kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

সফল বিদেশি ছাত্র

ফিরে গেলেও মনে পড়ে

অবিনাশ রায় রংপুর কমিউনিটি মেডিক্যাল কলেজে পড়েছেন। তাঁর গল্প শোনাচ্ছেন হিমেল হাসান

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ফিরে গেলেও মনে পড়ে

বছরখানেক হলো নেপালে ফিরে গেছেন অবিনাশ রায়। সেখানে তিনি জানক্যপুর অঞ্চলের মোহতারি জেলায় ‘স্মাইল ডেন্টাল কেয়ার’ নামের বেসরকারি একটি ডেন্টাল হাসপাতালের চিকিৎসক।

পাশাপাশি তাঁর প্রাইভেট প্র্যাকটিসের জন্য চেম্বারও আছে। তাঁর আজকের যে অবস্থান, তার পেছনে আছে বাংলাদেশ। এ দেশে তিনি রংপুর কমিউনিটি হাসপাতালে ডেন্টাল ইউনিটে পড়তেন। এ দেশে লেখাপড়া করলে হাতে-কলমে শেখা যাবে, খরচও কম বলে ভর্তি হয়েছিলেন। প্রথম দিকে বাংলা কথা বুঝতে পারতেন না। পরে ভালোই শিখে নিয়েছেন। এখানকার আতিথেয়তাও তাঁকে মুগ্ধ করেছে। ফিরে গিয়েও তা ভোলেননি। তাঁর মনে আছে—ঈদের সময় শিক্ষক-বন্ধুরা বাসায় দাওয়াত করে খাওয়াতেন। কলেজে পড়ার সময় নানা ধরনের সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে জড়িয়ে ছিলেন তিনি। যেকোনো অনুষ্ঠানে নাচের কোরিওগ্রাফি করতেন। তাই রংপুর কমিউনিটি হাসপাতালের সব ছাত্র-শিক্ষক তাঁকে চিনতেন। গেলবার নেপালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর তিনি তাঁদের কলেজে ‘নেপাল-রংপুর সোসাইটি’ গড়ে তুলেছেন। তাঁরা পুরো রংপুর শহরে শোভাযাত্রা করেছেন, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলেছেন। সেগুলো ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পাঠানো হয়েছে। সেই দিনগুলোর কথা কোনো দিনও ভুলবেন না অবিনাশ। তিনি আরো বললেন, ‘বাংলাদেশে হাতে-কলমে লেখাপড়া না করতে পারলে আমি এ অবস্থায় কোনো দিনও আসতে পারতাম না। এখনো তোমাদের দেশের রোগীরা আমাকে ফেসবুকে নক করে, আমার খোঁজ নেয়। তোমাদের দেশের লোকেরা অনেক উদার আর আমরা আত্মকেন্দ্রিক। ’ এসব বলতে বলতে তাঁর দেশে ডাক্তারির শুরুর দিকের একটি ঘটনা বলে হেসে ফেললেন তিনি, ‘নেপালে আসার পরও হঠাৎ হঠাৎ বাংলায় টুকটাক কথা বলে ফেলতাম। তখন রোগীরা অবাক হয়ে যেত। আমাকে বলতে হতো—দীর্ঘদিন বাংলাদেশে থাকার ফলে এ অবস্থা হয়েছে। ’ এখনো তাঁর সঙ্গে বাংলাদেশি বন্ধুদের যোগাযোগ আছে। ফোনে-ফেসবুকে কথা হয়। তিনি মাঝেমধ্যে বেড়াতেও আসেন।


মন্তব্য