিষয়। সব বিষয়ের জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষক আছেন। সার্জারি, মেডিসিন, গাইনি, আই, ইএনটি প্রভৃতিতে যে প্রফেসররা আছেন, তাঁরা উঁচুমানের। ছাত্রছাত্রীরা অনেক সুবিধা পায়। ক্যাম্পাস অনেক বড়। ভেতরে ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন খেলার মাঠও আছে। ছাত্রছাত্রীদের আলাদা থাকার সুব্যবস্থা আছে। কলেজটি মেইন রোড থেকে ১৫০০ ফুট ভেতরে। তাই ধুলা, যানজট ও শব্দদূষণ নেই। রোগীরাও সুন্দর পরিবেশে চিকিৎসা নিতে পারেন।

 

খরচ কেমন?

বাংলাদেশে প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজের জন্য সরকার একটা নির্দিষ্ট পরিমাণে টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। আমরা সেই টাকা থেকে কম ফি নিই, যাতে সাধারণরা খরচ চালাতে পারে। এমনিতে ভারতের চেয়ে আমাদের এখানে ডাক্তারি পড়ার খরচ বলা যায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ। প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশনা দিয়েছিলেন, বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে যেন তুলনামূলক কম টাকায় পড়ানো হয়। আমরা ওই নির্দেশনা পালন করার চেষ্টা করছি।    

 

ভবিষ্যতের ডাক্তারদের জন্য কোনো পরামর্শ?

আমি ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসক নই। অন্য পেশার মানুষ। কিন্তু চিকিৎসকদের মন থেকে ভালোবাসি। আমি যখন আমার মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলি, তখন আমার খুব ভালো লাগে এই ভেবে যে তারা কিছুদিন পর ডাক্তার হয়ে বের হবে। জনগণের সেবা করবে। আমি মনে করি, এই প্রফেশনকে যারা ভালোবাসবে তারাই এখানে আসবে। এই প্রফেশন কিন্তু আরামের নয়। অনেক বছর পড়তে হয়।

এমবিবিএসের পরও উচ্চতর ডিগ্রির জন্য আরও অনেক পড়তে হয়। অনেক বছর লেগে যায়। তার পরের জীবনটা শুধু হেসেখেলে কাটালে হবে না। সেবার মানসিকতা থাকতে হবে।

 

  সাক্ষাৎকার : হাসান মাহমুদ


মন্তব্য