kalerkantho

লেখাপড়ার বাইরে

সেবার হাত বাড়িয়ে

লেখাপড়ার পাশাপাশি সেবামূলক নানা কাজ করছেন তাঁরা। কখনো গ্রামে যান, কখনো শহরের কোনো স্কুলে বা কখনো জাতীয় দুর্যোগে ফ্রি চিকিৎসা ও ওষুধ দেন। এসব নিয়ে লিখেছেন হিমেল হাসান

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



সেবার হাত বাড়িয়ে

সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ক্লাব ইব্রাহিম মেমোরিয়াল মেডিক্যাল কলেজের [বারডেম] ছাত্রছাত্রীদের একটি ক্লাব। এই ক্লাব নিয়ে বলতে গিয়ে ক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল বললেন, ‘আমাদের ক্লাব প্রতিবছর শীতকালে বিভিন্ন অঞ্চলে শীতবস্ত্র বিতরণ করে, যেকোনো জাতীয় দুর্যোগে চিকিৎসাসেবা দেয়।

সে জন্য এখানে যাঁরা সদস্য হিসেবে আছেন, তাঁদের প্রত্যেকেরই সিপিআর (কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন) ও প্রাথমিক চিকিৎসাদানে প্রশিক্ষণ আছে। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসে পড়ার পর সবার আগে সেখানে পৌঁছে আমাদের বিশেষ টিম। তাঁদের সঙ্গে ছিল টর্চলাইট, শুকনো খাবার, পানি, হাতুড়ি ও প্রাথমিক চিকিৎসা উপকরণ। তাঁরা প্রায় ১৫ দিন কাজ করেছেন। ভবনের নিচ থেকে আহত অনেককে উদ্ধারও করেছেন। এ ছাড়া নেপালের সর্বশেষ ভূমিকম্পের পর একটি দল সেখানে গিয়ে ১৫ দিন ফ্রি হেলথ ক্যাম্প পরিচালনা করেছি। গেল বছর কাশ্মীরে বন্যা হওয়ার পর এ দেশ থেকে ৫০ হাজার টাকার ওষুধ নিয়ে সেখানে গেছি। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় সেখানে থাকতে পারিনি। ওষুধ পৌঁছে দিয়ে ফিরে এসেছি।

এমন আরেকটি সংগঠন হলো এশিয়ান মেডিক্যাল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন [এএমএসএ] বাংলাদেশ। এই সংগঠনের সমন্বয়ক ও রংপুর কমিউনিটি মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক ডা. রথীন্দ্রনাথ মণ্ডল বললেন, ‘কিভাবে ক্লিনিকে কাজ করতে হয়, রোগীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হয় ইত্যাদি কার্যক্রমের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচিত করাতে আমরা নিয়মিত কর্মশালার আয়োজন করি। ’ তিনি আরো জানালেন, ‘এএমএসএ বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে কুইজ-বিতর্ক প্রতিযোগিতা, কর্মশালার আয়োজন করে। ’ আর এএমএসএ’র মার্কেটিং বিভাগের নির্বাহী পরিচালক এস এম তারেক রহমান বললেন, ‘আমরা বিভিন্ন জায়গায় ফ্রি হেলথ ক্যাম্প করি। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে নড়াইলের ৪০টি ইউনিয়নের ৫৫০ জন রোগীকে বিনা পয়সায় চিকিৎসাসেবা দিয়েছি। দুই দিনের এ স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্পে প্রত্যন্ত এলাকা থেকে এমনও রোগী এসেছেন, যিনি তাঁর রোগ সম্পর্কে মোটেও সচেতন নন। ডায়াবেটিসের কারণে তাঁর চোখের কোঠর দেবে গেছে, অথচ তিনি জানেনও না। এমন অসংখ্য চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত রোগী এসেছেন। ’ সংগঠনের নির্বাহী কমিটির সদস্য তামান্না তানজিন বললেন, ‘ঢাকার মোহাম্মদপুরের সুনিবিড় আবাসিক এলাকার একটি স্কুলে আমাদের নিয়মিত হেলথ ক্যাম্পে সেখানে স্থানীয় যৌনকর্মীদের শিশুদের নিয়মিতভাবে চেকআপ, প্রাথমিক রোগবালাইয়ের চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের স্বাস্থ্যসচেতনও করা হয়। ’ বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের আরেকটি সংগঠন মেডিসিন ক্লাব রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা, বিনা মূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ভ্যাকসিনেশন প্রদান করে। সংগঠনের ডেল্টা মেডিক্যাল কলেজ ইউনিটের সভাপতি সাজ্জাদ শাহরিয়ার বললেন, ‘ঢাকার পাশাপাশি প্রত্যন্ত গ্রামেও আমরা কার্যক্রম পরিচালনা করি। এমন গরিব রোগীরা আমাদের সেবা নেন, যাঁদের কুকুরে কামড়ানোর পর ভ্যাকসিন কেনার টাকা থাকে না বা হেপাটাইটিস বির ভ্যাকসিনের কোর্স করার টাকাও নেই। তাঁদের দাতা বা ওষুধ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সৌজন্য হিসেবে পাওয়া বা আমাদের সাংস্কৃতিক কার্যক্রমগুলোতে স্পন্সরদের কাছ থেকে পাওয়া টাকা থেকে কেনা ভ্যাকসিন দিই। ’


মন্তব্য