kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘সরকারিতে চান্স না পেলে মন খারাপ করবে না’

আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশন ২০০৯ সালে ঢাকার মগবাজারে প্রতিষ্ঠা করে আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ। পরে আরও তিনটি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন করে—পুলেরহাট যশোরে আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিক্যাল কলেজ, ঢাকার কেরাণীগঞ্জে বসুন্ধরা আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ ও বয়রা খুলনায় আদ্-দ্বীন আকিজ মেডিক্যাল কলেজ। নানা বিষয়ে কথা বলেছেন আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আশিকুর রহমান

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



‘সরকারিতে চান্স না পেলে মন খারাপ করবে না’

কখন থেকে কলেজের কার্যক্রম শুরু হয়?

 

আমাদের মেডিক্যাল কলেজটির কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে। শুরু থেকেই আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক এবং নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দীন।

ব্যারিস্টার রফিক-উল হক আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং ডাঃ শেখ মহিউদ্দীন আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

 

প্রথমে কত জন শিক্ষার্থী ছিল?

সরকারি নিয়ম অনুসরণ করে মেডিক্যাল কলেজের কার্যক্রম চালু করা হয়। বেসরকারি সব মেডিক্যাল কলেজ শুরুতে ৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে কলেজের কার্যক্রম চালু করে। আমরাও ৫০ জন ছাত্রী নিয়ে শুরু করেছি। ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বরে হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা হয়। মেডিক্যাল কলেজটি চালু হয় ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে। সুতরাং, হাসপাতালের ডাক্তারসহ অন্য সব ফ্যাসিলিটি আমাদের ছিল। বর্তমানে এ মেডিকেল কলেজ ১১৭ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন।

 

কোন ব্যাচে কতজন শিক্ষার্থী?

প্রথম বছর ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষে ৪৫ জন, দ্বিতীয় বছর ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষে ৫১ জন, তৃতীয় বছর ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে ৬৫ জন, চতুর্থ ও পঞ্চম বছর ২০১১-১২ ও ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে ৭৫ জন করে, ষষ্ঠ ও সপ্তম বছর ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে ৯০ জন করে এবং অষ্টম বছর ২০১৫-১৬ শিক্ষা বর্ষে ৯৫ জন ভর্তি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৫৮৬ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে এ কলেজটিতে, ৩টি ব্যাচে ১২৩ জন পাশ করেছে। যারা প্রায় সবাই আদ্-দ্বীন হাসপাতালসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে কর্মরত রয়েছে।

 

খরচ কেমন?

বেসরকারি কলেজ চালুর প্রথম দিকে ভর্তি ফির ব্যাপারে সরকারের কোন নিয়ন্ত্রণ ছিল না। কলেজগুলো নিজেদের ইচ্ছামতো ভর্তি ফি নির্ধারণ করেছে। বর্তমানে সরকার ভর্তি ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে। কলেজ শুরুর প্রথম দিকে ৬,৫০,০০০ টাকা ভর্তি ফি নিয়েছিলাম। বর্তমানে সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী ১৫ লাখ ১০ হাজার টাকা সর্বোচ্চ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন সব মেডিক্যাল কলেজের একই ফি। ইন্টার্নি ফিসহ এই টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

গরিব মেধাবী ও মুক্তিযোদ্ধা কোটার জন্য কী সুবিধা আছে?

সরকারি নীতিমালাতেই আছে, ৫ শতাংশ গরিব মেধাবী শিক্ষার্থী নিতে হবে। আর মুক্তিযোদ্ধার কোটার জন্য ২ শতাংশ বরাদ্দ থাকে। গরিব-মেধাবীদের জন্য আলাদা ফরম বিক্রি করতে হয়।

 

আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজের কোনো বিশেষত্ব?

প্রথমে বলব, এটা একটি মহিলা মেডিক্যাল কলেজ। আর মেডিক্যাল কলেজের একটা গুরুত্বপূর্ণ হলো হাসপাতাল। প্রাকটিক্যাল প্রশিক্ষণের জন্য হাসপাতালে পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকলে ডাক্তার হওয়ার জন্য জ্ঞান অর্জনে বাধাগ্রস্ত হয়। আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসা খরচ খুবই কম এবং সেবার মানও উন্নত। এখানে প্রতিদিন বহির্বিভাগে ১৫০০-১৮০০ জন রোগী সেবা গ্রহণ করে এবং দৈনিক ১৫০ জন রোগী ভর্তি হয় এবং বিভিন্ন রোগের অপারেশন হয় ৬০-৭০ জন রুগীর। ব্যবহারিক ক্লাসের সুযোগ এখানে অবারিত। তাছাড়া আমরা ক্লাসগুলো স্পেশালভাবে নিয়ে থাকি। আমাদের কলেজে ক্লাস চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। মেয়েদের কলেজ হিসেবে সিকিউরিটি খুব বেশি। কার্ড পাঞ্চ ছাড়া কেউ ক্লাসে ঢুকতে পারে না। আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের শৃঙ্খলার স্বার্থে ইয়ারভিত্তিক নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরিধান করা বাধ্যতামূলক। পড়াশোনার স্বার্থে কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধ। প্রয়োজনে অফিস থেকে টেলিফোন করার সুযোগ রয়েছে। প্রতিদিন সকালে অ্যাসেম্বলির ব্যবস্থা রয়েছে, যা বাংলাদেশের কোনো মেডিকেল কলেজে প্রথম।

 

চিকিৎসা ক্ষেত্রে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের অবদান কতটা?

সরকারি মেডিক্যালের তুলনায় বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ অনেক বেশি এবং শিক্ষার্থীও অনেক বেশি। তাই বেসরকারি মেডিক্যাল থেকে ডাক্তারও বের হয় বেশি। তাই বাংলাদেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের ভূমিকা অনেক বেশি।

 

শিক্ষার্থী বাড়ছে, কাজের সুযোগ

কতটা বাড়ছে?

বাংলাদেশে ২৮৯৪ জন জনসংখ্যার বিপরীতে ডাক্তার রয়েছে ১ জন। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে ৬০০ জন জনসংখ্যার জন্য ১ জন ডাক্তার থাকতে হবে। এ কারণে বাংলাদেশে ডাক্তারের চরম সংকট রয়েছে। জনসংখ্যার তুলনায় ডাক্তার অনেক কম। দেশের জনগণের সেবা দেওয়ার জন্য এখনো অনেক ডাক্তার প্রয়োজন। আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশন পরিচালিত সারা বাংলাদেশে ৮টি হাসপাতাল থাকায় এখানেও কাজের পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে।

 

এফসিপিএসে কোনো শিক্ষার্থী আছেন কি?

এমবিবিএস পাস করার পরে এফসিপিএস কোর্সটা করতে হয়। আমাদের কলেজের বর্তমানে দুজন শিক্ষার্থী এফসিপিএস-এর জন্য অধ্যয়ন করছেন। তারা পার্ট-১ পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছেন। দ্বিতীয় পার্টের জন্য আমাদের হাসপাতালে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। স্নাতকোত্তর ডিগ্রির জন্য এখানে প্রভাষকদের বিশেষ ছুটি দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে ১১ জন ছুটিতে আছেন।

 

ভর্তীচ্ছুদের জন্য পরামর্শ?

সরকারি মেডিক্যাল কলেজে চান্স না পেলে মন খারাপ করার কিছু নেই। সরকারি কলেজে তেমন টাকা লাগে না। আর বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের ক্ষেত্রে শুধু বেশি টাকা লাগে। সরকারি-বেসরকারির মধ্যে মৌলিক পার্থক্যটা এখানেই। তবে আদ্-দ্বীন পরিচালিত মেডিকেল কলেজসমূহ অন্যান্য মেডিকেল কলেজের তুলনায় কম খরচে ভর্তির সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশন পরিচালিত মেডিকেল কলেজগুলোতে ৮৪৫ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।

বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে কম খরচে বা নামমাত্র খরচে বসুন্ধরা আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজে লেখাপড়ার সুযোগ রয়েছে। গত ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে মাত্র চার লাখ পঁচাত্তর হাজার টাকা ভর্তি ফি নেওয়া হয়েছে।

 

সাক্ষাৎকার : মো. সাইফুল ইসলাম


মন্তব্য